নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর আজিমুল কাদের ভূঁইয়া (৪০) নামে এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার বাজনাব ইউনিয়নের বীর বাঘবের গ্রামের একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিচয় ও রাজনৈতিক ভূমিকা
নিহত আজিমুল কাদের ভূঁইয়া ওই এলাকার মৃত মান্নান ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি বেলাব উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র যুগ্মসাধারণ সম্পাদক এবং বাজনাব ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি স্থানীয়ভাবে একটি পোলট্রি খামারের ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
নিখোঁজের ঘটনা
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিজ এলাকার পোলট্রি খামার থেকে বের হওয়ার পর আজিমুল কাদের ভূঁইয়া নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে পরদিন বুধবার তার ভাগিনা মো. উমর ফারুক বাদী হয়ে বেলাব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

খামারের শ্রমিক ও রহস্য
নিহতের পরিবার জানায়, নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৫ দিন আগে আজিমুল কাদের ভূঁইয়া তার পোলট্রি খামারে কাজের জন্য দুইজন শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছিলেন। তাদের একজনের নাম রুবেল জানা গেলেও অন্যজনের পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আশঙ্কার বিষয় হলো, আজিমুল নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে ওই দুই শ্রমিককেও আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে খামারে থাকা সব মুরগিও উধাও হয়ে গেছে। এসব ঘটনায় পুরো বিষয়টি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর স্থানীয়রা গ্রামের একটি ডোবায় বস্তাবন্দি মরদেহ ভাসতে দেখে বেলাব থানায় খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত
বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম আমানউল্লাহ মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাত ৮টার দিকে আজিমুল কাদের ভূঁইয়ার মরদেহ তার পোলট্রি খামারের পাশের একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও বিস্তারিত তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বলা যাবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















