সংযুক্ত আরব আমিরাত ক্রমেই শক্তিশালী করছে তাদের স্মার্ট নগরী গড়ার মডেল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস এবং ডিজিটাল সরকারি সেবার বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ডেটা এখন নগর জীবনের প্রধান চালিকাশক্তি। আর এই ডেটাকে কেন্দ্র করেই স্মার্ট নগর ব্যবস্থাপনার মূল অবকাঠামো হয়ে উঠেছে ডেটা সেন্টার।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেটা সেন্টারে কৌশলগত বিনিয়োগ বাড়িয়ে আমিরাত এমন এক নগর কাঠামো গড়ে তুলছে, যেখানে পরিবহন, জ্বালানি, নিরাপত্তা ও সরকারি সেবা একীভূত ডিজিটাল ব্যবস্থায় বাস্তব সময়ের তথ্যের ওপর নির্ভর করে পরিচালিত হচ্ছে। এই রূপান্তরই দেশটিকে জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবননির্ভর ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নিচ্ছে।

ডেটা সেন্টারেই শহরের বুদ্ধিবৃত্তিক নিয়ন্ত্রণ
শ্নাইডার ইলেকট্রিকের গালফ ক্লাস্টারের প্রেসিডেন্ট আমেল শাদলি জানিয়েছেন, আধুনিক স্মার্ট নগরীতে ডেটা সেন্টার কার্যত মস্তিষ্কের ভূমিকা পালন করছে। উন্নত নগর ব্যবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে বিপুল পরিমাণ তথ্য প্রক্রিয়াকরণ হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে কয়েক টেরাবাইট পর্যন্ত পৌঁছায়। এই সক্ষমতা ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইন্টারনেট অব থিংসনির্ভর নগর সেবা কার্যকর রাখা সম্ভব নয়।
তার মতে, মাসদার সিটি, দুবাই আরবান প্ল্যান দুই হাজার চল্লিশ এবং ডিজিটাল সরকার কৌশল দুই হাজার পঁচিশ প্রমাণ করে যে আমিরাত তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নের দিকে এগোচ্ছে। তবে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিরাপদ, নমনীয় ও স্থানীয় ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বিদ্যুৎ চাহিদা ও টেকসই বিনিয়োগ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে প্রতিটি সার্ভার র্যাকে বিদ্যুৎ প্রয়োজন হতে পারে বিশ থেকে পঞ্চাশ কিলোওয়াটেরও বেশি। এই বাস্তবতায় উচ্চ দক্ষতা ও টেকসই ডেটা সেন্টারে বিনিয়োগকে ভবিষ্যৎ শহর গড়ার জন্য মৌলিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে আমিরাত।
সংযোগ ও দ্রুততার ওপর জোর
ইকুইনিক্সের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামেল আল তাওয়িল বলেছেন, স্মার্ট নগরীর জন্য দ্রুত সাড়া, উচ্চ সক্ষমতা ও অতিসংযুক্ত নেটওয়ার্ক অপরিহার্য। ডেটা সেন্টারই বাস্তব সময়ের তথ্য বিশ্লেষণ ও বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব করে তোলে। স্থানীয়ভাবে ডেটা ট্রাফিক পরিচালনা করলে বিলম্ব কমে, সেবার মান বাড়ে এবং ভিডিও, ক্লাউড কম্পিউটিং, অনলাইন গেমিং ও ই-স্পোর্টসের মতো ডিজিটাল সেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানো সহজ হয়।
তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের ইন্টারনেট ট্রাফিকের বড় একটি অংশ এখনো ইউরোপ হয়ে যায়। তাই স্থানীয় ডেটা সেন্টার বিস্তার আমিরাতকে এই নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে।
বাজার ও বৈশ্বিক অবস্থান
বিশ্বব্যাপী গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দুই হাজার ত্রিশ সালের মধ্যে আমিরাতের ডেটা সেন্টার বাজারের মূল্য তিন দশমিক তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি হতে পারে। ইতিমধ্যেই অঞ্চলটির সবচেয়ে বড় ডেটা সেন্টার অবকাঠামো রয়েছে দেশটির হাতে, যা আগামী বছরগুলোতে দ্বিগুণ করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
এই অগ্রগতির স্বীকৃতি মিলেছে আন্তর্জাতিক সূচকেও। বিশ্ব প্রতিযোগিতা কেন্দ্রের স্মার্ট সিটি সূচকে দুই হাজার পঁচিশ সালে দুবাই বিশ্বে চতুর্থ এবং আবুধাবি পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে। এতে স্পষ্ট, স্মার্ট নগরী গড়ার দৌড়ে বৈশ্বিক মানচিত্রে আমিরাত এখন শীর্ষ সারির খেলোয়াড়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















