০৫:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
বিশ্বজুড়ে স্থানীয় কনটেন্টের জয়জয়কার, বদলে যাচ্ছে বিনোদনের মানচিত্র বিশ্বজুড়ে বাড়ছে স্থানীয় কনটেন্টের জনপ্রিয়তা, চাপে বৈশ্বিক বিনোদন আধিপত্য এশিয়ায় ডিম উৎপাদনের উত্থান, বাড়ছে প্রাণিকল্যাণ নিয়ে বিতর্ক ত্বকের বয়সের ছাপ কমাতে কতটা কার্যকর ভিটামিনভিত্তিক প্রসাধনী? নতুন ভার্সাই কি ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি আনতে পারবে? কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে চাঞ্চল্য হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, সিলেটে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯ সামাজিক সুরক্ষা ব্যয় নয়, রাষ্ট্রের ভবিষ্যতের বিনিয়োগ কাবুল ‘অক্ষম’ না ‘অনিচ্ছুক’: পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংকট ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন সেপ্টেম্বরের অপেক্ষা: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রকৃত ঝুঁকি এখনও সামনে

বুরকিনা ফাসোতে সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করল সামরিক সরকার

বুরকিনা ফাসোর সামরিক নেতৃত্বাধীন সরকার দেশটির সব রাজনৈতিক দল ভেঙে দিয়েছে এবং দল পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনগত কাঠামো বাতিল করেছে। বৃহস্পতিবার দেশটির মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদিত এক ডিক্রির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময় এলো, যখন ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের অভ্যুত্থানের পর থেকেই সামরিক শাসকরা ধাপে ধাপে রাজনৈতিক কার্যক্রম সীমিত করে আসছে। ক্ষমতা দখলের পর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থগিত করার ধারাবাহিকতায় এটি সর্বশেষ কঠোর পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

রাষ্ট্র পুনর্গঠনের যুক্তি সরকারের

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমিল জেরবো জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত একটি বৃহত্তর রাষ্ট্র পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ। তাঁর দাবি, বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অপব্যবহার ও অকার্যকারিতা জমে উঠেছিল।

সরকারি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি সমাজে বিভাজন তৈরি করেছে এবং সামাজিক সংহতি দুর্বল করেছে। এই বাস্তবতায় নতুন পথে এগোনোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বুরকিনা ফাসোর সেনাশাসক ইব্রাহিম ট্রায়োরে যেভাবে বিশ্বের বহু দেশের মানুষের  হৃদয় জিতে নিয়েছেন | The Daily Campus

অভ্যুত্থানের আগে রাজনৈতিক বাস্তবতা

অভ্যুত্থানের আগে বুরকিনা ফাসোতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ছিল একশটিরও বেশি। ২০২০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছিল ১৫টি দল। সামরিক সরকার মনে করছে, এই বহুবিভক্ত রাজনৈতিক কাঠামো কার্যকর শাসনব্যবস্থার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

নতুন ডিক্রির মূল দিক

ডিক্রির মাধ্যমে সব রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলগুলোর কার্যক্রম, অর্থায়ন এবং বিরোধীদলীয় নেতার মর্যাদা সংক্রান্ত আইন বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সংক্রান্ত নতুন আইন বর্তমান অন্তর্বর্তী পরিষদের কাছে পাঠানো হবে বলে মন্ত্রিসভার বৈঠকের কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিলুপ্ত দলগুলোর সব সম্পদ রাষ্ট্রের মালিকানায় হস্তান্তর করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

বুরকিনা ফাসোর সেনাশাসক কীভাবে বিশ্বের বহু দেশের মানুষের হৃদয় জিতে নিয়েছেন  - BBC News বাংলা

নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষাপট

বুরকিনা ফাসো দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে। প্রতিবেশী মালি ও নাইজারের মতো দেশটিও আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেট–সংশ্লিষ্ট ইসলামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতার মুখে পড়েছে। গত এক দশকে এসব সংঘাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

এই নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যেই সামরিক সরকার রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করার পথে এগোচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বজুড়ে স্থানীয় কনটেন্টের জয়জয়কার, বদলে যাচ্ছে বিনোদনের মানচিত্র

বুরকিনা ফাসোতে সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করল সামরিক সরকার

০৩:০৬:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

বুরকিনা ফাসোর সামরিক নেতৃত্বাধীন সরকার দেশটির সব রাজনৈতিক দল ভেঙে দিয়েছে এবং দল পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনগত কাঠামো বাতিল করেছে। বৃহস্পতিবার দেশটির মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদিত এক ডিক্রির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময় এলো, যখন ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের অভ্যুত্থানের পর থেকেই সামরিক শাসকরা ধাপে ধাপে রাজনৈতিক কার্যক্রম সীমিত করে আসছে। ক্ষমতা দখলের পর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থগিত করার ধারাবাহিকতায় এটি সর্বশেষ কঠোর পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

রাষ্ট্র পুনর্গঠনের যুক্তি সরকারের

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমিল জেরবো জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত একটি বৃহত্তর রাষ্ট্র পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ। তাঁর দাবি, বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অপব্যবহার ও অকার্যকারিতা জমে উঠেছিল।

সরকারি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি সমাজে বিভাজন তৈরি করেছে এবং সামাজিক সংহতি দুর্বল করেছে। এই বাস্তবতায় নতুন পথে এগোনোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বুরকিনা ফাসোর সেনাশাসক ইব্রাহিম ট্রায়োরে যেভাবে বিশ্বের বহু দেশের মানুষের  হৃদয় জিতে নিয়েছেন | The Daily Campus

অভ্যুত্থানের আগে রাজনৈতিক বাস্তবতা

অভ্যুত্থানের আগে বুরকিনা ফাসোতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ছিল একশটিরও বেশি। ২০২০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছিল ১৫টি দল। সামরিক সরকার মনে করছে, এই বহুবিভক্ত রাজনৈতিক কাঠামো কার্যকর শাসনব্যবস্থার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

নতুন ডিক্রির মূল দিক

ডিক্রির মাধ্যমে সব রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলগুলোর কার্যক্রম, অর্থায়ন এবং বিরোধীদলীয় নেতার মর্যাদা সংক্রান্ত আইন বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সংক্রান্ত নতুন আইন বর্তমান অন্তর্বর্তী পরিষদের কাছে পাঠানো হবে বলে মন্ত্রিসভার বৈঠকের কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিলুপ্ত দলগুলোর সব সম্পদ রাষ্ট্রের মালিকানায় হস্তান্তর করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

বুরকিনা ফাসোর সেনাশাসক কীভাবে বিশ্বের বহু দেশের মানুষের হৃদয় জিতে নিয়েছেন  - BBC News বাংলা

নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষাপট

বুরকিনা ফাসো দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে। প্রতিবেশী মালি ও নাইজারের মতো দেশটিও আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেট–সংশ্লিষ্ট ইসলামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতার মুখে পড়েছে। গত এক দশকে এসব সংঘাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

এই নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যেই সামরিক সরকার রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করার পথে এগোচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।