পাকিস্তানের নতুন ফেডারেল বাজেটকে ঘিরে ব্যবসা ও শিল্পখাতে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। দেশের বস্ত্র রপ্তানিকারকরা বাজেটকে বিনিয়োগ ও রপ্তানিবান্ধব বলে স্বাগত জানিয়েছে। অন্যদিকে পোলট্রি শিল্প, প্লাস্টিক খাত এবং শ্রমিক সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর ও নীতিগত বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বাজেটে করছাড় ও অর্থায়ন-সংক্রান্ত কিছু উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বস্ত্রশিল্প সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান তৈরিতে সহায়ক হবে।
বস্ত্রখাতের সন্তুষ্টি
পাকিস্তান টেক্সটাইল এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বাজেটকে ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রবৃদ্ধিমুখী হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির নেতারা মনে করছেন, অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এবং শিল্পখাতকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় কিছু পদক্ষেপ রাখা হয়েছে।
তাদের মতে, আয় ৫০ কোটি রুপির নিচে থাকা প্রতিষ্ঠানের জন্য সুপার ট্যাক্স বাতিল এবং রপ্তানি আয়ের ওপর কর সংগ্রহের হার কমিয়ে আনা রপ্তানিকারকদের জন্য বড় স্বস্তি। এতে ব্যবসার নগদ প্রবাহ বাড়বে, নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে এবং রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী হবে।

এ ছাড়া রপ্তানি উন্নয়ন সারচার্জ প্রত্যাহার এবং রপ্তানি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্তকেও সময়োপযোগী বলে অভিহিত করেছে খাতটির প্রতিনিধিরা।
পোলট্রি শিল্পের হতাশা
তবে বাজেট নিয়ে সন্তুষ্ট নয় পোলট্রি শিল্প। খাতসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সরকারের বিভিন্ন আশ্বাস থাকা সত্ত্বেও শিল্পটির জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়নি।
তাদের মতে, উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের ওপর বিদ্যমান কর বহাল থাকায় উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। এর ফলে মুরগির মাংসের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে, বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমে যেতে পারে।
বিশেষ করে একদিন বয়সী বাচ্চা মুরগির ওপর আবগারি শুল্ক এবং প্রক্রিয়াজাত মুরগির মাংসের ওপর বিক্রয় কর বহাল রাখার সমালোচনা করেছে শিল্পখাত। তাদের দাবি, এসব কর আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করবে এবং ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য আরও ব্যয়বহুল করে তুলবে।
শ্রমিকদের স্বার্থ উপেক্ষার অভিযোগ

শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও বাজেট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, শ্রমজীবী মানুষ, নিম্নআয়ের পরিবার এবং অবসরপ্রাপ্তদের সমস্যাগুলো বাজেটে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।
সংগঠনটির নেতারা দুধ, দুগ্ধজাত পণ্য, ভোজ্যতেল, ঘি এবং কৃষিখাতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণের ওপর কর আরোপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
এ ছাড়া মূল্যস্ফীতির বর্তমান পরিস্থিতির তুলনায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঘোষিত বেতন বৃদ্ধি যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।
অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাজেটের কিছু অংশ শিল্প ও রপ্তানিকে উৎসাহিত করলেও বিভিন্ন খাতের উদ্বেগ দেখিয়ে দিচ্ছে যে অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে এসেছে।
পাকিস্তানের নতুন বাজেট তাই একদিকে ব্যবসায়িক আস্থার বার্তা দিলেও অন্যদিকে করের চাপ ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















