চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত শিল্পগোষ্ঠী সিনোকেম জানিয়েছে, ইতালির টায়ার প্রস্তুতকারক পিরেল্লির সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচালনা ও মালিকানা সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব মেটাতে তারা একটি কাঠামোবদ্ধ সমাধান প্রস্তাব করেছে। এই প্রস্তাব এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন পিরেল্লিতে সিনোকেমের প্রভাব কমানোর কিংবা প্রতিষ্ঠানটিকে নীরব শেয়ারধারকে পরিণত করার পথ খতিয়ে দেখছে ইতালি সরকার। এর মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে পিরেল্লির ব্যবসা সম্প্রসারণ সহজ করা।

শেয়ারহোল্ডিং ঘিরে টানাপোড়েন
বর্তমানে পিরেল্লির সবচেয়ে বড় শেয়ারধারক হলো সিনোকেম। প্রতিষ্ঠানটির হাতে রয়েছে প্রায় চৌত্রিশ শতাংশ শেয়ার। অন্যদিকে ইতালীয় ব্যবসায়ী মার্কো ত্রনকেত্তি প্রোভেরার বিনিয়োগ সংস্থা কামফিনের মালিকানায় রয়েছে প্রায় পঁচিশ শতাংশ শেয়ার, যা বাড়িয়ে প্রায় ত্রিশ শতাংশে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই মালিকানা কাঠামো নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলছে।

সিনোকেমের প্রস্তাব কী বলছে
সিনোকেমের দাবি, তারা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত করপোরেট কাঠামো ও প্রচলিত ব্যবস্থার ভিত্তিতে একটি সুপরিকল্পিত প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে একদিকে পিরেল্লির পরিচালনা কাঠামো স্পষ্ট করা হবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক বিধিনিষেধ সংক্রান্ত উদ্বেগের সমাধান করা সম্ভব হবে। তবে প্রস্তাবের বিস্তারিত তারা প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রসারণে চীনা মালিকানা বাধা
পিরেল্লি ও কামফিনের অভিযোগ, প্রধান শেয়ারধারক হিসেবে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রে পিরেল্লির সম্প্রসারণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে গাড়ি শিল্পে চীনা প্রযুক্তির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বিধিনিষেধ এই সমস্যা আরও জটিল করে তুলেছে।
সম্পদ আলাদা করার সম্ভাব্য পথ
বিষয়টির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত সমাধানের অংশ হিসেবে পিরেল্লির কিছু সম্পদ আলাদা করে নতুন একটি করপোরেট সত্তা গঠনের কথা ভাবা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ওই কার্যক্রমগুলোকে চীনা বিনিয়োগকারীর সরাসরি প্রভাব থেকে দূরে রাখা সম্ভব হতে পারে।

কামফিনের আপত্তি ও পাল্টা প্রস্তাব
সিনোকেমের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় কামফিন জানিয়েছে, প্রস্তাবিত সমাধান পিরেল্লির ব্যবসায়িক মডেল ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাদের মতে, এতে যুক্তরাষ্ট্রের সংযুক্ত যানবাহন সংক্রান্ত বিধিনিষেধ মেনে চলাও সহজ হবে না। কামফিন জানায়, তারা নিজস্ব একটি প্রস্তাব দিয়েছে এবং আলোচনার পথ এখনো খোলা রাখতে চায়।
সরকারি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা
গত সপ্তাহে কামফিন ঘোষণা দেয়, তারা সিনোকেমের সঙ্গে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডার চুক্তি নবায়ন করবে না। এর ফলে পিরেল্লির পরিচালনায় ইতালি সরকারের নতুন হস্তক্ষেপের পথ খুলে যায়। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় করপোরেট খাতে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের যে আইন রয়েছে, তার আওতায় সরকার এবার আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















