শীতের তীব্র তুষারঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বড় একটি অংশ স্থবির হয়ে পড়লেও মিনেসোটার মিনিয়াপলিসে ঘটে যাওয়া সহিংসতার দৃশ্য দেশের মন থেকে মুছে যায়নি। পরপর দুইবার ফেডারেল এজেন্ট এর গুলিতে সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার ভিডিও সামাজিক পরিসরে ঘুরতে ঘুরতে এক গভীর প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে—একই ঘটনা দেখে কীভাবে কেউ বলে সব ঠিক আছে, আবার কেউ বলে দেশ ভেঙে পড়ছে।
মিনিয়াপলিসে ফেডারেল বাহিনীর অভিযানে নিহত অ্যালেক্স প্রেট্টির স্মরণে তৈরি অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে শোক আর ক্ষোভ একসঙ্গে জমেছে। তিনি একজন নিবন্ধিত নার্স, কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না। ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারীকে মরিচ স্প্রে করা হলে তিনি মাঝখানে দাঁড়ান। তাকেও স্প্রে করা হয়, মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে গুলিতে প্রাণ হারান। এই ঘটনা গত তিন সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়, যখন ফেডারেল বাহিনীর গুলিতে একজন আমেরিকান নাগরিকের মৃত্যু ক্যামেরায় ধরা পড়ল।

সরকারি বয়ান ও জনমতের সংঘাত
এই দুই ঘটনার পর প্রশাসনের বক্তব্যে নিহতদের ‘ঘরোয়া সন্ত্রাসী’ হিসেবে বর্ণনা করা হলেও বহু নাগরিকের চোখে ভিডিও প্রমাণ সেই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। মিনেসোটায় সহিংসতা, বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার আর আরেকজন ভেনেজুয়েলান নাগরিক আহত হওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা পুরো মাসজুড়ে বাড়তেই থাকে। শনিবারের সেই রাত দেশজুড়ে আলোচনাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে রাস্তায় সংঘর্ষ
ক্ষমতায় ফিরে অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে একের পর এক শহরে অভিযান চালায় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। মিনিয়াপোলিস সেন্ট পল এলাকায় বড় সোমালি সম্প্রদায়কে ঘিরে অভিযানে ক্ষোভ আরও বাড়ে। এর আগেই জানুয়ারির শুরুতে একটি গাড়িতে গুলি চালিয়ে এক নারী নিহত হন। রাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফেডারেল ব্যাখ্যার ফারাক তখন থেকেই স্পষ্ট।
দেশজুড়ে প্রতিক্রিয়া প্রতিধ্বনি
মিনিয়াপোলিস যেন হঠাৎ সবার খুব কাছে চলে আসে। কোথাও জন্মদিনের পারিবারিক আড্ডায় টেলিভিশনের পর্দায় ভেসে ওঠে রক্তাক্ত খবর, কোথাও শিক্ষক ভাবেন শ্রেণিকক্ষে ছাত্রদের প্রশ্নের উত্তর কীভাবে দেবেন। কেউ ক্ষোভে কাঁদেন, কেউ আবার বিক্ষোভকারীদের দায়ী করেন। একই পরিবারের, একই ভোটের পছন্দ থাকা সত্ত্বেও মতভেদ প্রকাশ্যে আসে।
সমর্থন, সংশয় আর ভয়ের সহাবস্থান
অনেকে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সবার আছে। আবার কেউ মনে করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে বাধা দিলে পরিণতি ভোগ করতেই হয়। এই বিপরীত অবস্থানই দেখিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র কতটা মেরুকৃত। মিনেসোটার ঘটনা তাই শুধু একটি শহরের নয়, গোটা দেশের নৈতিক সংকটের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

প্রশাসনের পিছু হটা ও অস্থির ভবিষ্যৎ
তীব্র জনরোষের মুখে হোয়াইট হাউস মিনিয়াপোলিসে অভিযানের নেতৃত্বে থাকা এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এটিকে অনেকেই শহরের ভেতরে আক্রমণাত্মক অভিযানে সাময়িক পিছু হটা হিসেবে দেখছেন। তবু প্রশ্ন থেকেই যায়—এই রক্তপাত কি থামবে, নাকি বিভক্ত আমেরিকার গল্প আরও গভীর হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















