০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
প্রতিবাদের সাংবিধানিক ঢাল: গণতন্ত্রে রাষ্ট্রের শক্তিরও থাকতে হবে জবাবদিহি মধ্যপ্রাচ্যের নতুন দাবার ছক বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায়, অর্জনের ভিত্তিতে এগোবে নতুন সহযোগিতা কুমিল্লায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, ইউএনওর আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, একদিনে হাসপাতালে ভর্তি ৪৬৭ মেরি গ্রের লড়াই: পরিসংখ্যান ও আইনের সমন্বয়ে কীভাবে বদলানো যায় মানবাধিকার রক্ষার লড়াই সৃজনশীলতার সংকটে শিক্ষা: ভবিষ্যতের জন্য কি এখনও উপযোগী আমাদের স্কুল? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন ভূরাজনীতি: ‘বিনামূল্যের’ প্রযুক্তির আড়ালে কী লুকিয়ে আছে? মোদির পদত্যাগের ভাইরাল চিঠি সঠিক নয়, স্পষ্ট করল ভারতের সরকার দিল্লিতে নীট আন্দোলনের মামলায় বড় সিদ্ধান্ত: অপরাধমূলক অতীত না থাকলে আইনি পদক্ষেপ নয়

পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও যেতে দেব না, দাবি ভারতের; নতুন করে বাড়ছে পানি সংকটের আশঙ্কা

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পানি বণ্টন নিয়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ভারতের জলসম্পদমন্ত্রী সি আর পাতিল বলেছেন, আগামী বছরগুলোতে পাকিস্তানের দিকে “এক ফোঁটা পানিও” যেতে দেওয়া হবে না। তার এই মন্তব্যের পর দুই দেশের মধ্যে সিন্ধু নদী অববাহিকার পানি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ভারতের পক্ষ থেকে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণার পর থেকেই বিষয়টি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও পরিবেশগত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক বক্তব্যে ভারত সরকার স্পষ্ট করেছে যে তারা পাকিস্তানে প্রবাহিত পানির ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

মোদির নির্দেশনার কথা বললেন মন্ত্রী

ভারতের জলসম্পদমন্ত্রী সি আর পাতিল এক সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তার দাবি, ভবিষ্যতে পাকিস্তানের দিকে কোনো পানি না যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

C R Patil takes charge as Jal Shakti minister

সিন্ধু অববাহিকার ছয়টি প্রধান নদীর পানি ব্যবহারের নিয়ম দীর্ঘদিন ধরে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। এসব নদীর উৎস ভারতের ভূখণ্ডে হলেও সেগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে এবং দেশটির কৃষি ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পাকিস্তানের কঠোর প্রতিক্রিয়া

পাকিস্তান আগেই সতর্ক করে দিয়েছে যে, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পরিবর্তনের যেকোনো চেষ্টা তারা অত্যন্ত গুরুতর বিষয় হিসেবে বিবেচনা করবে। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক পানি বণ্টন ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত নয়।

পাকিস্তানের পরিবেশ ও জলবায়ু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় থাকা পানিসম্পদকে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলে তা নিম্নপ্রবাহের দেশগুলোর অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে। তারা জোর দিয়ে বলছে, পানিকে কখনোই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা গ্রহণযোগ্য নয়।

নতুন প্রকল্প ঘিরে বিতর্ক

সম্প্রতি ভারতের নিয়ন্ত্রিত অংশে চেনাব নদীকে কেন্দ্র করে কয়েকটি উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রস্তাবিত প্রকল্পে নদীর পানি অন্য অববাহিকায় সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে।

এছাড়া চেনাব নদীর একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে পলি অপসারণের কাজও শুরু হয়েছে। এসব পদক্ষেপকে পাকিস্তান পানি ব্যবস্থাকে “অস্ত্রায়নের” প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে।

Not A Single Drop': Centre Reaffirms Indus Water Stance Against Pakistan

বাস্তবে কতটা সম্ভব?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ভারতের বিদ্যমান বাঁধগুলো পুরোপুরি পানি আটকে রাখা বা অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা রাখে না। তবে পানি ছাড়ার সময় ও প্রবাহের মাত্রা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

তারা বলছেন, যদি ভবিষ্যতে বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, তাহলে পাকিস্তানের কৃষি, সেচ ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। তবে এমন প্রকল্পের বাস্তব প্রভাব দেখতে কয়েক বছর সময় লাগবে।

স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য নতুন কাজ ২০২৭ সালের মাঝামাঝির আগে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম। প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করতেও অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।

আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার শঙ্কা

সিন্ধু নদী এবং এর উপনদীগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের একটি সংবেদনশীল বিষয়। কাশ্মীরকে ঘিরে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা উত্তেজনার পাশাপাশি এখন পানি নিয়েও দুই দেশের অবস্থান আরও কঠোর হয়ে উঠছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পানি বণ্টন প্রশ্নে সমঝোতা না হলে এটি শুধু কূটনৈতিক সম্পর্কেই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিবাদের সাংবিধানিক ঢাল: গণতন্ত্রে রাষ্ট্রের শক্তিরও থাকতে হবে জবাবদিহি

পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও যেতে দেব না, দাবি ভারতের; নতুন করে বাড়ছে পানি সংকটের আশঙ্কা

০২:৪৪:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পানি বণ্টন নিয়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ভারতের জলসম্পদমন্ত্রী সি আর পাতিল বলেছেন, আগামী বছরগুলোতে পাকিস্তানের দিকে “এক ফোঁটা পানিও” যেতে দেওয়া হবে না। তার এই মন্তব্যের পর দুই দেশের মধ্যে সিন্ধু নদী অববাহিকার পানি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ভারতের পক্ষ থেকে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণার পর থেকেই বিষয়টি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও পরিবেশগত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক বক্তব্যে ভারত সরকার স্পষ্ট করেছে যে তারা পাকিস্তানে প্রবাহিত পানির ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

মোদির নির্দেশনার কথা বললেন মন্ত্রী

ভারতের জলসম্পদমন্ত্রী সি আর পাতিল এক সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তার দাবি, ভবিষ্যতে পাকিস্তানের দিকে কোনো পানি না যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

C R Patil takes charge as Jal Shakti minister

সিন্ধু অববাহিকার ছয়টি প্রধান নদীর পানি ব্যবহারের নিয়ম দীর্ঘদিন ধরে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। এসব নদীর উৎস ভারতের ভূখণ্ডে হলেও সেগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে এবং দেশটির কৃষি ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পাকিস্তানের কঠোর প্রতিক্রিয়া

পাকিস্তান আগেই সতর্ক করে দিয়েছে যে, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পরিবর্তনের যেকোনো চেষ্টা তারা অত্যন্ত গুরুতর বিষয় হিসেবে বিবেচনা করবে। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক পানি বণ্টন ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত নয়।

পাকিস্তানের পরিবেশ ও জলবায়ু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় থাকা পানিসম্পদকে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলে তা নিম্নপ্রবাহের দেশগুলোর অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে। তারা জোর দিয়ে বলছে, পানিকে কখনোই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা গ্রহণযোগ্য নয়।

নতুন প্রকল্প ঘিরে বিতর্ক

সম্প্রতি ভারতের নিয়ন্ত্রিত অংশে চেনাব নদীকে কেন্দ্র করে কয়েকটি উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রস্তাবিত প্রকল্পে নদীর পানি অন্য অববাহিকায় সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে।

এছাড়া চেনাব নদীর একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে পলি অপসারণের কাজও শুরু হয়েছে। এসব পদক্ষেপকে পাকিস্তান পানি ব্যবস্থাকে “অস্ত্রায়নের” প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে।

Not A Single Drop': Centre Reaffirms Indus Water Stance Against Pakistan

বাস্তবে কতটা সম্ভব?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ভারতের বিদ্যমান বাঁধগুলো পুরোপুরি পানি আটকে রাখা বা অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা রাখে না। তবে পানি ছাড়ার সময় ও প্রবাহের মাত্রা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

তারা বলছেন, যদি ভবিষ্যতে বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, তাহলে পাকিস্তানের কৃষি, সেচ ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। তবে এমন প্রকল্পের বাস্তব প্রভাব দেখতে কয়েক বছর সময় লাগবে।

স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য নতুন কাজ ২০২৭ সালের মাঝামাঝির আগে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম। প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করতেও অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।

আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার শঙ্কা

সিন্ধু নদী এবং এর উপনদীগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের একটি সংবেদনশীল বিষয়। কাশ্মীরকে ঘিরে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা উত্তেজনার পাশাপাশি এখন পানি নিয়েও দুই দেশের অবস্থান আরও কঠোর হয়ে উঠছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পানি বণ্টন প্রশ্নে সমঝোতা না হলে এটি শুধু কূটনৈতিক সম্পর্কেই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।