ইউরোপ ভ্রমণের পরিকল্পনায় শেনজেন ভিসার জটিল কাগজপত্র অনেক সময় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সেই ঝামেলা এড়িয়ে ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের জন্য এক আকর্ষণীয় বিকল্প হয়ে উঠছে আলবেনিয়া। সহজ প্রবেশনীতি, তুলনামূলক কম খরচ এবং ভূমধ্যসাগরীয় সৌন্দর্যের কারণে দেশটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
ল্যান্ড অব ঈগলস নামে পরিচিত আলবেনিয়ায় রয়েছে নীলাভ সমুদ্রতট, ঐতিহাসিক শহর এবং পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক দৃশ্য। পশ্চিম ইউরোপের মতো ভিড় বা অতিরিক্ত ব্যয় ছাড়াই ইউরোপীয় অভিজ্ঞতা পেতে আগ্রহীদের কাছে এটি এখন অন্যতম পছন্দের গন্তব্য।
শেনজেন ছাড়াই ইউরোপে প্রবেশের সুযোগ
আলবেনিয়া শেনজেন অঞ্চলের বাইরে থাকায় ভারতীয় ভ্রমণকারীদের জন্য প্রবেশ প্রক্রিয়া অনেক সহজ। অনলাইনে ই-ভিসার আবেদন করা যায়, যেখানে দূতাবাসে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। যাদের বৈধ যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের ভিসা বা রেসিডেন্স পারমিট রয়েছে, তারা আলবেনিয়ায় ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করতে পারেন। একবার প্রবেশ করলে ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন থাকার সুযোগ রয়েছে। এই সহজ ব্যবস্থার কারণে প্রথমবার ইউরোপ ভ্রমণকারীদের কাছেও আলবেনিয়া দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

কেন সবাই আলবেনিয়ার দিকে ঝুঁকছে
খরচের দিক থেকে আলবেনিয়া ইউরোপের অন্যতম সাশ্রয়ী দেশ। হোটেল, খাবার এবং যাতায়াতের ব্যয় পশ্চিম ইউরোপের তুলনায় অনেক কম। অনেক ভ্রমণকারীর কাছে এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতোই সাশ্রয়ী মনে হয়। আলবেনিয়ান টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, এনডিটিভির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শুরুর দিকে ভারতীয় পর্যটকের সংখ্যা ১০৩ শতাংশ বেড়েছে। জর্জিয়া ও আজারবাইজানের মতো গন্তব্যের পাশে এখন আলবেনিয়ার নামও উঠে আসছে।
আড়ালের ইউরোপীয় সৌন্দর্য
আলবেনিয়া ধীরে ধীরে ইউরোপের এক লুকানো রত্ন হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। আইওনিয়ান ও আদ্রিয়াটিক সাগরের নীলাভ জলরাশি গ্রিস ও ইতালির সৈকতের সঙ্গে তুলনীয়। হাজার জানালার শহর নামে পরিচিত বেরাৎ এবং গিরোকাস্তের ইউনেস্কো ঘোষিত ঐতিহাসিক শহর। আলবেনিয়ান আল্পসে পাহাড়ি ভ্রমণ ও প্রকৃতির মাঝে অবকাশ কাটানোর সুযোগ রয়েছে। পর্যটকের চাপ কম হওয়ায় পরিবেশ এখনো তুলনামূলক শান্ত ও বাণিজ্যিক প্রভাবমুক্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ভ্রমণ ভ্লগ দেশটির জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়েছে।
ঘুরে দেখার সেরা স্থান

কসামিলে রয়েছে স্বচ্ছ জল ও মনোমুগ্ধকর সৈকত, যা করফু থেকে অল্প ফেরি যাত্রায় পৌঁছানো যায়। রাজধানী তিরানা রঙিন স্থাপত্য, ক্যাফে সংস্কৃতি ও প্রাণবন্ত রাস্তায় ভরপুর। বেরাৎ ও গিরোকাস্তের অটোমান যুগের স্থাপত্যে সমৃদ্ধ ইউনেস্কো শহর। দেরমি এলাকায় নীল জল, সূর্যস্নাত পাথুরে সৈকত এবং পোস্টকার্ডের মতো দৃশ্য দেখা যায়। ভ্রমণ বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকের আলবেনিয়া অনেকটা বিশ বছর আগের ক্রোয়েশিয়ার মতো—সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং এখনো সাশ্রয়ী।
২০২৬ সালে কেন ভ্রমণের সেরা সময়
২০২৫ সালের শুরুতেই পর্যটক সংখ্যা বেড়েছে প্রায় পাঁচ শতাংশ। এখনো খরচ তুলনামূলক কম এবং আইওনিয়ান উপকূলে রয়েছে নির্জন সৈকত ও স্বচ্ছ জল। পর্যটকের অতিরিক্ত ভিড় হওয়ার আগেই ২০২৬ সাল হতে পারে আলবেনিয়া ঘুরে দেখার আদর্শ সময়।
ভিসা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

আলবেনিয়া শেনজেন অঞ্চলের সঙ্গে কিছু নিয়ম সামঞ্জস্য করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের মতো ভারতীয়রাও ৯০ দিন পর্যন্ত থাকতে পারেন। ভারতীয় নাগরিকদের জন্য টাইপ সি ই-ভিসার সুবিধা রয়েছে, যা অনলাইনে আবেদন করা যায়। বৈধ বহুবার প্রবেশযোগ্য শেনজেন, যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের ভিসাধারীরা ৯০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করতে পারেন।
যাত্রার আগে জানা দরকার
আলবেনিয়া দ্রুত আধুনিক হলেও দেশটি এখনো নগদনির্ভর। তাই শুধু কার্ডের ওপর নির্ভর না করে ইউরো সঙ্গে রাখা ভালো। বিমানবন্দরে স্থানীয় মুদ্রা লেকে রূপান্তর বা এটিএম ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে। সামান্য প্রস্তুতি নিলে ভ্রমণ হবে আরও স্বচ্ছন্দ ও স্মরণীয়।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার
ভারত ও আলবেনিয়ার মধ্যে অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন, প্রযুক্তি ও ওষুধ শিল্পে সহযোগিতা বাড়ছে। এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে ভ্রমণ, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক বিনিময়কে আরও সহজ করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















