শারজাহ আমিরাতের শাসনভার গ্রহণের পর থেকেই টানা উন্নয়ন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবকল্যাণকে কেন্দ্র করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত গড়ে তুলেছেন শাসক শেখ সুলতান বিন মোহাম্মদ আল কাসিমি। দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে তাঁর নেতৃত্বে শারজাহ পরিণত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রগতিশীল ও মানবিক আমিরাতে।
শাসনের শুরু ও উন্নয়নের দর্শন
উনিশশো বাহাত্তর সালের পঁচিশ জানুয়ারি মাত্র বত্রিশ বছর বয়সে শারজাহর শাসনভার নেন শেখ সুলতান। দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকেই তিনি মানুষের জীবনমান উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ধারাবাহিক বিনিয়োগ শারজাহকে স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ আমিরাতে রূপ দেয়।

মানবকল্যাণে অগ্রাধিকার
তাঁর শাসনামলে প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও শয্যাশায়ী মানুষের কল্যাণে বিশেষ সহায়তা কার্যক্রম চালু হয়। পরিবারগুলোর সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জোরদার করতে নেওয়া হয় নানামুখী উদ্যোগ, যাতে নাগরিকরা স্বাবলম্বীভাবে জীবন পরিচালনা করতে পারেন।
শৈশব, শিক্ষা ও আত্মপরিচয়ের বিকাশ
উনিশশো ঊনচল্লিশ সালের দুই জুলাই জন্ম নেওয়া শেখ সুলতান শৈশব থেকেই দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ গড়ে তোলেন। কোরআন শিক্ষার পাশাপাশি নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় তিনি নিজেকে গড়ে তোলেন। শারজাহ, কুয়েত ও মিসরে পড়াশোনা শেষে তিনি কৃষি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে ইতিহাস ও উপসাগরীয় রাজনৈতিক ভূগোল বিষয়ে দুটি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন, যা তাঁর শাসনদর্শনে গবেষণাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করে।

শিক্ষা ও প্রশাসনে কর্মজীবন
শাসক হওয়ার আগে শিক্ষকতা ও পৌর প্রশাসনে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন শেখ সুলতান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন এবং শাসক দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় যুক্ত থাকার মাধ্যমে প্রশাসনিক দক্ষতা গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে শারজাহ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পরিবার ও সমাজ উন্নয়নে নতুন কাঠামো
শারজাহ কাউন্সিল ফর ফ্যামিলি অ্যান্ড সোসাইটি গঠনের মাধ্যমে পরিবার, নারী ও শিশু উন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হয়। এই কাউন্সিলের মাধ্যমে সামাজিক নীতি, সাংস্কৃতিক পরিচয় ও সম্প্রদায়ভিত্তিক উদ্যোগ আরও সংগঠিতভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।



সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















