পূর্ব লন্ডনের বাসিন্দা শামিমা বেগমকে ইরাকের কুখ্যাত কারাগারে পাঠানো হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। তাদের মতে, সেখানে তাকে নির্যাতন এমনকি মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
২০১৯ সাল থেকে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার আল-রোজ আটক শিবিরে বন্দি রয়েছেন শামিমা বেগম। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে হাজার হাজার আইএস বন্দিকে সিরিয়া থেকে ইরাকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকেও স্থানান্তর করা হতে পারে।
মানবাধিকার সংগঠন রিপ্রিভের প্রধান নির্বাহী মায়া ফোয়া এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, বিষয়টি যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা হওয়া উচিত।
ইরাকে বন্দিদের বিরুদ্ধে সংক্ষিপ্ত বিচার ও প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা বহুবার নথিভুক্ত হয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, ইরাকের কারাগারে নেওয়া হলে বন্দিদের ওপর নির্যাতনের মাধ্যমে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করা হয় এবং পরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঝুঁকি অত্যন্ত বাস্তব।

সিরিয়ায় আইএস সংশ্লিষ্ট প্রায় ষাটজন ব্রিটিশ বা সাবেক ব্রিটিশ নাগরিক এখনও বিভিন্ন আটক কেন্দ্রে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব কেন্দ্র আগে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডিফেন্স ফোর্সের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে গত বাহাত্তর ঘণ্টায় দামেস্ক ভিত্তিক নতুন সরকারের অধীনে থাকা সিরিয়ার সেনাবাহিনী ওই বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নিয়েছে।
এরই মধ্যে সিরিয়ান ডিফেন্স ফোর্স বিশ্বের সবচেয়ে বড় আইএস শিবির আল-হোল থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এতে প্রায় ত্রিশ হাজার সাবেক জঙ্গি কার্যত অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে যায়। পরে সিরিয়ান সেনারা শিবিরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এই শিবিরটি শামিমা বেগমের অবস্থান থেকে মাত্র নব্বই মাইল দূরে।
মায়া ফোয়া আরও বলেন, যদি যুক্তরাজ্যের জ্ঞাতসারে বা নীরব সম্মতিতে ব্রিটিশ নাগরিকদের ইরাকে পাঠানো হয়, তবে তা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে।
২০১৯ সালে শামিমা বেগমের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়। বর্তমানে ইউরোপীয় আদালতে সেই সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















