বরগুনা-২ আসনের তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মণি বলেছেন, তিনি এমপি থাকা অবস্থায় কোনো চাঁদাবাজকে প্রশ্রয় দেননি। চাঁদাবাজির অভিযোগে পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতিকে পুরো সময় জেলেই থাকতে হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পাথরঘাটা উপজেলার খলিফার হাটে এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
এমপি থাকাকালীন অভিজ্ঞতার বর্ণনা
নুরুল ইসলাম মণি তার বক্তব্যে একটি ঘটনার কথা তুলে ধরে বলেন, তিনি যখন সংসদ সদস্য ছিলেন, তখন পাথরঘাটা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন একজন তরুণ। সেই সময় তিনি চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েন এবং চিংড়ি মাছের পোনা থেকেও চাঁদা আদায় করতেন। বিষয়টি জানার পর তিনি একাধিকবার সরাসরি নিষেধ করেন। এমনকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও নির্দেশ দেন তাকে সতর্ক করতে।

মণি বলেন, তিনি ওই তরুণকে ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন, যাতে অবৈধ পথে অর্থ উপার্জন করতে না হয়। কিন্তু কোনো নিষেধই কাজে আসেনি। শেষ পর্যন্ত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং তিনি যতদিন এমপি ছিলেন, ততদিন ওই ছাত্রদল নেতা কারাগারেই ছিলেন।
চাঁদাবাজদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি
জনসভায় চাঁদাবাজদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে মণি বলেন, যারা চাঁদাবাজিতে জড়িত, তাদের এখনই ভালো পথে ফিরে আসা উচিত। তিনি বলেন, যদি তারা সংশোধন না হয়, তাহলে আগামী নির্বাচনে তাকে ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য বানালে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে জয়ী হলে পরদিন থেকেই চাঁদাবাজরা কারাগারে যাবে। বরগুনায় তাদের জায়গা হবে জেলে, রাস্তায় নয়।
চাঁদাবাজদের প্রশ্রয় না দেওয়ার ঘোষণা

স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নুরুল ইসলাম মণি বলেন, এমপি থাকাকালীন দীর্ঘ সময়ে তিনি কখনো কোনো চাঁদাবাজ, চোর বা ডাকাতকে আশ্রয় দেননি। তার সঙ্গে কখনোই এসব অপরাধে জড়িত কেউ চলাফেরা করেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। যারা ভুল পথে আছে, তাদের জন্য কাজের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা সৎ পথে উপার্জন করে ভালো মানুষ হওয়ার সুযোগ পায়।
জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে মন্তব্য
জনসভায় জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে মন্তব্য করে নুরুল ইসলাম মণি বলেন, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় দাঁড়িপাল্লার যুগ শেষ। তিনি বলেন, দেশ এখন ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, পুরোনো রাজনীতি দিয়ে আর চলবে না।
তার বক্তব্যে পুরো জনসভায় চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অঙ্গীকারই ছিল সবচেয়ে আলোচিত বিষয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















