একই ছাদের নিচে থাকেন, দুজনেরই ভালো আয়, তবু খরচ ভাগে পঞ্চাশ-পঞ্চাশ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোতে বসবাসকারী র্যান্ডি লিউ ও এলেনা ডিমেস্টার দম্পতির কাছে ন্যায্যতার অর্থ সমতা নয়, বাস্তবতা। তারা বিশ্বাস করেন, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে আবেগের পাশাপাশি অর্থনীতিতেও দরকার স্বচ্ছতা আর নমনীয়তা।
র্যান্ডি লিউ পেশায় বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত। বয়স ঊনত্রিশ। খরচের হিসাব রাখেন খুব কড়াভাবে। খাবার, পোশাক, দৈনন্দিন ব্যয়—সবই নথিবদ্ধ থাকে তার তালিকায়। প্রেমের শুরুতে এই অভ্যাসেই যুক্ত হন তার সঙ্গী এলেনা ডিমেস্টার। বয়স সাতাশ। তিনি ওষুধ শিল্পে কর্মরত। তিন বছর ধরে একসঙ্গে থাকার অভিজ্ঞতায় তারা গড়ে তুলেছেন এমন এক বাজেট পদ্ধতি, যেখানে খরচ ভাগ হয় আয়ের অনুপাতে।
আয়ের ব্যবধানই তাদের সিদ্ধান্তের মূল কারণ। দুজনই উচ্চ আয়ের হলেও র্যান্ডির আয় কিছুটা বেশি। ফলে খরচ ভাগ হয় আনুমানিক ষাট চল্লিশ অনুপাতে। এলেনার ভাষায়, অর্থের ভাগ হয়তো সমান নয়, কিন্তু সম্পর্কের দায়বদ্ধতা তারা দুজনই সমানভাবে অনুভব করেন।
কোন খরচ সমানভাবে ভাগ হয়
এই দম্পতির ক্ষেত্রে মাত্র দুটি খরচ সমানভাবে ভাগ হয়। প্রতি মাসের বাসগৃহ ঋণের কিস্তি এবং বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সেবার বিল। বাকি সবকিছু—বাজার খরচ, বিনোদন, অনলাইন সেবা—সবই আয়ের অনুপাতে ভাগ করা হয়। প্রতি মাসে হিসাব মিলিয়ে দেখা হয় একটি স্প্রেডশিটের মাধ্যমে। কোনো মাসে খরচ বেড়ে গেলে পরের মাসে তারা নিজেরাই ঘোষণা করেন সাশ্রয়ী মাস। তখন বাইরে খাওয়া বা অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধ থাকে।
যৌথ হিসাব নয়, তবু যৌথ পরিকল্পনা
অনেক যুগল যেখানে যৌথ ব্যাংক হিসাব বেছে নেন, সেখানে র্যান্ডি ও এলেনা আলাদা হিসাবই রাখছেন। এলেনার মতে, এতে নিজের আয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতাও নষ্ট হয় না। ভবিষ্যতেও তারা হিসাব এক করার পরিকল্পনা দেখছেন না।

দীর্ঘমেয়াদি কৌশল হিসেবে এই পদ্ধতি
ক্যারিয়ারের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আয় বাড়বে, বদলাবে অনুপাত। এলেনা মনে করেন, ভবিষ্যতে হয়তো এই ভাগ আরও অসম হবে। তবু আয়ের ভিত্তিতে খরচ ভাগ করাকেই তারা দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক কৌশল হিসেবে দেখছেন।
বড় প্রবণতা কী বলছে
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন গবেষণা বলছে, তরুণ যুগলদের বড় অংশ এখনো পঞ্চাশ-পঞ্চাশ খরচ ভাগ করেন। তবে বিকল্প পথও জনপ্রিয় হচ্ছে। ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়ের পার্থক্য থাকলে অনুপাতে খরচ ভাগ করাই বেশি ন্যায্য।
হিউস্টনের সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ন্যায্যতা মানেই সমতা নয়। খরচ অনানুষ্ঠানিকভাবে ভাগ হলে ধীরে ধীরে অসন্তোষ জমে। কেউ বাসাভাড়া দেন, কেউ বাজার করেন—খরচের ওঠানামায় একসময় একজন মনে করেন তিনি বেশি বোঝা টানছেন। শুরুতেই পরিষ্কার কাঠামো থাকলে এই সমস্যা এড়ানো যায়।
স্বচ্ছতা আর কথোপকথনই মূল
বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণ যুগলরা হিসাব কষতে চান না, তারা চান ন্যায্য হতে। সফল তারাই, যারা অর্থকে গোপন তুলনার বিষয় না বানিয়ে যৌথভাবে ব্যবস্থাপনার বিষয় হিসেবে দেখেন। নিয়মিত বসে বাজেট পর্যালোচনা করা, প্রয়োজন হলে পরিবর্তন আনা—এই কথোপকথনই সম্পর্ককে টেকসই করে। কারণ টাকা কেবল সংখ্যা নয়, এটি মানুষের মূল্যবোধও প্রকাশ করে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















