১২:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
পূর্ব কঙ্গোতে আইএস–ঘনিষ্ঠ জঙ্গিদের রক্তক্ষয়, গ্রামে হামলায় অন্তত বাইশ বেসামরিক নিহত ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুফাঁদে অভিবাসন: ঝড়ের মধ্যে নৌযাত্রায় শতাধিক নিখোঁজ বা নিহতের আশঙ্কা আয়ের অনুপাতে খরচ ভাগ, সমান নয় তবু ন্যায্য দাম্পত্য অর্থনীতি একটি ঘোড়াকে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে হত্যা শাজিদ হত্যার ছয় মাস পরও বিচার না হওয়ায় প্রোক্টরের পদত্যাগ দাবি আইইউ ছাত্রদলের দেশের অর্থ লুট চিরতরে বন্ধ হবে, জামায়াত ক্ষমতায় এলে ডা. শফিকুর রহমান আইসিসির কৌশলে বাংলাদেশ প্রস্তুত, পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ অনিশ্চিত বাংলাদেশে নতুন ডাক ভোট ব্যবস্থার মধ্যেও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত সাংবাদিকরা সাভারের আশুলিয়ায় পাট ব্যবসায়ীকে গুলি করে হামলা সিলেটে বিজিবির সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ যুবকের মৃত্যু

সাদ্দামের মা দেলোয়ারা একরামের কান্না—স্ত্রী-সন্তান হারানোর পর জামিন, এখন এই মুক্তি দিয়ে কী হবে

বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দামের উচ্চ আদালত থেকে জামিন মিলেছে। কিন্তু এই খবরে পরিবারে কোনো স্বস্তি নেই। বরং স্বজনদের চোখে জল, কণ্ঠে অসহায় কান্না। তাদের প্রশ্ন একটাই—স্ত্রী ও সন্তান বেঁচে থাকতে যখন জামিন পাওয়া গেল না, তখন এই জামিনের অর্থই বা কী।

জামিনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আরও অস্থির হয়ে পড়েন সাদ্দামের মা দেলোয়ারা একরাম। ছেলের মুক্তির খবরে তার চোখে কোনো আনন্দ নেই, আছে শুধু ভয় আর বেদনা। তিনি বলেন, ছেলে বাড়ি ফিরে কী দেখবে, সেই চিন্তায় তিনি দিনরাত কাঁপছেন। তার ভাষায়, স্ত্রী ও সন্তান জীবিত থাকতে যদি জামিন হতো, তাহলে হয়তো আজ এমন কান্নার দিন দেখতে হতো না।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে দেলোয়ারা একরাম বলেন, কতবার জামিনের চেষ্টা করা হয়েছে। এক মামলায় জামিন মিললেও আরেক মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর এক দিন আগেও যদি জামিন পাওয়া যেত, তাহলে এই ভয়াবহ বাস্তবতা তাদের দেখতে হতো না।

তার মতে, এখন জামিন হওয়া আর না হওয়া একই কথা। কারণ বাড়ি ফিরলে সাদ্দামকে দেখতে হবে নিজের স্ত্রী ও সন্তানের কবর। এই পরিস্থিতিতে এই জামিন কোনো শান্তি বা সান্ত্বনা বয়ে আনছে না বলেই মনে করছেন তিনি।

প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ার ক্ষোভ
এদিকে স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পরও প্যারোলে মুক্তি না দেওয়াকে অমানবিক সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন সাদ্দামের শ্বশুর, জাতীয় পার্টির নেতা রুহুল আমিন হাওলাদার। তিনি রাষ্ট্রের কাছে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন, এমন শোকের মুহূর্তেও একজন মানুষকে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে না দেওয়া অত্যন্ত নিষ্ঠুর।

প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করা সাদ্দামের মামা হেমায়েত উদ্দিন জানান, তারা বারবার আবেদন করেও ব্যর্থ হয়েছেন। তবে জামিনের আদেশের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

সাদ্দামের শ্যালক শাহনেওয়াজ আমিন শুভ এই জামিনকে অর্থহীন উল্লেখ করে বলেন, এই ঘটনায় পুরো ব্যবস্থাটাই নাটকীয়তায় ভরা। তার মতে, এই জামিন বাস্তবে কোনো ক্ষতই পূরণ করতে পারবে না।

জামিন পেলেন স্ত্রী-সন্তান হারানো ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম

আদালতের আদেশ ও মামলার প্রেক্ষাপট
সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার বেঞ্চ সাদ্দামের জামিনের আদেশ দেন। তার পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা।

জুয়েল হাসান সাদ্দাম বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা। তিনি একরাম হাওলাদার ও দেলোয়ারা একরাম দম্পতির ছেলে এবং বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে যান। পরে ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে একাধিক মামলায় তিনি কারাবন্দি ছিলেন।

স্ত্রী ও শিশুপুত্রের মৃত্যু
এরই মধ্যে শুক্রবার দুপুরে সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্ণালী এবং তাদের নয় মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় এলাকায় নেমে আসে গভীর শোক।

পরদিন বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মা ও ছেলের মরদেহ সুবর্ণার বাবার বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে গোসল ও প্রস্তুতির পর বিকেল সোয়া চারটার দিকে মরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। সেখানে সাদ্দাম শেষবারের মতো তার স্ত্রী ও সন্তানকে দেখেন।

ওই দিন রাত ১১টা ২০ মিনিটে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সুবর্ণার বাবার বাড়ির কবরস্থানে মা ও ছেলেকে পাশাপাশি দাফন করা হয়।

স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পরও প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। এমন প্রেক্ষাপটে জামিন পেলেও সাদ্দামের পরিবারের কান্না থামেনি। শোক আর প্রশ্নই এখন তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

পূর্ব কঙ্গোতে আইএস–ঘনিষ্ঠ জঙ্গিদের রক্তক্ষয়, গ্রামে হামলায় অন্তত বাইশ বেসামরিক নিহত

সাদ্দামের মা দেলোয়ারা একরামের কান্না—স্ত্রী-সন্তান হারানোর পর জামিন, এখন এই মুক্তি দিয়ে কী হবে

১০:৫৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দামের উচ্চ আদালত থেকে জামিন মিলেছে। কিন্তু এই খবরে পরিবারে কোনো স্বস্তি নেই। বরং স্বজনদের চোখে জল, কণ্ঠে অসহায় কান্না। তাদের প্রশ্ন একটাই—স্ত্রী ও সন্তান বেঁচে থাকতে যখন জামিন পাওয়া গেল না, তখন এই জামিনের অর্থই বা কী।

জামিনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আরও অস্থির হয়ে পড়েন সাদ্দামের মা দেলোয়ারা একরাম। ছেলের মুক্তির খবরে তার চোখে কোনো আনন্দ নেই, আছে শুধু ভয় আর বেদনা। তিনি বলেন, ছেলে বাড়ি ফিরে কী দেখবে, সেই চিন্তায় তিনি দিনরাত কাঁপছেন। তার ভাষায়, স্ত্রী ও সন্তান জীবিত থাকতে যদি জামিন হতো, তাহলে হয়তো আজ এমন কান্নার দিন দেখতে হতো না।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে দেলোয়ারা একরাম বলেন, কতবার জামিনের চেষ্টা করা হয়েছে। এক মামলায় জামিন মিললেও আরেক মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর এক দিন আগেও যদি জামিন পাওয়া যেত, তাহলে এই ভয়াবহ বাস্তবতা তাদের দেখতে হতো না।

তার মতে, এখন জামিন হওয়া আর না হওয়া একই কথা। কারণ বাড়ি ফিরলে সাদ্দামকে দেখতে হবে নিজের স্ত্রী ও সন্তানের কবর। এই পরিস্থিতিতে এই জামিন কোনো শান্তি বা সান্ত্বনা বয়ে আনছে না বলেই মনে করছেন তিনি।

প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ার ক্ষোভ
এদিকে স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পরও প্যারোলে মুক্তি না দেওয়াকে অমানবিক সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন সাদ্দামের শ্বশুর, জাতীয় পার্টির নেতা রুহুল আমিন হাওলাদার। তিনি রাষ্ট্রের কাছে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন, এমন শোকের মুহূর্তেও একজন মানুষকে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে না দেওয়া অত্যন্ত নিষ্ঠুর।

প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করা সাদ্দামের মামা হেমায়েত উদ্দিন জানান, তারা বারবার আবেদন করেও ব্যর্থ হয়েছেন। তবে জামিনের আদেশের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

সাদ্দামের শ্যালক শাহনেওয়াজ আমিন শুভ এই জামিনকে অর্থহীন উল্লেখ করে বলেন, এই ঘটনায় পুরো ব্যবস্থাটাই নাটকীয়তায় ভরা। তার মতে, এই জামিন বাস্তবে কোনো ক্ষতই পূরণ করতে পারবে না।

জামিন পেলেন স্ত্রী-সন্তান হারানো ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম

আদালতের আদেশ ও মামলার প্রেক্ষাপট
সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার বেঞ্চ সাদ্দামের জামিনের আদেশ দেন। তার পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা।

জুয়েল হাসান সাদ্দাম বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা। তিনি একরাম হাওলাদার ও দেলোয়ারা একরাম দম্পতির ছেলে এবং বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে যান। পরে ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে একাধিক মামলায় তিনি কারাবন্দি ছিলেন।

স্ত্রী ও শিশুপুত্রের মৃত্যু
এরই মধ্যে শুক্রবার দুপুরে সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্ণালী এবং তাদের নয় মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় এলাকায় নেমে আসে গভীর শোক।

পরদিন বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মা ও ছেলের মরদেহ সুবর্ণার বাবার বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে গোসল ও প্রস্তুতির পর বিকেল সোয়া চারটার দিকে মরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। সেখানে সাদ্দাম শেষবারের মতো তার স্ত্রী ও সন্তানকে দেখেন।

ওই দিন রাত ১১টা ২০ মিনিটে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সুবর্ণার বাবার বাড়ির কবরস্থানে মা ও ছেলেকে পাশাপাশি দাফন করা হয়।

স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পরও প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। এমন প্রেক্ষাপটে জামিন পেলেও সাদ্দামের পরিবারের কান্না থামেনি। শোক আর প্রশ্নই এখন তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য।