১২:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
চীনের ছোট শহরে বার্গারের দখল: নতুন বাজারে ঝুঁকি নিয়েও এগোচ্ছে বহুজাতিক ফাস্টফুড জায়ান্ট চীন কি গোপনে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে? মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নতুন আশঙ্কা ফ্রিজড মানি ছাড় নিয়ে বিভ্রান্তি, আলোচনার আগেই নতুন শর্ত তুলল ইরান ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধ: সরাসরি আলোচনার প্রস্তুতি, তবে সমাধান এখনো দূরে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত, মাইন অপসারণে সমস্যায় ইরান শান্তি আলোচনায় দুই পক্ষের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা শুরু, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থামাতে ‘গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা শুরু, উত্তেজনার মাঝেই নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ তেল আছে শুধু সংসদে, মাঠে নেই—জ্বালানি সংকটে কৃষি ও অর্থনীতিতে বিপদের শঙ্কা আইপিএলে টানা হার থামাতে মরিয়া চেন্নাই, দিল্লির বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই

বুরকিনা ফাসোতে সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করল সামরিক সরকার

বুরকিনা ফাসোর সামরিক নেতৃত্বাধীন সরকার দেশটির সব রাজনৈতিক দল ভেঙে দিয়েছে এবং দল পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনগত কাঠামো বাতিল করেছে। বৃহস্পতিবার দেশটির মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদিত এক ডিক্রির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময় এলো, যখন ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের অভ্যুত্থানের পর থেকেই সামরিক শাসকরা ধাপে ধাপে রাজনৈতিক কার্যক্রম সীমিত করে আসছে। ক্ষমতা দখলের পর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থগিত করার ধারাবাহিকতায় এটি সর্বশেষ কঠোর পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

রাষ্ট্র পুনর্গঠনের যুক্তি সরকারের

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমিল জেরবো জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত একটি বৃহত্তর রাষ্ট্র পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ। তাঁর দাবি, বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অপব্যবহার ও অকার্যকারিতা জমে উঠেছিল।

সরকারি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি সমাজে বিভাজন তৈরি করেছে এবং সামাজিক সংহতি দুর্বল করেছে। এই বাস্তবতায় নতুন পথে এগোনোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বুরকিনা ফাসোর সেনাশাসক ইব্রাহিম ট্রায়োরে যেভাবে বিশ্বের বহু দেশের মানুষের  হৃদয় জিতে নিয়েছেন | The Daily Campus

অভ্যুত্থানের আগে রাজনৈতিক বাস্তবতা

অভ্যুত্থানের আগে বুরকিনা ফাসোতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ছিল একশটিরও বেশি। ২০২০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছিল ১৫টি দল। সামরিক সরকার মনে করছে, এই বহুবিভক্ত রাজনৈতিক কাঠামো কার্যকর শাসনব্যবস্থার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

নতুন ডিক্রির মূল দিক

ডিক্রির মাধ্যমে সব রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলগুলোর কার্যক্রম, অর্থায়ন এবং বিরোধীদলীয় নেতার মর্যাদা সংক্রান্ত আইন বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সংক্রান্ত নতুন আইন বর্তমান অন্তর্বর্তী পরিষদের কাছে পাঠানো হবে বলে মন্ত্রিসভার বৈঠকের কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিলুপ্ত দলগুলোর সব সম্পদ রাষ্ট্রের মালিকানায় হস্তান্তর করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

বুরকিনা ফাসোর সেনাশাসক কীভাবে বিশ্বের বহু দেশের মানুষের হৃদয় জিতে নিয়েছেন  - BBC News বাংলা

নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষাপট

বুরকিনা ফাসো দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে। প্রতিবেশী মালি ও নাইজারের মতো দেশটিও আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেট–সংশ্লিষ্ট ইসলামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতার মুখে পড়েছে। গত এক দশকে এসব সংঘাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

এই নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যেই সামরিক সরকার রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করার পথে এগোচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের ছোট শহরে বার্গারের দখল: নতুন বাজারে ঝুঁকি নিয়েও এগোচ্ছে বহুজাতিক ফাস্টফুড জায়ান্ট

বুরকিনা ফাসোতে সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করল সামরিক সরকার

০৩:০৬:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

বুরকিনা ফাসোর সামরিক নেতৃত্বাধীন সরকার দেশটির সব রাজনৈতিক দল ভেঙে দিয়েছে এবং দল পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনগত কাঠামো বাতিল করেছে। বৃহস্পতিবার দেশটির মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদিত এক ডিক্রির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময় এলো, যখন ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের অভ্যুত্থানের পর থেকেই সামরিক শাসকরা ধাপে ধাপে রাজনৈতিক কার্যক্রম সীমিত করে আসছে। ক্ষমতা দখলের পর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থগিত করার ধারাবাহিকতায় এটি সর্বশেষ কঠোর পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

রাষ্ট্র পুনর্গঠনের যুক্তি সরকারের

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমিল জেরবো জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত একটি বৃহত্তর রাষ্ট্র পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ। তাঁর দাবি, বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অপব্যবহার ও অকার্যকারিতা জমে উঠেছিল।

সরকারি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি সমাজে বিভাজন তৈরি করেছে এবং সামাজিক সংহতি দুর্বল করেছে। এই বাস্তবতায় নতুন পথে এগোনোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বুরকিনা ফাসোর সেনাশাসক ইব্রাহিম ট্রায়োরে যেভাবে বিশ্বের বহু দেশের মানুষের  হৃদয় জিতে নিয়েছেন | The Daily Campus

অভ্যুত্থানের আগে রাজনৈতিক বাস্তবতা

অভ্যুত্থানের আগে বুরকিনা ফাসোতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ছিল একশটিরও বেশি। ২০২০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছিল ১৫টি দল। সামরিক সরকার মনে করছে, এই বহুবিভক্ত রাজনৈতিক কাঠামো কার্যকর শাসনব্যবস্থার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

নতুন ডিক্রির মূল দিক

ডিক্রির মাধ্যমে সব রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলগুলোর কার্যক্রম, অর্থায়ন এবং বিরোধীদলীয় নেতার মর্যাদা সংক্রান্ত আইন বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সংক্রান্ত নতুন আইন বর্তমান অন্তর্বর্তী পরিষদের কাছে পাঠানো হবে বলে মন্ত্রিসভার বৈঠকের কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিলুপ্ত দলগুলোর সব সম্পদ রাষ্ট্রের মালিকানায় হস্তান্তর করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

বুরকিনা ফাসোর সেনাশাসক কীভাবে বিশ্বের বহু দেশের মানুষের হৃদয় জিতে নিয়েছেন  - BBC News বাংলা

নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষাপট

বুরকিনা ফাসো দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে। প্রতিবেশী মালি ও নাইজারের মতো দেশটিও আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেট–সংশ্লিষ্ট ইসলামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতার মুখে পড়েছে। গত এক দশকে এসব সংঘাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

এই নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যেই সামরিক সরকার রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করার পথে এগোচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।