প্যারিসের রাস্তায় টানা পাঁচ দশক ধরে সংবাদপত্র বিক্রি করা এক পাকিস্তানি অভিবাসীর জীবনের গল্প এবার জায়গা করে নিল ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় সম্মানের তালিকায়। চরম দারিদ্র্য, গৃহহীন জীবন আর হামলার অভিজ্ঞতা পেরিয়ে আলী আকবর পেলেন ফ্রান্সের জাতীয় অর্ডার অব মেরিট উপাধি।
এলিসি প্রাসাদে সম্মাননা প্রদান
বুধবার রাতে এলিসি প্রাসাদে এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরোঁ পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া আলী আকবর কে নাইট উপাধিতে ভূষিত করেন। প্যারিসে সম্ভবত শেষ সংবাদপত্র ফেরিওয়ালা হিসেবে পরিচিত এই মানুষটির ফ্রান্সের প্রতি দীর্ঘদিনের অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই এই সম্মান।
অবিশ্বাস্য জীবনযাত্রার প্রশংসা
অনুষ্ঠানে মাকরোঁ আলী আকবরের জীবন কে অভিহিত করেন এক ‘অবিশ্বাস্য নিয়তি’ হিসেবে। তিনি বলেন, কয়েক দশক আগে পাকিস্তান থেকে আসা একজন মানুষ টানা পঞ্চাশ বছর ধরে সংবাদপত্র বিক্রি করে ফ্রান্সকে হৃদয়ে ধারণ করে রেখেছেন। সাঁ জার্মাঁ দে প্রে এলাকার বিখ্যাত ক্যাফেগুলোর কথা উল্লেখ করে মাকরোঁ বলেন, আলী আকবরের কণ্ঠই যেন এই এলাকার পরিচয়, ফরাসি সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠস্বর।

পাড়ার জীবন্ত কিংবদন্তি
উচ্চবিত্ত অধ্যুষিত সাঁ জার্মাঁ দে প্রে এলাকায় রোমাঞ্চকর শিরোনাম তৈরি করে সংবাদপত্র বিক্রি করাই আলী আকবরের পরিচিত স্টাইল। এই অভিনব ভঙ্গিতেই তিনি হয়ে উঠেছেন এলাকার জীবন্ত কিংবদন্তি। ফরাসি ভাষাকে নিজের মতো করে রপ্ত করার জন্যও তার প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট।
একীকরণের অনন্য উদাহরণ
মাকরোঁ বলেন, আলী আকবর এমন এক উদাহরণ, যা ফ্রান্সকে আরও শক্তিশালী ও গর্বিত করে। খারাপ খবরের ভিড়ে তার মতো গল্পগুলোই প্রমাণ করে, দারিদ্র্য থেকে মুক্তির আশায় আসা মানুষগুলো কীভাবে স্বাধীনতার দেশে নতুন জীবন গড়ে তোলে।
আলী আকবরের প্রতিক্রিয়া
সম্মাননা পেয়ে আবেগাপ্লুত আলী আকবর বলেন, তিনি গভীরভাবে অনুপ্রাণিত। আগামী দিনগুলোতে প্যারিসের রাস্তায় তিনি গর্বের সঙ্গে বলবেন, তিনি এখন একজন নাইট।
সংগ্রামের শুরু থেকে সম্মানের শিখরে
পাকিস্তান থেকে ফ্রান্সে আসার পর প্রথমে নাবিক, পরে একটি রেস্তোরাঁয় বাসন ধোয়ার কাজ করেন আলী আকবর। পরে প্যারিসে ফরাসি ব্যঙ্গ লেখক জর্জ বের্নিয়ের সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক পত্রিকা বিক্রির সুযোগ পান। সেখান থেকেই শুরু হয় তার দীর্ঘ সংবাদপত্র ফেরিওয়ালা জীবন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















