১০:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেন এখনও নাগালের বাইরে? যুক্তরাষ্ট্রে আফগান অভিবাসীদের তথ্য সংগ্রহ ঘিরে নতুন উদ্বেগ, জোরালো হচ্ছে বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রে কমছে সহিংস অপরাধ, স্বস্তি ফিরছে শহরগুলোতে সাবেক রাষ্ট্রপতি হামিদ ও সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রে সুপারমার্কেটের সামনে গাড়িচাপায় ৮২ বছরের নারী নিহত, বিচারের দাবিতে পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, দেশে প্রাণহানি বেড়ে ৪৩ সিলেটে গাছ থেকে তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত মুম্বাইয়ের গল্পে গুলজারের ৭৬ বছর: যে শহর এক কিশোর অভিবাসীকে কবি বানিয়েছে পাঁচ বইয়ে পাঁচ ভুবনের যাত্রা, ইতিহাস থেকে ভবিষ্যৎ—পাঠকের জন্য নতুন পাঁচ ঠিকানা সৌদি আরবকে পরমাণু জ্বালানি সমৃদ্ধকরণে ছাড়, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রশ্ন—‘আমাদের নয় কেন?’

ঝিনাইদহ থেকে ইউরোপ: বিশ্ববাজারে স্বাদ ছড়াচ্ছে বাংলাদেশের খেজুরের গুড়

ইউএনবি

শীত এলেই ঝিনাইদহের গ্রামীণ অর্থনীতিকে চেনা পরিচয় দেয় খেজুরের গুড়ের মিষ্টি ঘ্রাণ। আর এখন সেই গুড় শুধু দেশের ঘরোয়া টেবিলেই নয়, পাড়ি জমাচ্ছে হাজার হাজার মাইল দূরের ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারেও।

অনুকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি শীতে ঝিনাইদহে খেজুরের রস ও গুড় উৎপাদনে দেখা গেছে রেকর্ড সাফল্য। জেলার রস সংগ্রাহকরা সরকারি লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উৎপাদন করতে পারছেন, যার ফলে ইউরোপ ও আমেরিকায় রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহে নিয়োজিত ঐতিহ্যবাহী ‘গাছি’রা এ মৌসুমে ব্যাপক পরিসরে গুড় উৎপাদন শুরু করেছেন। উৎপাদন বাড়ায় স্থানীয় বাজারে বেচাকেনা যেমন বেড়েছে, তেমনি অনলাইনেও চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদকদের ভাষ্য, আগের বছরের তুলনায় এবার গুড়ের মান ভালো হওয়ায় তারা বেশি দামে বিক্রি করতে পারছেন।

দেশের গন্ডি পেরিয়ে ঝিনাইদহের গুড় যাচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকায় « বাংলাখবর  প্রতিদিন

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ছয়টি উপজেলায় মোট এক লাখ বিয়াল্লিশ হাজার ২৩৫টি খেজুর গাছ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক লাখ বারো হাজার ৭৬০টি গাছ রস সংগ্রহের উপযোগী। চলতি মৌসুমে প্রায় ৪৮ দশমিক ১৪ লাখ লিটার খেজুরের রস এবং ৮৭২ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

কর্তৃপক্ষ জানায়, ঝিনাইদহে উৎপাদিত গুড় স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ঢাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে এবং প্রবাসী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হচ্ছে।

সদর উপজেলার বাঁকিরা গ্রামের গুড় উৎপাদক আব্দুর রশিদ জানান, তিনি প্রতি বছর কানাডায় গুড় পাঠান। তার ভাষায়, গ্রামের প্রবাসী আব্দুল্লাহ আল মামুন নিয়মিত তার কাছ থেকে গুড় কেনেন। গুড়ের মান অনুযায়ী এক ভর গুড়ের দাম এক হাজার ৩০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

কৃষ্ণপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেন, তার বড় ভাই যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন এবং সেখানকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের চাহিদা মেটাতে প্রতিবছর গ্রামের গুড় পাঠানো হয়।

কোটচাঁদপুর উপজেলার গাছি মাহির উদ্দিন জানান, অধিকাংশ উৎপাদক তাদের গুড় সাফদারপুর বাজারে নিয়ে আসেন, যেখানে গুণগত মান বজায় রাখা হয়। তার মতে, এখানে ভেজাল গুড় খুব কমই পাওয়া যায়। ভালো মানের কারণে বাইরের এলাকার ব্যবসায়ীরাও এই বাজারে গুড় কিনতে আসেন। বাজারে এক জোড়া গুড়ের হাঁড়ি প্রায় তিন হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

ইউরোপ-আমেরিকায় যাচ্ছে ঝিনাইদহের খেজুর গুড়

অনলাইন বিক্রির জনপ্রিয়তা গুড়ের ব্যবসায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ঝিনাইদহ জেলা শহরের বেপারিপাড়া এলাকার নারী উদ্যোক্তা আইনুননাহার আফসারি জানান, তিনি সারা দেশে অনলাইনের মাধ্যমে গুড় বিক্রি করেন। তিনি সদর উপজেলার বাঁকিরা গ্রামের গাছি বাবলু রহমানের কাছ থেকে প্রতি কেজি ২৬০ টাকায় গুড় কিনে লাভে বিক্রি করেন।

সাফদারপুর গুড় বাজারের ইজারাদার আবুল কাশেম বাবু বলেন, বছরের পর বছর ধরে এ অঞ্চলে খেজুর গাছের সংখ্যা কিছুটা কমেছে, তবে প্রাকৃতিকভাবে নতুন চারা গজাচ্ছে। সরকারের উদ্যোগে খেজুরের গুড়ের ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা গেলে গাছিরা টিকে থাকতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন। শীতকালে রস ও গুড় বিক্রি করে কৃষকরা ভালো আয় করেন বলেও জানান তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৪ থেকে ৪০ বছর ধরে ব্যবসা করা ব্যবসায়ীদের নিয়ে সাফদারপুর বাজার সপ্তাহে দুই দিন, শনিবার ও মঙ্গলবার বসে। প্রতি সপ্তাহে এ বাজারে সাত থেকে আট কোটি টাকার লেনদেন হয়। সরকারি সহায়তা পেলে গুড় উৎপাদন আরও বাড়বে এবং তা দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে।

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, তীব্র শীত ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি বছর জেলা ইতোমধ্যে গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। জেলাজুড়ে বড় ও ছোট মিলিয়ে ১৯৭টি বাজারে গুড় বিক্রি হয় এবং মাত্র দুই দিনের সাপ্তাহিক বাজারেই প্রায় ৫০ কোটি টাকার গুড় বিক্রি হয়ে থাকে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর: বদলি–পদায়নে অস্থিরতা

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেন এখনও নাগালের বাইরে?

ঝিনাইদহ থেকে ইউরোপ: বিশ্ববাজারে স্বাদ ছড়াচ্ছে বাংলাদেশের খেজুরের গুড়

০৬:২১:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

ইউএনবি

শীত এলেই ঝিনাইদহের গ্রামীণ অর্থনীতিকে চেনা পরিচয় দেয় খেজুরের গুড়ের মিষ্টি ঘ্রাণ। আর এখন সেই গুড় শুধু দেশের ঘরোয়া টেবিলেই নয়, পাড়ি জমাচ্ছে হাজার হাজার মাইল দূরের ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারেও।

অনুকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি শীতে ঝিনাইদহে খেজুরের রস ও গুড় উৎপাদনে দেখা গেছে রেকর্ড সাফল্য। জেলার রস সংগ্রাহকরা সরকারি লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উৎপাদন করতে পারছেন, যার ফলে ইউরোপ ও আমেরিকায় রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহে নিয়োজিত ঐতিহ্যবাহী ‘গাছি’রা এ মৌসুমে ব্যাপক পরিসরে গুড় উৎপাদন শুরু করেছেন। উৎপাদন বাড়ায় স্থানীয় বাজারে বেচাকেনা যেমন বেড়েছে, তেমনি অনলাইনেও চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদকদের ভাষ্য, আগের বছরের তুলনায় এবার গুড়ের মান ভালো হওয়ায় তারা বেশি দামে বিক্রি করতে পারছেন।

দেশের গন্ডি পেরিয়ে ঝিনাইদহের গুড় যাচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকায় « বাংলাখবর  প্রতিদিন

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ছয়টি উপজেলায় মোট এক লাখ বিয়াল্লিশ হাজার ২৩৫টি খেজুর গাছ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক লাখ বারো হাজার ৭৬০টি গাছ রস সংগ্রহের উপযোগী। চলতি মৌসুমে প্রায় ৪৮ দশমিক ১৪ লাখ লিটার খেজুরের রস এবং ৮৭২ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

কর্তৃপক্ষ জানায়, ঝিনাইদহে উৎপাদিত গুড় স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ঢাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে এবং প্রবাসী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হচ্ছে।

সদর উপজেলার বাঁকিরা গ্রামের গুড় উৎপাদক আব্দুর রশিদ জানান, তিনি প্রতি বছর কানাডায় গুড় পাঠান। তার ভাষায়, গ্রামের প্রবাসী আব্দুল্লাহ আল মামুন নিয়মিত তার কাছ থেকে গুড় কেনেন। গুড়ের মান অনুযায়ী এক ভর গুড়ের দাম এক হাজার ৩০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

কৃষ্ণপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেন, তার বড় ভাই যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন এবং সেখানকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের চাহিদা মেটাতে প্রতিবছর গ্রামের গুড় পাঠানো হয়।

কোটচাঁদপুর উপজেলার গাছি মাহির উদ্দিন জানান, অধিকাংশ উৎপাদক তাদের গুড় সাফদারপুর বাজারে নিয়ে আসেন, যেখানে গুণগত মান বজায় রাখা হয়। তার মতে, এখানে ভেজাল গুড় খুব কমই পাওয়া যায়। ভালো মানের কারণে বাইরের এলাকার ব্যবসায়ীরাও এই বাজারে গুড় কিনতে আসেন। বাজারে এক জোড়া গুড়ের হাঁড়ি প্রায় তিন হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

ইউরোপ-আমেরিকায় যাচ্ছে ঝিনাইদহের খেজুর গুড়

অনলাইন বিক্রির জনপ্রিয়তা গুড়ের ব্যবসায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ঝিনাইদহ জেলা শহরের বেপারিপাড়া এলাকার নারী উদ্যোক্তা আইনুননাহার আফসারি জানান, তিনি সারা দেশে অনলাইনের মাধ্যমে গুড় বিক্রি করেন। তিনি সদর উপজেলার বাঁকিরা গ্রামের গাছি বাবলু রহমানের কাছ থেকে প্রতি কেজি ২৬০ টাকায় গুড় কিনে লাভে বিক্রি করেন।

সাফদারপুর গুড় বাজারের ইজারাদার আবুল কাশেম বাবু বলেন, বছরের পর বছর ধরে এ অঞ্চলে খেজুর গাছের সংখ্যা কিছুটা কমেছে, তবে প্রাকৃতিকভাবে নতুন চারা গজাচ্ছে। সরকারের উদ্যোগে খেজুরের গুড়ের ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা গেলে গাছিরা টিকে থাকতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন। শীতকালে রস ও গুড় বিক্রি করে কৃষকরা ভালো আয় করেন বলেও জানান তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৪ থেকে ৪০ বছর ধরে ব্যবসা করা ব্যবসায়ীদের নিয়ে সাফদারপুর বাজার সপ্তাহে দুই দিন, শনিবার ও মঙ্গলবার বসে। প্রতি সপ্তাহে এ বাজারে সাত থেকে আট কোটি টাকার লেনদেন হয়। সরকারি সহায়তা পেলে গুড় উৎপাদন আরও বাড়বে এবং তা দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে।

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, তীব্র শীত ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি বছর জেলা ইতোমধ্যে গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। জেলাজুড়ে বড় ও ছোট মিলিয়ে ১৯৭টি বাজারে গুড় বিক্রি হয় এবং মাত্র দুই দিনের সাপ্তাহিক বাজারেই প্রায় ৫০ কোটি টাকার গুড় বিক্রি হয়ে থাকে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর: বদলি–পদায়নে অস্থিরতা