ইউরোপের কট্টর ডানপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক শুরু থেকেই অস্বস্তিকর ছিল। ট্রাম্পের উত্থান একসময় ইউরোপীয় জাতীয়তাবাদী দলগুলোর জন্য রাজনৈতিক গতি তৈরি করলে ও এখন সেই সম্পর্কই তাদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের হুমকি, ভেনেজুয়েলায় সামরিক তৎপরতা এবং ইউরোপ বিরোধী বক্তব্য ইউরোপের ডানপন্থী শিবিরে স্পষ্ট অস্বস্তি তৈরি করেছে।
গ্রিনল্যান্ড ও ভেনেজুয়েলা নিয়ে ক্ষোভ
সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের ইঙ্গিত দেন এবং ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালান। এসব পদক্ষেপ ইউরোপের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সরাসরি আঘাত বলে মনে করছেন অনেক নেতা। ব্রিটেনের কট্টর ডানপন্থী নেতা নাইজেল ফ্যারাজ গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যকে প্রকাশ্য শত্রুতামূলক আচরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ফ্রান্সের জাতীয় সমাবেশ দলের নেতা জর্দান বারেলা এ অবস্থানকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন এবং ফ্রান্সের ওপর শুল্ক চাপের হুমকিকে রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইল বলেছেন।

মিত্রদের মধ্যেও দূরত্ব
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, যিনি এতদিন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন, আফগানিস্তানে ইউরোপীয় সেনাদের ভূমিকা খাটো করার বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ওই যুদ্ধে ইতালির বহু সেনা প্রাণ হারিয়েছেন ও আহত হয়েছেন। তার ভাষায়, বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখতে পারস্পরিক সম্মান অপরিহার্য।
রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়ছে
ইউরোপের কট্টর ডানপন্থী দলগুলো অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, সীমান্ত সুরক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষার মতো বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে মিল খুঁজে পেলেও এখন তার সঙ্গে প্রকাশ্য সম্পর্ক রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, ইউরোপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ক্রমেই কমছে। জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার মনে করেন এমন মানুষের হার নেমে এসেছে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে।

মধ্যপন্থীদের আক্রমণের সুযোগ
এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ইউরোপের মধ্যপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলো কট্টর ডানপন্থীদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রভাবশালী নেতা মানফ্রেড ওয়েবার প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন, কট্টর ডানপন্থীরা ইউরোপের পক্ষে থাকবে নাকি ওয়াশিংটনের উপনিবেশে পরিণত হবে।
দলগুলোর ভেতরে বিভাজন
জার্মানির বিকল্প ফর জার্মানি দলের ভেতরেও ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে মতভেদ স্পষ্ট। কেউ কেউ গ্রিনল্যান্ড ও ভেনিজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার সমালোচনা করছেন, আবার কেউ আন্তর্জাতিক আইন নতুন করে নির্ধারণের কথা বলছেন। এই বিভক্ত অবস্থান ইউরোপের ডানপন্থী রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















