ডোনাল্ড ট্রাম্প ও গ্রিনল্যান্ড—এই দুই শব্দ একসঙ্গে শুনলে এখনো অনেকের কাছে অবাস্তব মনে হয়। তবু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ইউরোপকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।
এই সপ্তাহে দ্য ইকোনমিস্ট-এর প্রচ্ছদে উঠে এসেছে গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গ। বিষয়টি শুধু একটি দ্বীপ নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্কের গভীর সংকেত বহন করে।
গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব সীমিত। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আগেই আছে। প্রয়োজনে আরও ঘাঁটি গড়া সম্ভব, মালিকানা ছাড়াই। ফলে দ্বীপ দখলের রাজনৈতিক মূল্য, বাস্তব সুবিধার তুলনায় অনেক বেশি।

পিছু হটা, তবে মনোভাব বদলায়নি
ইউরোপ শুরুতে কঠোর অবস্থানের আশঙ্কা করেছিল। বাস্তবে ট্রাম্প কিছুটা সরে আসেন। শুল্কের হুমকি আপাতত স্থগিত থাকে। জোর করে গ্রিনল্যান্ড নেওয়ার কথাও বলেননি।
কিন্তু ভাষা বদলায়নি। ন্যাটো নিয়ে অভিযোগ আবারও উঠে আসে। ডেনমার্ককে দেওয়া বার্তায় ছিল চাপের ইঙ্গিত—সহযোগিতা মনে রাখা হবে, না করলে ফল ভোগ করতে হবে।
এই কথাগুলোই উদ্বেগ বাড়ায়। কারণ এতে স্পষ্ট হয়, সম্পর্কের ভিত্তি আর মূল্যবোধ নয়। হিসাব আর শক্তিই মুখ্য।

ইউরোপের আশঙ্কা কেন কাটছে না
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ নতুন নয়। মিত্রদের ‘বোঝা’ মনে করার দৃষ্টিভঙ্গিও বদলায়নি। তাই অনেক বিশ্লেষকের চোখে এটি কৌশলগত বিরতি মাত্র।
এই টানাপোড়েনে বাজারও অস্থির হয়েছে। এতে বোঝা যায়, ক্ষতির ঝুঁকি যুক্তরাষ্ট্রেরও আছে। তবু ট্রাম্পের বিশ্বাস—মিত্ররাই বেশি হারাবে।
গ্রিনল্যান্ড হয়তো আপাতত আলোচনার কেন্দ্র নয়। কিন্তু ইউরোপের মনে একটি প্রশ্ন থেকে গেছে। ভবিষ্যতে আবার কি আটলান্টিকের দুই পাড়ে ভাঙন ধরবে—ভিতর থেকেই?
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















