০৩:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে চাঞ্চল্য হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, সিলেটে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯ সামাজিক সুরক্ষা ব্যয় নয়, রাষ্ট্রের ভবিষ্যতের বিনিয়োগ কাবুল ‘অক্ষম’ না ‘অনিচ্ছুক’: পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংকট ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন সেপ্টেম্বরের অপেক্ষা: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রকৃত ঝুঁকি এখনও সামনে খুলনার মসজিদে ফজরের নামাজের সময় গুলিবর্ষণ, আহত ২ পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও যেতে দেব না, দাবি ভারতের; নতুন করে বাড়ছে পানি সংকটের আশঙ্কা ২০২৭ সিনেট নির্বাচন ঘিরে পিটিআইর শঙ্কা, আরও শক্তিশালী হতে পারে ‘হাইব্রিড ব্যবস্থা’ পাকিস্তানের বাজেট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, খুশি বস্ত্রখাত, উদ্বেগে পোলট্রি ও শ্রমিক সংগঠন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি ঘিরে উত্তেজনা, তেহরানে বিক্ষোভের মধ্যেই বাড়ছে সমঝোতার আশা

ঐতিহাসিক মোড়? কেন চীনের শীর্ষ অর্থনীতির আসন হারাতে পারে গুয়াংডং

চীনের অর্থনৈতিক মানচিত্রে কয়েক দশক ধরে সবচেয়ে শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত ছিল দক্ষিণাঞ্চলের গুয়াংডং প্রদেশ। দেশটির রপ্তানি, শিল্পায়ন ও বৈদেশিক বিনিয়োগের বড় অংশই দীর্ঘ সময় ধরে এই অঞ্চলকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই অবস্থান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পূর্ব চীনের জিয়াংসু প্রদেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়ায় গুয়াংডংয়ের শীর্ষস্থান ধরে রাখা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

গুয়াংডংয়ের দীর্ঘ আধিপত্যের চ্যালেঞ্জ
চীনের অর্থনৈতিক উত্থানের ইতিহাসে গুয়াংডং ছিল সবচেয়ে বড় ইঞ্জিন। শিল্প, বন্দর ও রপ্তানিনির্ভর উৎপাদনের মাধ্যমে প্রদেশটি কয়েক দশক ধরে জাতীয় অর্থনীতির নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা মন্থর হয়ে পড়েছে। পুরোনো শিল্পখাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং নতুন প্রযুক্তিনির্ভর খাতে কাঙ্ক্ষিত গতিশীলতা না আসায় চাপ বাড়ছে।

জিয়াংসুর উত্থান ও প্রতিযোগিতা
অন্যদিকে জিয়াংসু প্রদেশ দীর্ঘদিন ধরেই গুয়াংডংয়ের সবচেয়ে কাছের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত। বহুজাতিক কোম্পানি, উচ্চপ্রযুক্তি শিল্প ও উন্নত উৎপাদন কাঠামোর কারণে জিয়াংসু ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। দুই প্রদেশ মিলেই চীনের মোট দেশজ উৎপাদনের ২০ শতাংশের বেশি অবদান রাখে, যা তাদের প্রতিযোগিতাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

China's Economic Engine Stalls: GDP Growth In Guangdong Lags Far Behind  National Average In First Half Of 2024

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জিয়াংসু তুলনামূলকভাবে বেশি গতিশীলতা দেখিয়েছে। যেখানে গুয়াংডংয়ের কিছু প্রবৃদ্ধির উৎস দুর্বল হয়ে পড়েছে, সেখানে জিয়াংসু নতুন শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে দ্রুত অগ্রগতি করেছে। এর ফলে দুই প্রদেশের অর্থনৈতিক ব্যবধান ক্রমেই কমে আসছে।

জিডিপি ব্যবধান কতটা কমেছে
সাম্প্রতিক প্রকাশিত প্রাদেশিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জিয়াংসুর মোট দেশজ উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ২৩ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে। একই সময়ে গুয়াংডংয়ের জিডিপি ছিল ১৪ দশমিক ৫৮ ট্রিলিয়ন ইউয়ান। এর মাধ্যমে গুয়াংডং টানা ৩৭তম বছরের মতো চীনের সবচেয়ে বড় প্রাদেশিক অর্থনীতির অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হলেও ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে।

চীনের অর্থনীতির বৃহত্তর পরিবর্তনের প্রতিফলন
জিয়াংসু ও গুয়াংডংয়ের এই প্রতিযোগিতা শুধু দুই প্রদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি চীনের অর্থনীতির ভেতরে চলমান কাঠামোগত পরিবর্তনেরও প্রতিফলন। উচ্চপ্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও উন্নত উৎপাদনের দিকে ঝোঁক বাড়ায় নতুন অঞ্চলগুলো দ্রুত এগিয়ে আসছে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে চীনের শীর্ষ অর্থনৈতিক প্রদেশের তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে চাঞ্চল্য

ঐতিহাসিক মোড়? কেন চীনের শীর্ষ অর্থনীতির আসন হারাতে পারে গুয়াংডং

০৩:৩০:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

চীনের অর্থনৈতিক মানচিত্রে কয়েক দশক ধরে সবচেয়ে শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত ছিল দক্ষিণাঞ্চলের গুয়াংডং প্রদেশ। দেশটির রপ্তানি, শিল্পায়ন ও বৈদেশিক বিনিয়োগের বড় অংশই দীর্ঘ সময় ধরে এই অঞ্চলকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই অবস্থান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পূর্ব চীনের জিয়াংসু প্রদেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়ায় গুয়াংডংয়ের শীর্ষস্থান ধরে রাখা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

গুয়াংডংয়ের দীর্ঘ আধিপত্যের চ্যালেঞ্জ
চীনের অর্থনৈতিক উত্থানের ইতিহাসে গুয়াংডং ছিল সবচেয়ে বড় ইঞ্জিন। শিল্প, বন্দর ও রপ্তানিনির্ভর উৎপাদনের মাধ্যমে প্রদেশটি কয়েক দশক ধরে জাতীয় অর্থনীতির নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা মন্থর হয়ে পড়েছে। পুরোনো শিল্পখাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং নতুন প্রযুক্তিনির্ভর খাতে কাঙ্ক্ষিত গতিশীলতা না আসায় চাপ বাড়ছে।

জিয়াংসুর উত্থান ও প্রতিযোগিতা
অন্যদিকে জিয়াংসু প্রদেশ দীর্ঘদিন ধরেই গুয়াংডংয়ের সবচেয়ে কাছের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত। বহুজাতিক কোম্পানি, উচ্চপ্রযুক্তি শিল্প ও উন্নত উৎপাদন কাঠামোর কারণে জিয়াংসু ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। দুই প্রদেশ মিলেই চীনের মোট দেশজ উৎপাদনের ২০ শতাংশের বেশি অবদান রাখে, যা তাদের প্রতিযোগিতাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

China's Economic Engine Stalls: GDP Growth In Guangdong Lags Far Behind  National Average In First Half Of 2024

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জিয়াংসু তুলনামূলকভাবে বেশি গতিশীলতা দেখিয়েছে। যেখানে গুয়াংডংয়ের কিছু প্রবৃদ্ধির উৎস দুর্বল হয়ে পড়েছে, সেখানে জিয়াংসু নতুন শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে দ্রুত অগ্রগতি করেছে। এর ফলে দুই প্রদেশের অর্থনৈতিক ব্যবধান ক্রমেই কমে আসছে।

জিডিপি ব্যবধান কতটা কমেছে
সাম্প্রতিক প্রকাশিত প্রাদেশিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জিয়াংসুর মোট দেশজ উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ২৩ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে। একই সময়ে গুয়াংডংয়ের জিডিপি ছিল ১৪ দশমিক ৫৮ ট্রিলিয়ন ইউয়ান। এর মাধ্যমে গুয়াংডং টানা ৩৭তম বছরের মতো চীনের সবচেয়ে বড় প্রাদেশিক অর্থনীতির অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হলেও ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে।

চীনের অর্থনীতির বৃহত্তর পরিবর্তনের প্রতিফলন
জিয়াংসু ও গুয়াংডংয়ের এই প্রতিযোগিতা শুধু দুই প্রদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি চীনের অর্থনীতির ভেতরে চলমান কাঠামোগত পরিবর্তনেরও প্রতিফলন। উচ্চপ্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও উন্নত উৎপাদনের দিকে ঝোঁক বাড়ায় নতুন অঞ্চলগুলো দ্রুত এগিয়ে আসছে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে চীনের শীর্ষ অর্থনৈতিক প্রদেশের তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।