ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলল আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের দুই দিনের আলোচনার পর শনিবার কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি জানিয়েছেন, আলোচনা ছিল গঠনমূলক এবং দ্রুত পরবর্তী বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।
আমিরাতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জেলেনস্কির
শনিবার জেলেনস্কি প্রকাশ্যে ধন্যবাদ জানান সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে। তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমিরাতের মধ্যস্থতা ও ভবিষ্যৎ বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলেনস্কির ভাষায়, ইউক্রেন শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য কাজ করছে এবং যারা এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করছে তাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ।
গঠনমূলক পরিবেশে আলোচনা

আমিরাত সরকারের একজন মুখপাত্র জানান, আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলো গঠনমূলক ও ইতিবাচক পরিবেশে হয়েছে। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি কাঠামোর কিছু অমীমাংসিত বিষয় এবং আস্থা তৈরির বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে কথা হয়। বৈঠকে তিন পক্ষের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
যুদ্ধ শেষের সম্ভাব্য রূপরেখা
জেলেনস্কি জানান, এই আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ শেষ করার সম্ভাব্য কাঠামো নির্ধারণ। তাঁর মতে, যুদ্ধের অবসান ও বাস্তব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একটি সমঝোতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ শেষের শর্ত ও নিরাপত্তা কাঠামো কীভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
পরবর্তী বৈঠকের প্রস্তুতি
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, আলোচনার প্রতিটি দিক নিজ নিজ রাজধানীতে জানানো হবে এবং রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সামরিক প্রতিনিধিরা পরবর্তী বৈঠকের জন্য বেশ কিছু বিষয় চিহ্নিত করেছেন। সব পক্ষ প্রস্তুত থাকলে আগামী সপ্তাহেই আবার বৈঠক হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মার্কিন মূল্যায়ন
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের সরাসরি এক টেবিলে বসা একটি বড় অগ্রগতি। তাঁর মতে, আলোচনার কক্ষে পারস্পরিক সম্মান ছিল এবং সবাই সমাধান খুঁজতে আগ্রহী ছিল। তিনি জানান, আগামী রোববার আবুধাবিতেই পরবর্তী দফার আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কূটনৈতিক অগ্রগতির বার্তা
দুই দিনের আলোচনা কোনো চূড়ান্ত চুক্তি ছাড়াই শেষ হলেও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এটিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক বৈঠক যুদ্ধের অবসান নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন গতি দিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















