০৩:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ কোটি টাকার কাপড়ভর্তি কনটেইনার নিখোঁজ মহেশখালীতে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা, একাই ছিলেন বাড়িতে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের চার প্রবাসী নিহত কাঁঠাল পাতার বোঝা কাঁধে হালিমা, দিনে ৩০০ টাকায় চলে একার সংসার ১০ জেলায় বেশি হাম, টিকাদান কর্মসূচি নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন সুগন্ধি চাল রপ্তানির কোটা অর্ধেক কমাল সরকার সৌদি আরবে হুথিদের হামলায় আহত ৭৩, নারী ও শিশুও রয়েছে ভেনিসে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তা ও হামলার অভিযোগ, লিখিত অভিযোগ পুলিশের কাছে আগামী ৫ দিনে বাড়তে পারে বৃষ্টি, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর কুমিল্লায় শিক্ষাসফরের বাস খাদে, আহত ২০ মেডিকেল শিক্ষার্থী

চাঁদের আকার বদলায় কেন লুকিয়ে থাকা বৈজ্ঞানিক রহস্য জানলে চমক লাগবেই

চাঁদের দিকে তাকিয়ে মানুষের বিস্ময় নতুন কিছু নয়। হাজার হাজার বছর ধরে রাতের আকাশে ভেসে থাকা এই জ্যোতিষ্ককে ঘিরে তৈরি হয়েছে কৌতূহল, কল্পনা আর প্রশ্ন। প্রতিদিন প্রায় একই চাঁদ দেখলে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, কখনো গোল, কখনো অর্ধেক, আবার কখনো সরু বাঁকা হয়ে চাঁদের আকার বদলে যায় কেন। এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে প্রকৃতির এক নিয়মতান্ত্রিক ও চমকপ্রদ বিজ্ঞান।

চাঁদের আকার বদলের আসল কারণ কী

চাঁদের এই রূপান্তরকে বলা হয় চন্দ্রকলার পরিবর্তন। অনেকের ধারণা, চাঁদ বড় বা ছোট হয় কিংবা পৃথিবীর ছায়া পড়ে এই পরিবর্তন ঘটে। বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। চাঁদ নিজের আকার বদলায় না এবং সাধারণ সময়ে পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপর পড়ে না। পৃথিবীর চারদিকে চাঁদের প্রদক্ষিণ এবং সূর্যের আলো পড়ার কোণের পরিবর্তনের কারণে আমাদের চোখে চাঁদের আলোকিত অংশ কখনো বেশি, কখনো কম দেখা যায়।

New moon (Image source: NASA)

এক মাসে চাঁদের আটটি ধাপ

পৃথিবীর চারদিকে ঘুরতে চাঁদের সময় লাগে প্রায় ঊনত্রিশ দিন। এই সময়ের মধ্যেই চাঁদের আটটি ধাপ আমরা দেখতে পাই। সূর্যের আলো সব সময় চাঁদের অর্ধেক অংশে পড়ে, তবে পৃথিবী থেকে সেই আলোকিত অংশের কতটা দেখা যাবে, তা নির্ভর করে চাঁদের অবস্থানের উপর।

অমাবস্যা থেকে শুরু

অমাবস্যার সময় চাঁদ থাকে পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে। তখন চাঁদের যে দিকটি পৃথিবীর দিকে থাকে, সেখানে আলো পড়ে না। ফলে আকাশে চাঁদ প্রায় দেখা যায় না এবং সূর্যের সঙ্গেই চাঁদ ওঠে।

ধীরে ধীরে বাড়তে থাকা আলো

অমাবস্যার পর চাঁদের এক পাশে চিকন আলোর রেখা দেখা যায়। এটা বাড়ন্ত চাঁদের শুরু। প্রতিদিন রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আলোকিত অংশ ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। একসময় চাঁদের অর্ধেক অংশ আলোকিত হয়ে ওঠে, যাকে বলা হয় অর্ধচন্দ্র।

First quarter (Image source: NASA)

পূর্ণতার পথে

অর্ধচন্দ্রের পর আলোর অংশ আরও বাড়ে। চাঁদ তখন প্রায় গোলাকার দেখাতে শুরু করে। কয়েক দিনের মধ্যেই আসে পূর্ণিমা। এই সময় পৃথিবী থাকে সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে, ফলে চাঁদের পুরো দিকটাই আলোকিত হয়ে ওঠে। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গেই পূর্ণিমার চাঁদ ওঠে এবং সারারাত আকাশে উজ্জ্বল আলো ছড়ায়।

আবার কমতে থাকা আলো

পূর্ণিমার পর চাঁদের আলো ধীরে ধীরে কমতে থাকে। প্রথমে চাঁদের এক অংশ অন্ধকার হয়, পরে আবার অর্ধেক দেখা যায়। এরপর আলো আরও সঙ্কুচিত হয়ে সরু বাঁকা রূপ নেয়। এই ধাপ পেরিয়ে চাঁদ আবার অমাবস্যার দিকে এগিয়ে যায় এবং নতুন চক্র শুরু হয়।

Waxing gibbous (Image source: NASA)

চাঁদের অন্ধকার দিক নিয়ে ভুল ধারণা

অনেকে মনে করেন, চাঁদের একটি দিক সব সময় অন্ধকার থাকে। আসলে চাঁদের কোনো দিকই চিরকাল অন্ধকার নয়। চাঁদ এমনভাবে ঘোরে যে, পৃথিবী থেকে আমরা সব সময় একই দিকে দেখি। বিপরীত দিকটি আমাদের চোখের আড়ালে থাকে বলেই তাকে অন্ধকার দিক বলা হয়। বাস্তবে সেই দিকে ও নিয়মিত সূর্যের আলো পড়ে।

Full moon (Image source: NASA)

বিজ্ঞানেই লুকিয়ে চাঁদের রূপকথা

পৃথিবী, চাঁদ আর সূর্যের অবস্থান বদলানোর জ্যামিতিক সম্পর্ক তৈরি করে চাঁদের এই রূপান্তরের গল্প। রাতের আকাশে চাঁদের দিকে তাকালে তাই শুধু সৌন্দর্য নয়, প্রকৃতির নিখুঁত বিজ্ঞানও ধরা পড়ে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ কোটি টাকার কাপড়ভর্তি কনটেইনার নিখোঁজ

চাঁদের আকার বদলায় কেন লুকিয়ে থাকা বৈজ্ঞানিক রহস্য জানলে চমক লাগবেই

১১:২৭:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

চাঁদের দিকে তাকিয়ে মানুষের বিস্ময় নতুন কিছু নয়। হাজার হাজার বছর ধরে রাতের আকাশে ভেসে থাকা এই জ্যোতিষ্ককে ঘিরে তৈরি হয়েছে কৌতূহল, কল্পনা আর প্রশ্ন। প্রতিদিন প্রায় একই চাঁদ দেখলে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, কখনো গোল, কখনো অর্ধেক, আবার কখনো সরু বাঁকা হয়ে চাঁদের আকার বদলে যায় কেন। এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে প্রকৃতির এক নিয়মতান্ত্রিক ও চমকপ্রদ বিজ্ঞান।

চাঁদের আকার বদলের আসল কারণ কী

চাঁদের এই রূপান্তরকে বলা হয় চন্দ্রকলার পরিবর্তন। অনেকের ধারণা, চাঁদ বড় বা ছোট হয় কিংবা পৃথিবীর ছায়া পড়ে এই পরিবর্তন ঘটে। বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। চাঁদ নিজের আকার বদলায় না এবং সাধারণ সময়ে পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপর পড়ে না। পৃথিবীর চারদিকে চাঁদের প্রদক্ষিণ এবং সূর্যের আলো পড়ার কোণের পরিবর্তনের কারণে আমাদের চোখে চাঁদের আলোকিত অংশ কখনো বেশি, কখনো কম দেখা যায়।

New moon (Image source: NASA)

এক মাসে চাঁদের আটটি ধাপ

পৃথিবীর চারদিকে ঘুরতে চাঁদের সময় লাগে প্রায় ঊনত্রিশ দিন। এই সময়ের মধ্যেই চাঁদের আটটি ধাপ আমরা দেখতে পাই। সূর্যের আলো সব সময় চাঁদের অর্ধেক অংশে পড়ে, তবে পৃথিবী থেকে সেই আলোকিত অংশের কতটা দেখা যাবে, তা নির্ভর করে চাঁদের অবস্থানের উপর।

অমাবস্যা থেকে শুরু

অমাবস্যার সময় চাঁদ থাকে পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে। তখন চাঁদের যে দিকটি পৃথিবীর দিকে থাকে, সেখানে আলো পড়ে না। ফলে আকাশে চাঁদ প্রায় দেখা যায় না এবং সূর্যের সঙ্গেই চাঁদ ওঠে।

ধীরে ধীরে বাড়তে থাকা আলো

অমাবস্যার পর চাঁদের এক পাশে চিকন আলোর রেখা দেখা যায়। এটা বাড়ন্ত চাঁদের শুরু। প্রতিদিন রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আলোকিত অংশ ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। একসময় চাঁদের অর্ধেক অংশ আলোকিত হয়ে ওঠে, যাকে বলা হয় অর্ধচন্দ্র।

First quarter (Image source: NASA)

পূর্ণতার পথে

অর্ধচন্দ্রের পর আলোর অংশ আরও বাড়ে। চাঁদ তখন প্রায় গোলাকার দেখাতে শুরু করে। কয়েক দিনের মধ্যেই আসে পূর্ণিমা। এই সময় পৃথিবী থাকে সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে, ফলে চাঁদের পুরো দিকটাই আলোকিত হয়ে ওঠে। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গেই পূর্ণিমার চাঁদ ওঠে এবং সারারাত আকাশে উজ্জ্বল আলো ছড়ায়।

আবার কমতে থাকা আলো

পূর্ণিমার পর চাঁদের আলো ধীরে ধীরে কমতে থাকে। প্রথমে চাঁদের এক অংশ অন্ধকার হয়, পরে আবার অর্ধেক দেখা যায়। এরপর আলো আরও সঙ্কুচিত হয়ে সরু বাঁকা রূপ নেয়। এই ধাপ পেরিয়ে চাঁদ আবার অমাবস্যার দিকে এগিয়ে যায় এবং নতুন চক্র শুরু হয়।

Waxing gibbous (Image source: NASA)

চাঁদের অন্ধকার দিক নিয়ে ভুল ধারণা

অনেকে মনে করেন, চাঁদের একটি দিক সব সময় অন্ধকার থাকে। আসলে চাঁদের কোনো দিকই চিরকাল অন্ধকার নয়। চাঁদ এমনভাবে ঘোরে যে, পৃথিবী থেকে আমরা সব সময় একই দিকে দেখি। বিপরীত দিকটি আমাদের চোখের আড়ালে থাকে বলেই তাকে অন্ধকার দিক বলা হয়। বাস্তবে সেই দিকে ও নিয়মিত সূর্যের আলো পড়ে।

Full moon (Image source: NASA)

বিজ্ঞানেই লুকিয়ে চাঁদের রূপকথা

পৃথিবী, চাঁদ আর সূর্যের অবস্থান বদলানোর জ্যামিতিক সম্পর্ক তৈরি করে চাঁদের এই রূপান্তরের গল্প। রাতের আকাশে চাঁদের দিকে তাকালে তাই শুধু সৌন্দর্য নয়, প্রকৃতির নিখুঁত বিজ্ঞানও ধরা পড়ে।