ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে একটি ফাঁস হওয়া অডিও। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর টেড ক্রুজ দাতাদের সঙ্গে ফোনালাপে বলেছেন, হোয়াইট হাউসের ভেতর থেকেই চুক্তিটি আটকে আছে—এমনটাই দাবি বিভিন্ন প্রতিবেদনে।
ঘটনাটি সামনে এলো এমন সময়ে, যখন শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্তে দিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্কে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়া থেকে তেল কেনার প্রসঙ্গ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
অডিওতে ক্রুজ কী বলছেন বলে দাবি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রুজ দাতাদের বলেছেন তিনি প্রশাসনের সঙ্গে “লড়াই” করছেন। লক্ষ্য—ভারতের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি এগিয়ে নেওয়া। তিনি বাধা হিসেবে নাম করেছেন হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারোকে। সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথাও এসেছে।
অডিওটির সত্যতা নিয়ে সরকারিভাবে বিস্তারিত কিছু নিশ্চিত করা হয়নি। তবে এটিকে রিপাবলিকান শিবিরের ভেতরের মতভেদের একটি বিরল জানালা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুল্ক-রাজনীতি আর রিপাবলিকান দলে ফাটল
এই অডিওর আরেকটি বড় দিক হলো শুল্কনীতি নিয়ে দলের ভেতরের উদ্বেগ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রুজ শুল্ক বাড়লে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন। অবসর সঞ্চয়েও চাপ পড়তে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও বলেছেন। তাঁর যুক্তি, এতে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা বিপাকে পড়তে পারে।
একদিকে মুক্তবাণিজ্যের পুরোনো ধারা। অন্যদিকে শুল্ককে চাপ তৈরির অস্ত্র হিসেবে দেখার নতুন রাজনীতি। এই টানাপোড়েনই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার যুক্তি, টেক্সাসের হিসাব
ক্রুজ আগে থেকেই ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পক্ষে কথা বলেছেন। টেক্সাসে ভারতীয়-আমেরিকান জনগোষ্ঠীর গুরুত্বও কম নয়। ফলে ভারত ইস্যু তাঁর রাজনৈতিক হিসাবের সঙ্গেও জড়িয়ে থাকে—এমন বিশ্লেষণ সামনে এসেছে।
শেষ পর্যন্ত চুক্তি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নির্ভর করবে আলোচনার টেবিলের পাশাপাশি ওয়াশিংটনের ভেতরের রাজনীতির ওপরও।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















