শারজাহয়ে ক্লাসিক গাড়িপ্রেমীদের স্মৃতি, অনুভূতি ও শিল্পঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে এগিয়ে চলেছে শারজাহ ক্লাসিক কার্স উৎসব। উৎসবের তৃতীয় আসরের দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হয় দুটি আলোচনা সভা, যেখানে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে সমষ্টিগত স্মৃতির ভাণ্ডার উঠে আসে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। সময়ের প্রবাহে মানুষের সঙ্গে গাড়ির সম্পর্ক কীভাবে বদলেছে, সেই গল্পই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
উৎসবের সংলাপভিত্তিক আয়োজন চলেছে পঁচিশে জানুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত। ‘সময় এগিয়ে গেলে’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই উৎসব সাধারণ দর্শকের জন্য উন্মুক্ত এক সাংস্কৃতিক পরিসর তৈরি করেছে, যেখানে স্মৃতি, ভালোবাসা ও শিল্পইতিহাস একসঙ্গে মিশে গেছে।

গাড়ির সঙ্গে মানুষের ব্যক্তিগত গল্প
দ্বিতীয় দিনের প্রথম আলোচনার শিরোনাম ছিল ‘একটি গাড়ির গল্প’। এতে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন গবেষক নাসের আল মাসারি। আলোচনায় তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সময় উনিশশো চুরাশি সালে প্রথম একটি ক্লাসিক গাড়ি কেনার মধ্য দিয়েই তাঁর এই যাত্রা শুরু। তখন বিশেষায়িত সাময়িকী ও বইই ছিল ক্লাসিক গাড়ির জগৎ জানার প্রধান মাধ্যম।
দুর্লভ সংগ্রহ আর সময়ের সাক্ষী
পরবর্তী সময়ে তাঁর সংগ্রহে যুক্ত হয় আরও বিরল গাড়ি। এর মধ্যে উনিশশো ঊনত্রিশ সালের একটি ক্যাডিলাককে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে দুর্লভ মডেলগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, প্রতিটি ক্লাসিক গাড়ি শুধু যন্ত্র নয়, বরং একটি সময়ের সাক্ষ্য বহন করে।

শিল্প আর নান্দনিকতার দৃষ্টিভঙ্গি
আলোচনায় সংগ্রহের দর্শন নিয়েও কথা বলেন নাসের আল মাসারি। তিনি বলেন, ক্লাসিক গাড়ির নান্দনিক ও শৈল্পিক মূল্য এর ব্যবহারিক উদ্দেশ্যের চেয়েও বড়। পুরোনো গাড়ির নকশায় সুর ও শিল্পের ছোঁয়া ছিল বেশি, যেখানে আধুনিক নকশায় বাণিজ্যিক ভাবনাই প্রাধান্য পাচ্ছে।
বৈচিত্র্যে ভরা আয়োজন
এ বছরের উৎসবে তিন শতাধিক ক্লাসিক ও বিরল গাড়ি প্রদর্শিত হচ্ছে। জাপান, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের নানা নকশাধারার গাড়ি এক জায়গায় থাকায় দর্শনার্থীরা সহজেই তুলনা করার সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি আলোচনা সভা, অংশগ্রহণমূলক আয়োজন ও পারিবারিক কার্যক্রম মিলিয়ে দর্শকদের জন্য তৈরি হয়েছে পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা।



সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















