দুই সপ্তাহ আগে আমার ছোট মেয়ে ও-লেভেলের ফল হাতে পেয়েছে। সেই সঙ্গে আমাদের পরিবারে আরেকটি নীরব অধ্যায় শেষ হলো। কয়েক মাসের মধ্যেই তার পলিটেকনিকে ভর্তি হওয়ার কথা। এ বছরই পলিটেকনিক শেষ করবে মাঝের মেয়ে। ফলে পড়াশোনা ও কাজের সিদ্ধান্তে আমরা ধীরে ধীরে পেছনে সরে যাচ্ছি।
এই সরে আসা অবশ্য নতুন নয়। সেকেন্ডারি থ্রিতে পড়ার সময় ছোট মেয়ে জানিয়ে দিয়েছিল, সে আর চীনা ভাষার টিউশন নেবে না। আমাদের সন্দেহ ছিল, তবু জোর করিনি। নিজের মতো করেই পড়েছে, পেয়েছে ভালো ফল। মাঝের মেয়েও আমাদের না জানিয়ে একটি ক্যাফেতে চাকরি জোগাড় করেছে। কাগজপত্র গুছিয়ে কাজে নেমে পড়ার পর বিষয়টি জানায়।
এই স্বাধীনতাই আমাকে গর্বিত করে। তবু কিছু দিক আছে, যেখানে আমি এখনো হালকা করে দিকনির্দেশ দিতে চাই।

বাস্তব জীবনের স্বাদ যেন হারিয়ে না যায়
আমি কৃতজ্ঞ যে আমার মেয়েদের প্রাথমিক স্কুলজীবন কেটেছে স্মার্টফোনের আগের সময়ে। সেই অভিজ্ঞতা হয়তো তাদের শিখিয়েছে—জীবনের অনেক কিছু পর্দার বাইরে বেশি সুন্দর।
এক মেয়ে বন্ধুদের নিয়ে পুলাউ উবিনে গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটা, পাথর ছোড়া, পড়ে থাকা ফল ঠেলে নিয়ে যাওয়া। আরেক মেয়ে শনিবার রাতে বন্ধুদের সঙ্গে সিঙ্গাপুর নদীর ধারে বসে থেকেছে দীর্ঘ সময়। বাইরে থেকে দেখলে কিছুই না। আমার কাছে, এটাই জীবনের সঙ্গে থাকা।
বাড়িতে খেলাধুলার সরঞ্জামের অভাব নেই। কিন্তু ঘরে বসে খেলার কনসোল কখনো আসেনি। খেলতে হলে, বাইরে গিয়েই খেলতে হবে।

মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার শিক্ষা
আজকের তরুণদের নিয়ে এক ধরনের উদ্বেগ আছে। অনলাইনে সংযুক্ত থেকেও তারা একাকী। মুখোমুখি কথা বলতে গিয়ে অস্বস্তি বোধ করে অনেকেই।
এই প্রবণতার বিপরীতে আমি মেয়েদের উৎসাহ দিই বাইরে বেরোতে। কাজ করতে। স্বেচ্ছাসেবায় যুক্ত হতে। বন্ধুদের বাড়িতে ডাকতে। ঘরে শব্দ বা বিশৃঙ্খলা বড় বিষয় নয়। মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগটাই আসল।
চাকরির ক্ষেত্রেও আমি তাদের অফিসমুখী হতে বলি। বাসা থেকে কাজের সুবিধা আছে। কিন্তু ক্যারিয়ারের শুরুতে সহকর্মীদের সঙ্গে প্রতিদিন দেখা, একসঙ্গে বসা, খাওয়া—এসবের শিক্ষা অন্যরকম।

নৈতিকতা ও সাহসের ভিত
সংবাদপত্র খুললেই দেখা যায়—লোভ, অসততা, সহিংসতা, হিংসা। কোন মানুষ আমরা চাই না, তা বোঝা সহজ। কিন্তু কেমন মানুষ চাই, সেটি গড়ে ওঠে উদাহরণ দেখে।
শিশুরা কথার চেয়ে আচরণ বেশি দেখে। বলা আর করার মধ্যে ফারাক থাকলে, তারা বিশ্বাস হারায়। নৈতিকতা শেখানো মানে নিজে তা মেনে চলা।
আগামী দশ বছরে আমার মেয়েরা তরুণী হবে। আমি চাই, তারা নিজের পক্ষে দাঁড়াতে জানুক। প্রয়োজন হলে একা হলেও অস্বস্তিকর বা ক্ষতিকর পরিস্থিতি থেকে সরে আসুক। সম্পর্ক হোক সম্মানের ওপর দাঁড়ানো। না হলে সেখান থেকেও বেরিয়ে আসার সাহস থাকুক।
সবশেষে, আমি চাই তারা জানুক—বাড়ি এখনো তাদের নিরাপদ জায়গা। প্রশ্ন থাকতে পারে, বিচার নয়। যেখানে তারা শোনা যাবে। আর প্রতিদিনের জীবনে ভালোবাসা অনুশীলন করা হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















