০৩:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে চাঞ্চল্য হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, সিলেটে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯ সামাজিক সুরক্ষা ব্যয় নয়, রাষ্ট্রের ভবিষ্যতের বিনিয়োগ কাবুল ‘অক্ষম’ না ‘অনিচ্ছুক’: পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংকট ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন সেপ্টেম্বরের অপেক্ষা: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রকৃত ঝুঁকি এখনও সামনে খুলনার মসজিদে ফজরের নামাজের সময় গুলিবর্ষণ, আহত ২ পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও যেতে দেব না, দাবি ভারতের; নতুন করে বাড়ছে পানি সংকটের আশঙ্কা ২০২৭ সিনেট নির্বাচন ঘিরে পিটিআইর শঙ্কা, আরও শক্তিশালী হতে পারে ‘হাইব্রিড ব্যবস্থা’ পাকিস্তানের বাজেট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, খুশি বস্ত্রখাত, উদ্বেগে পোলট্রি ও শ্রমিক সংগঠন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি ঘিরে উত্তেজনা, তেহরানে বিক্ষোভের মধ্যেই বাড়ছে সমঝোতার আশা

সেপ্টেম্বরের অপেক্ষা: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রকৃত ঝুঁকি এখনও সামনে

মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা দেখে অনেকের মনে হতে পারে যে অঞ্চলটি একেবারে বিস্ফোরণের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির গভীরে তাকালে দেখা যায়, তাৎক্ষণিক বিপদের চেয়ে বড় উদ্বেগ সম্ভবত কয়েক মাস পরের রাজনৈতিক বাস্তবতা। যুদ্ধক্ষেত্রের ঘটনাগুলো যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে সংশ্লিষ্ট নেতাদের রাজনৈতিক সময়সূচি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যগুলো গত কয়েক সপ্তাহে এই বাস্তবতাকে স্পষ্ট করেছে। একদিকে তিনি ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আশাবাদী মন্তব্য করছেন, অন্যদিকে অল্প সময়ের ব্যবধানে কঠোর হুমকিও দিচ্ছেন। এই ওঠানামা শুধু ব্যক্তিগত মেজাজের প্রতিফলন নয়; বরং এটি এমন এক নেতৃত্বের চিত্র তুলে ধরে, যা দ্রুত ফলাফল চায় কিন্তু কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না পেলে হতাশ হয়ে পড়ে।

এর বিপরীতে ইরানের কৌশল অনেক বেশি ধীর, নিয়ন্ত্রিত এবং ধারাবাহিক। তেহরান জানে যে আলোচনায় সময় নেওয়া তাদের জন্য ক্ষতিকর নয়। বরং সময় যত গড়ায়, প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক চাপ তত বাড়ে। ফলে তারা প্রকাশ্যে উত্তেজনা না বাড়িয়ে অপেক্ষার কৌশল অনুসরণ করছে।

America's war on Iran has changed the Middle East—for the worse

অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এখন আগের মতো কার্যকর চাপ প্রয়োগের সুযোগ নেই। বৃহৎ আকারের সামরিক হামলার হুমকি দেওয়া সহজ হলেও বাস্তবে তার রাজনৈতিক মূল্য অনেক বেশি। অবকাঠামো ধ্বংস, বেসামরিক প্রাণহানি এবং দীর্ঘমেয়াদি মানবিক বিপর্যয়ের দায় কোনো মার্কিন প্রশাসন সহজে নিতে চাইবে না। ফলে সামরিক শক্তির প্রদর্শন থাকলেও তা ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট।

অন্যদিকে ইরানের অবস্থান তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক। দেশটি সামরিকভাবে অজেয় নয়, কিন্তু প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য যথেষ্ট সক্ষমতা ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে তাদের নেতৃত্বকে অদূর ভবিষ্যতের কোনো জাতীয় নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে না। এই রাজনৈতিক স্বস্তি তাদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণের সুযোগ দিচ্ছে।

এই কারণেই আগামী কয়েক মাসে যুদ্ধবিরতি, আলোচনা, সীমিত সংঘর্ষ এবং নতুন করে সমঝোতার প্রচেষ্টা—সবকিছুই চলতে পারে। কিন্তু পরিস্থিতি আপাতদৃষ্টিতে স্থিতিশীল থাকলেও এর নিচে রাজনৈতিক চাপ জমতে থাকবে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের পর সেই চাপ নতুন মাত্রা পেতে পারে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতির অভিযোগ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধিতার মধ্যে তিনি এমন এক অবস্থায় আছেন, যেখানে বড় কোনো সাফল্য দেখাতে না পারলে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। যুদ্ধকে ঘিরে জনসমর্থন থাকলেও তা অনির্দিষ্টকালের জন্য টিকবে না। ভোটাররা শেষ পর্যন্ত দৃশ্যমান ফলাফল দেখতে চাইবে।

যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র হুমকি ইরান, দাবি নেতানিয়াহুর

ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও একই ধরনের রাজনৈতিক বাস্তবতা কাজ করছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল তাঁর প্রশাসনিক ক্ষমতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। যদি রাজনৈতিক সমর্থন দুর্বল হতে শুরু করে, তাহলে বিদেশনীতি ও সামরিক সাফল্যকে অভ্যন্তরীণ শক্তি প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রলোভন বাড়তে পারে।

এখানেই মূল ঝুঁকি লুকিয়ে আছে। রাজনৈতিকভাবে চাপে থাকা নেতারা প্রায়ই এমন সিদ্ধান্ত নেন, যা শান্ত সময়ে তারা নিতেন না। হতাশা, অস্থিরতা এবং দ্রুত সাফল্যের প্রয়োজনীয়তা কখনও কখনও কৌশলগত বিচক্ষণতাকে দুর্বল করে দেয়। ইতিহাসে এমন বহু উদাহরণ রয়েছে, যেখানে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট আন্তর্জাতিক সংঘাতকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে।

অবশ্য এই বিশ্লেষণের একটি মৌলিক পূর্বধারণা রয়েছে—বর্তমান আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কোনো টেকসই সমঝোতায় পৌঁছাবে না। যদি অপ্রত্যাশিতভাবে একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তি হয়, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন পথে যেতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত যে অবস্থানগুলো দেখা যাচ্ছে, তাতে বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার কোনো ইঙ্গিত নেই।

তাই মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু আজকের সংঘর্ষ বা আগামী সপ্তাহের আলোচনার দিকে তাকালে হবে না। প্রকৃত প্রশ্ন হলো, কয়েক মাস পর যখন রাজনৈতিক চাপ আরও তীব্র হবে, তখন সংশ্লিষ্ট নেতারা নিজেদের অবস্থান রক্ষার জন্য কী করতে প্রস্তুত থাকবেন। সেই উত্তরই নির্ধারণ করতে পারে অঞ্চলের ভবিষ্যৎ শান্তি নাকি আরও গভীর সংঘাতের দিকে যাবে।

ট্রাম্প আসলে কতটা শান্তিবাদী

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে চাঞ্চল্য

সেপ্টেম্বরের অপেক্ষা: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রকৃত ঝুঁকি এখনও সামনে

০২:৫২:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা দেখে অনেকের মনে হতে পারে যে অঞ্চলটি একেবারে বিস্ফোরণের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির গভীরে তাকালে দেখা যায়, তাৎক্ষণিক বিপদের চেয়ে বড় উদ্বেগ সম্ভবত কয়েক মাস পরের রাজনৈতিক বাস্তবতা। যুদ্ধক্ষেত্রের ঘটনাগুলো যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে সংশ্লিষ্ট নেতাদের রাজনৈতিক সময়সূচি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যগুলো গত কয়েক সপ্তাহে এই বাস্তবতাকে স্পষ্ট করেছে। একদিকে তিনি ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আশাবাদী মন্তব্য করছেন, অন্যদিকে অল্প সময়ের ব্যবধানে কঠোর হুমকিও দিচ্ছেন। এই ওঠানামা শুধু ব্যক্তিগত মেজাজের প্রতিফলন নয়; বরং এটি এমন এক নেতৃত্বের চিত্র তুলে ধরে, যা দ্রুত ফলাফল চায় কিন্তু কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না পেলে হতাশ হয়ে পড়ে।

এর বিপরীতে ইরানের কৌশল অনেক বেশি ধীর, নিয়ন্ত্রিত এবং ধারাবাহিক। তেহরান জানে যে আলোচনায় সময় নেওয়া তাদের জন্য ক্ষতিকর নয়। বরং সময় যত গড়ায়, প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক চাপ তত বাড়ে। ফলে তারা প্রকাশ্যে উত্তেজনা না বাড়িয়ে অপেক্ষার কৌশল অনুসরণ করছে।

America's war on Iran has changed the Middle East—for the worse

অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এখন আগের মতো কার্যকর চাপ প্রয়োগের সুযোগ নেই। বৃহৎ আকারের সামরিক হামলার হুমকি দেওয়া সহজ হলেও বাস্তবে তার রাজনৈতিক মূল্য অনেক বেশি। অবকাঠামো ধ্বংস, বেসামরিক প্রাণহানি এবং দীর্ঘমেয়াদি মানবিক বিপর্যয়ের দায় কোনো মার্কিন প্রশাসন সহজে নিতে চাইবে না। ফলে সামরিক শক্তির প্রদর্শন থাকলেও তা ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট।

অন্যদিকে ইরানের অবস্থান তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক। দেশটি সামরিকভাবে অজেয় নয়, কিন্তু প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য যথেষ্ট সক্ষমতা ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে তাদের নেতৃত্বকে অদূর ভবিষ্যতের কোনো জাতীয় নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে না। এই রাজনৈতিক স্বস্তি তাদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণের সুযোগ দিচ্ছে।

এই কারণেই আগামী কয়েক মাসে যুদ্ধবিরতি, আলোচনা, সীমিত সংঘর্ষ এবং নতুন করে সমঝোতার প্রচেষ্টা—সবকিছুই চলতে পারে। কিন্তু পরিস্থিতি আপাতদৃষ্টিতে স্থিতিশীল থাকলেও এর নিচে রাজনৈতিক চাপ জমতে থাকবে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের পর সেই চাপ নতুন মাত্রা পেতে পারে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতির অভিযোগ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধিতার মধ্যে তিনি এমন এক অবস্থায় আছেন, যেখানে বড় কোনো সাফল্য দেখাতে না পারলে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। যুদ্ধকে ঘিরে জনসমর্থন থাকলেও তা অনির্দিষ্টকালের জন্য টিকবে না। ভোটাররা শেষ পর্যন্ত দৃশ্যমান ফলাফল দেখতে চাইবে।

যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র হুমকি ইরান, দাবি নেতানিয়াহুর

ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও একই ধরনের রাজনৈতিক বাস্তবতা কাজ করছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল তাঁর প্রশাসনিক ক্ষমতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। যদি রাজনৈতিক সমর্থন দুর্বল হতে শুরু করে, তাহলে বিদেশনীতি ও সামরিক সাফল্যকে অভ্যন্তরীণ শক্তি প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রলোভন বাড়তে পারে।

এখানেই মূল ঝুঁকি লুকিয়ে আছে। রাজনৈতিকভাবে চাপে থাকা নেতারা প্রায়ই এমন সিদ্ধান্ত নেন, যা শান্ত সময়ে তারা নিতেন না। হতাশা, অস্থিরতা এবং দ্রুত সাফল্যের প্রয়োজনীয়তা কখনও কখনও কৌশলগত বিচক্ষণতাকে দুর্বল করে দেয়। ইতিহাসে এমন বহু উদাহরণ রয়েছে, যেখানে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট আন্তর্জাতিক সংঘাতকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে।

অবশ্য এই বিশ্লেষণের একটি মৌলিক পূর্বধারণা রয়েছে—বর্তমান আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কোনো টেকসই সমঝোতায় পৌঁছাবে না। যদি অপ্রত্যাশিতভাবে একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তি হয়, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন পথে যেতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত যে অবস্থানগুলো দেখা যাচ্ছে, তাতে বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার কোনো ইঙ্গিত নেই।

তাই মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু আজকের সংঘর্ষ বা আগামী সপ্তাহের আলোচনার দিকে তাকালে হবে না। প্রকৃত প্রশ্ন হলো, কয়েক মাস পর যখন রাজনৈতিক চাপ আরও তীব্র হবে, তখন সংশ্লিষ্ট নেতারা নিজেদের অবস্থান রক্ষার জন্য কী করতে প্রস্তুত থাকবেন। সেই উত্তরই নির্ধারণ করতে পারে অঞ্চলের ভবিষ্যৎ শান্তি নাকি আরও গভীর সংঘাতের দিকে যাবে।

ট্রাম্প আসলে কতটা শান্তিবাদী