মিনিয়াপলিসে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের সময় এক মার্কিন নাগরিকের নিহত হওয়া ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংস্থাগুলোর ভেতরে গভীর আস্থা সংকট তৈরি হয়েছে। সাবেক ও বর্তমান বহু কর্মকর্তা বলছেন, শহুরে পরিবেশে অতিরিক্ত আগ্রাসী কৌশল শুধু সাধারণ মানুষের জীবনকেই ঝুঁকিতে ফেলছে না, বিপদের মুখে পড়ছেন নিজেরাও। দীর্ঘ সময়ের ডিউটি, গ্রেপ্তারের কোটা এবং জনরোষ একসঙ্গে মিলে মনোবল ভেঙে দিচ্ছে।

এই হতাশার প্রতিচ্ছবি মিলেছে অবসরপ্রাপ্ত ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা অস্কার হ্যাগেলসিবের কথায়। প্রায় পঁচিশ বছর দায়িত্ব পালনের পর তিনি বলছেন, মিনিয়াপলিসে যা ঘটছে তা আইন প্রয়োগের স্বাভাবিক সীমার অনেক বাইরে। তাঁর ভাষায়, ভেতরের শহরে বিশাল শক্তি নামিয়ে সমস্যার সমাধান হয় না, বরং বিশৃঙ্খলা বাড়ে এবং প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হয়। ট্রাম্পকে একাধিকবার ভোট দেওয়া এই সাবেক কর্মকর্তা মনে করেন, এভাবে এজেন্টদের এমন পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়া তাদের প্রতি অবিচার।

শহুরে অভিযানে বাড়ছে ঝুঁকি
মিনিয়াপলিসে সাম্প্রতিক সপ্তাহে দুইজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর আতঙ্ক আরও বেড়েছে। সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা গিল কার্লিকাওস্কে বলছেন, সীমান্তে কাজের জন্য প্রশিক্ষিত বহু এজেন্টের শহরের ভেতরে পুলিশি অভিযানের অভিজ্ঞতা নেই। তাঁর মতে, অশান্তিহীন বিক্ষোভকারীদের ওপর রাসায়নিক উপাদান বা পেপার বল ব্যবহারের মতো কৌশল আইন প্রয়োগের স্বীকৃত রীতির সঙ্গে খাপ খায় না। এসব দৃশ্য দেখে অনেক এজেন্টই আবার সীমান্তে ফিরতে চাইছেন।
মনোবল ভাঙছে ভেতরে ভেতরে
অনেক কর্মকর্তা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতির প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে সংস্থাগুলোর ভাবমূর্তি নষ্ট করবে। নিয়োগ ও ধরে রাখার ক্ষেত্রেও সংকট তৈরি হতে পারে। কেউ কেউ বলছেন, রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলে সবচেয়ে দৃশ্যমান সংস্থা হিসেবে অভিবাসন বিভাগ ভেঙে দেওয়ার দাবিও উঠতে পারে। যদিও ইউনিয়ন নেতৃত্বের দাবি, মনোবল এখনো শক্ত এবং স্বেচ্ছাসেবীর অভাব নেই, তবু বাস্তব অভিজ্ঞতা ভিন্ন ছবি দেখাচ্ছে বলে অনেকে মনে করছেন।
হোয়াইট হাউসের দোষারোপ রাজনীতি
এই সহিংসতা নিয়ে প্রশাসনের প্রতিক্রিয়াও বিতর্ক উসকে দিয়েছে। হোয়াইট হাউস ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন অঙ্গরাজ্য প্রশাসনকে দায়ী করছে। প্রেস সচিবের বক্তব্যে বলা হয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন ফেডারেল বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা না করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেছে। যদিও পরে প্রেসিডেন্ট কিছুটা নরম সুরে রাজ্য গভর্নরের সঙ্গে আলোচনার কথা বলেছেন, প্রশাসনের অন্য মুখপাত্ররা আগের অবস্থানেই অনড়।

তদন্তের আগেই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ
অনেক এজেন্ট ক্ষুব্ধ হয়েছেন এ কারণে যে পূর্ণ তদন্তের আগেই শীর্ষ পর্যায় থেকে এজেন্টদের নির্দোষ ঘোষণা করা হয়েছে। একজন বর্তমান কর্মকর্তা বলছেন, আগে এমন ঘটনায় সরকারকে সন্দেহের সুবিধা দিতেন, এখন আর কোনো বক্তব্যেই আস্থা রাখতে পারছেন না। সংগঠিত বিক্ষোভকারীরা যখন অভিযান নজরদারি করছে, ভিডিও করছে, তখন পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়া মাঠে নামানোকে তিনি উল্টো ফলপ্রসূ বলে মনে করছেন।

বড় অপরাধ ছেড়ে ছোট লক্ষ্যবস্তু
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হিসেবে উঠে আসছে অভিজ্ঞ তদন্তকারীদের অন্য কাজে সরিয়ে নেওয়া। শিশু নির্যাতন, মাদক পাচার বা সন্ত্রাসবাদের মতো জটিল অপরাধের তদন্ত ছেড়ে অনেক এজেন্টকে কেবল অবৈধ অভিবাসী ধরার কাজে পাঠানো হয়েছে। হ্যাগেলসিবের তুলনায়, এটি যেন খুনের তদন্তকারীকে পথচারী আইন ভঙ্গকারীদের ধরতে নামানো। তাঁর মতে, এতে নিরাপত্তা যেমন দুর্বল হচ্ছে, তেমনি সংস্থার মূল উদ্দেশ্য ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















