রাজধানীর মুগদা হাসপাতালের গেইটের সামনে থেকে অপহৃত তিন বছরের শিশুটিকে গাইবান্ধা জেলা থেকে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিতকরণ
বৃহস্পতিবার রাতে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার বদরুল আলম মোল্লা জানান, অপহরণের শিকার শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে সে শারীরিকভাবে ভালো আছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।

যেভাবে অপহরণ ঘটে
এর আগে বুধবার দুপুর একটার দিকে মুগদা হাসপাতালের গেইটের বাইরে থেকে শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যায় এক ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক। ঘটনার পরপরই শিশুটির মা মুগদা থানায় মামলা দায়ের করেন।
পরিবারের পটভূমি
শিশুটির বাবা পেশাগত কারণে সুইজারল্যান্ডে বসবাস করেন। পরিবারসহ তারা সেখানেই থাকতেন। তবে প্রায় এক বছর আগে শিশুটির মা ও ছেলে দেশে ফিরে ঢাকার সবুজবাগ এলাকায় বসবাস শুরু করেন।
পুলিশের বর্ণনায় ঘটনার বিবরণ
মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, শিশুটির মা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে মুগদা হাসপাতালে যান। হাসপাতালের সামনে একটি অটোরিকশা ভাড়া করে শিশুটিকে রিকশায় বসিয়ে রেখে তিনি কাছের দোকান থেকে পানি কিনতে যান। সেই সুযোগে রিকশাচালক শিশুটিকে নিয়ে দ্রুত সরে পড়ে।
মায়ের চোখে বিভীষিকাময় মুহূর্ত
শিশুটির মা, ফিজিওথেরাপিস্ট সুমাইয়া আক্তার মিলি বলেন, তিনি রিকশা থেকে নেমে পানি কিনছিলেন। তার ছেলে তখন রিকশার ভেতর দাঁড়িয়ে খেলছিল। নামাতে চাইলে শিশু রাজি হয়নি। রিকশাচালকও তাকে আশ্বস্ত করে বিল মিটিয়ে আসতে বলেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তিনি ফিরে তাকিয়ে দেখেন, রিকশা ও শিশুটি আর সেখানে নেই। সঙ্গে সঙ্গে তিনি দৌড়াতে শুরু করেন এবং আশপাশের সবাইকে জিজ্ঞেস করেন, কিন্তু তখন শিশুটির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পরে বিভিন্ন জেলার পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত অভিযানে শেষ পর্যন্ত গাইবান্ধা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















