সিরিয়ার সরকার ও কুর্দি বাহিনীর মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে স্বস্তির খবর এলো। চার দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তা আরও ১৫ দিনের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে দামেস্ক ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনী। নতুন এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে স্থানীয় সময় রাত এগারোটায়।
যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর প্রেক্ষাপট
উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কাছ থেকে দখলে নিয়েছে সরকারি সেনারা। দ্রুত এই অগ্রযাত্রা প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারার ক্ষমতা আরও দৃঢ় করেছে। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পরিস্থিতি আবারও সংঘর্ষের দিকে যাচ্ছে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

সরকারের অবস্থান ও ঘোষণা
সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসলামিক স্টেটের আটক সদস্যদের সিরিয়া থেকে ইরাকে স্থানান্তরের একটি চলমান আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে সহায়তা করতেই সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে। এ কারণেই যুদ্ধবিরতি আরও ১৫ দিনের জন্য বাড়ানো হয়েছে।
কুর্দি বাহিনীর প্রতিক্রিয়া
কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনী জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় এই সমঝোতা হয়েছে এবং দামেস্কের সঙ্গে সংলাপ এখনও চলছে। যদিও এর আগে তারা অভিযোগ করেছিল, সরকার পরিকল্পিতভাবে সামরিক শক্তি বাড়িয়ে পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করছে।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও কূটনৈতিক তৎপরতা
যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট শারাকে সতর্ক করে দিয়েছেন, যেন কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় নতুন করে সেনা পাঠানো না হয়। কূটনৈতিক সূত্রের ভাষ্য, নতুন সংঘর্ষ শুরু হলে বেসামরিক কুর্দি জনগোষ্ঠীর ওপর গুরুতর সহিংসতার ঝুঁকি রয়েছে।
উত্তেজনার দীর্ঘ পটভূমি
গত এক বছরে ধাপে ধাপে বেড়েছে সরকার ও কুর্দি প্রশাসনের মধ্যে টানাপোড়েন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে উৎখাতের পর শারা ঘোষণা দেন, পুরো সিরিয়াকে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। তবে এক দশকের বেশি সময় ধরে স্বশাসিত কাঠামো পরিচালনাকারী কুর্দি কর্তৃপক্ষ সেই পরিকল্পনায় সায় দেয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি মাসে সরকারি বাহিনী বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে।
সামনে কী
নতুন করে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ায় আপাতত বড় সংঘর্ষের আশঙ্কা কমেছে। তবে সংলাপ ও সমঝোতা স্থায়ী রূপ না পেলে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় আবারও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















