পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো ঝুলে আছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে সোমবার প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক হলেও এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার অথবা পরবর্তী সোমবারের মধ্যেই বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বা না নেওয়া নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা করা হবে।
.jpeg.webp)
বাংলাদেশকে প্রস্তুত রাখছে আইসিসি
পাকিস্তান সরে দাঁড়ালে বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশকে ফেরানোর বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তান যদি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ থেকে সরে যায়, তাহলে গ্রুপ ‘এ’-তে তাদের জায়গায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলবে, যা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আগেই চেয়েছিল। এতে বড় কোনো লজিস্টিক জটিলতা তৈরি হবে না বলেও মনে করা হচ্ছে।
এই ব্যবস্থায় আইসিসির অবস্থানও তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকবে। কারণ এতে সরাসরি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নিরাপত্তা সংক্রান্ত দাবিকে মেনে নেওয়ার অভিযোগ উঠবে না। বরং এটি পাকিস্তানের সরে যাওয়ার ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতির ফল হিসেবে দেখা হবে।

গ্রুপ পরিবর্তন ও আগের সিদ্ধান্ত
চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে গ্রুপ ‘সি’ থেকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল আইসিসি। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নেয়।
নকভির বক্তব্য ও সিদ্ধান্তের দেরি
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহসিন নকভি জানান, বিশ্বকাপ ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং সব বিকল্প খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার কথায়, অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শুক্রবার বা পরবর্তী সোমবার নেওয়া হবে।
পাকিস্তানের দ্বিধা ও আইনি অবস্থান
বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর পক্ষে শক্ত আইনি ভিত্তি না থাকায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড দ্বিধায় রয়েছে। যদিও তারা আগে বাংলাদেশের ম্যাচ স্থানান্তরের দাবিকে সমর্থন করেছিল, আইসিসির বোর্ডে সেই প্রস্তাব ভোটে বাতিল হয়ে যায়। ফলে পুরো টুর্নামেন্ট বর্জন করলে আইসিসির পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঝুঁকিও আছে।
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ভাবনা
পাকিস্তানের সামনে আরেকটি বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচ না খেলার বিষয়টি। পাকিস্তানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচ বর্জন করে পয়েন্ট ছেড়ে দেওয়ার চিন্তাও করা হচ্ছে। তবে এই ম্যাচটি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আকর্ষণীয় হওয়ায় সম্প্রচারকারী ও স্পনসরদের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
এক কর্মকর্তা জানান, হাইব্রিড মডেলটি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অনুরোধেই ভারত ও পাকিস্তান বোর্ডের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে গড়ে উঠেছিল। এখন সেই ম্যাচ না খেললে নিজেদেরই করা চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে পড়তে পারে পিসিবি।
কালো আর্মব্যান্ড ও অন্যান্য প্রতিবাদ
আরও একটি বিকল্প হিসেবে পাকিস্তান দল কালো আর্মব্যান্ড পরে ম্যাচ খেলার বিষয়টিও বিবেচনা করছে, যা প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হতে পারে।
বিসিসিআইয়ের প্রতিক্রিয়া
এই পরিস্থিতিতে প্রথমবারের মতো প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সহসভাপতি রাজীব শুক্লা। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে খেলতে চাওয়ার পাশাপাশি পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে পুরো সূচি বদলানো কঠিন হওয়ায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কোনো কারণ ছাড়াই পাকিস্তান এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে এবং বাংলাদেশকে উসকানি দিচ্ছে। তার মতে, অতীতের ঘটনাবলি সবাই জানে এবং এখন বিভ্রান্তি ছড়ানো সম্পূর্ণ ভুল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















