ইউএনবি নিউজ
কয়েক সপ্তাহের শীত ও ঘন কুয়াশার পর নড়াইলে আবার ফিরেছে ঝকঝকে রোদ। এতে নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে জেলার বোরো ধানের মাঠ।
এখন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। জেলার সর্বত্র পুরোদমে চলছে বোরো ধানের চারা রোপণ। বোরো মৌসুম এখন পুরোপুরি গতি পেয়েছে।
গত দুই সপ্তাহের অনুকূল আবহাওয়া কৃষিকাজের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার চারা, সার কিংবা সেচ সুবিধার কোনো ঘাটতি নেই। ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে নির্বিঘ্ন বোরো মৌসুম বলে মনে করছেন তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে নড়াইলে বোরো ধানের আবাদ রেকর্ড পরিমাণ জমিতে হয়েছে, যা গত তিন বছরের তুলনায় বেশি।

মৌসুমের শুরুতে টানা শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে চারা রোপণে বিলম্ব হয়েছিল বলে জানান কৃষকেরা। তবে সাম্প্রতিক রোদেলা আবহাওয়ায় জমি ও কৃষকদের মনোবল দুটোই চাঙা হয়েছে। এতে দ্রুত চারা রোপণে উৎসাহিত হচ্ছেন তারা।
নড়াইল সদর উপজেলার চৌগাছা গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম শেখ জানান, তিনি ১৮০ শতক জমিতে বোরো চারা রোপণ করছেন এবং চারার কোনো সংকট নেই।
আরেক কৃষক আতাউর রহমান জানান, তিনি তিন একর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন। বর্তমান আবহাওয়াকে তিনি অত্যন্ত অনুকূল বলে মন্তব্য করেন।
পঁচাত্তর বছর বয়সী বদশা শেখ চারা রোপণের আগে জমি চাষ ও সমতল করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অন্যদিকে মোহাম্মদ মুরাদ জানান, এখন জমি প্রস্তুতে গবাদিপশুর পরিবর্তে বিদ্যুৎচালিত পাওয়ার টিলার ব্যবহার করা হচ্ছে, এতে সময় ও খরচ দুটোই কমছে।
১৩৫ শতক জমিতে উচ্চফলনশীল রড মিনিকেট জাতের ধান আবাদ করছেন সাগর শেখ। তিনি বলেন, ভালো ফলন, বাজারে ভালো দাম এবং মানসম্মত খড় পাওয়ার কারণেই তিনি এই জাতটি বেছে নিয়েছেন।
নড়াইলের কৃষকেরা জানান, সার, কীটনাশক ও বিদ্যুৎচালিত সেচ সুবিধা পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এ মৌসুমে চাষযোগ্য প্রায় কোনো জমিই পতিত থাকছে না।

একজন কৃষক বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং মৌসুমের শেষ পর্যন্ত উপকরণের সরবরাহ বজায় থাকলে ভালো ফলনের ব্যাপারে তারা আশাবাদী।
নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, ২০২৫–২৬ মৌসুমে ৫০ হাজার ২৯৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪–২৫ মৌসুমে আবাদ হয়েছিল ৫০ হাজার ২৮০ হেক্টর এবং ২০২৩–২৪ মৌসুমে ৫০ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে। গত তিন বছরে বোরো আবাদ বেড়েছে মোট ৬৭ হেক্টর।
তিনি আরও জানান, চলতি বছর ২ হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ মানসম্মত বীজতলা, যা প্রমাণ করে যে চারার কোনো ঘাটতি নেই।
অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত কৃষি উপকরণের কারণে নড়াইলের কৃষকেরা এবারও একটি উৎপাদনমুখী বোরো মৌসুমের আশা করছেন। এর মাধ্যমে জেলায় ধান আবাদ বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















