০৩:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে চাঞ্চল্য হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, সিলেটে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯ সামাজিক সুরক্ষা ব্যয় নয়, রাষ্ট্রের ভবিষ্যতের বিনিয়োগ কাবুল ‘অক্ষম’ না ‘অনিচ্ছুক’: পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংকট ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন সেপ্টেম্বরের অপেক্ষা: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রকৃত ঝুঁকি এখনও সামনে খুলনার মসজিদে ফজরের নামাজের সময় গুলিবর্ষণ, আহত ২ পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও যেতে দেব না, দাবি ভারতের; নতুন করে বাড়ছে পানি সংকটের আশঙ্কা ২০২৭ সিনেট নির্বাচন ঘিরে পিটিআইর শঙ্কা, আরও শক্তিশালী হতে পারে ‘হাইব্রিড ব্যবস্থা’ পাকিস্তানের বাজেট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, খুশি বস্ত্রখাত, উদ্বেগে পোলট্রি ও শ্রমিক সংগঠন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি ঘিরে উত্তেজনা, তেহরানে বিক্ষোভের মধ্যেই বাড়ছে সমঝোতার আশা

২০২৭ সিনেট নির্বাচন ঘিরে পিটিআইর শঙ্কা, আরও শক্তিশালী হতে পারে ‘হাইব্রিড ব্যবস্থা’

পাকিস্তানে ২০২৭ সালের সিনেট নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দল পিটিআইর ভেতরে উদ্বেগ বাড়ছে। দলটির নেতাদের একাংশ মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা অব্যাহত থাকলে ক্ষমতাসীন জোট সিনেটে আরও শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করতে পারে, যা দেশের বিদ্যমান ‘হাইব্রিড ব্যবস্থা’কে আরও সুসংহত করার সুযোগ তৈরি করবে।

পিটিআইর অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর মতে, ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান দুই দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ ও পাকিস্তান পিপলস পার্টি আগামী সিনেট নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পেতে পারে। এতে উচ্চকক্ষে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রভাব কমে যাওয়ার আশঙ্কা

দলটির অনেক নেতার মতে, ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর আড়াই বছরের বেশি সময় পার হলেও পিটিআই রাজনৈতিক পরিসর সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। বরং দলটি এখনও নানা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে।

Experts react: Imran Khan's party outperformed expectations. What will this  mean for Pakistan's next government? - Atlantic Council

একই সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে দলের সম্পর্কের উন্নতির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ফলে ভবিষ্যতে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পিটিআইর অভ্যন্তরে এমন ধারণাও রয়েছে যে, যদি দলটি বর্তমান কৌশলে পরিবর্তন না আনে, তাহলে ২০২৭ সালের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাদের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

সাংবিধানিক পরিবর্তনের শঙ্কা

দলটির নেতাদের একাংশ মনে করেন, সিনেটে ক্ষমতাসীন জোটের শক্তিশালী উপস্থিতি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ আইন ও সাংবিধানিক সংশোধনী পাসের পথ সহজ করে দিতে পারে।

তাদের আশঙ্কা, এমন পরিস্থিতিতে বিরোধী দল হিসেবে পিটিআইর প্রভাব আরও সীমিত হয়ে পড়বে এবং রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো নিয়ে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের ভূমিকা কমে যেতে পারে।

দলের কিছু জ্যেষ্ঠ নেতা মনে করছেন, চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে সরকার ও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে অর্থবহ সংলাপের বিকল্প নেই। তবে এ ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনের জন্য দলটির প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের অনুমোদন প্রয়োজন হবে বলেও তারা মনে করেন।

TTAP not to 'carry burden' of PTI U-turn

সংলাপের প্রশ্নে অনিশ্চয়তা

পিটিআইর ভেতরে অনেকেই বিশ্বাস করেন, যদি নেতৃত্ব সংলাপ ও রাজনৈতিক সমঝোতার পথে এগোনোর সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে আগামী সিনেট নির্বাচনের আগে পরিস্থিতির বড় কোনো পরিবর্তন ঘটানো কঠিন হবে।

তাদের মতে, এমন অবস্থায় দলটি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক প্রান্তিকতায় ঠেলে যেতে পারে এবং জাতীয় রাজনীতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ আরও সংকুচিত হতে পারে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ ২০২৭ সালের সিনেট নির্বাচন

পাকিস্তানের সিনেট সদস্যদের মেয়াদ ছয় বছর। প্রতি তিন বছর পর অর্ধেক সদস্য অবসরে যান এবং নতুন সদস্য নির্বাচিত হন।

আগামী সিনেট নির্বাচন ২০২৭ সালের মার্চের দিকে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন প্রায় অর্ধেক সদস্যের মেয়াদ শেষ হবে। সিনেটে প্রতিনিধিত্ব মূলত প্রাদেশিক পরিষদগুলোর গঠন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ বিবেচনায় ক্ষমতাসীন জোট এই নির্বাচনে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে চাঞ্চল্য

২০২৭ সিনেট নির্বাচন ঘিরে পিটিআইর শঙ্কা, আরও শক্তিশালী হতে পারে ‘হাইব্রিড ব্যবস্থা’

০২:৪০:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

পাকিস্তানে ২০২৭ সালের সিনেট নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দল পিটিআইর ভেতরে উদ্বেগ বাড়ছে। দলটির নেতাদের একাংশ মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা অব্যাহত থাকলে ক্ষমতাসীন জোট সিনেটে আরও শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করতে পারে, যা দেশের বিদ্যমান ‘হাইব্রিড ব্যবস্থা’কে আরও সুসংহত করার সুযোগ তৈরি করবে।

পিটিআইর অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর মতে, ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান দুই দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ ও পাকিস্তান পিপলস পার্টি আগামী সিনেট নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পেতে পারে। এতে উচ্চকক্ষে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রভাব কমে যাওয়ার আশঙ্কা

দলটির অনেক নেতার মতে, ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর আড়াই বছরের বেশি সময় পার হলেও পিটিআই রাজনৈতিক পরিসর সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। বরং দলটি এখনও নানা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে।

Experts react: Imran Khan's party outperformed expectations. What will this  mean for Pakistan's next government? - Atlantic Council

একই সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে দলের সম্পর্কের উন্নতির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ফলে ভবিষ্যতে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পিটিআইর অভ্যন্তরে এমন ধারণাও রয়েছে যে, যদি দলটি বর্তমান কৌশলে পরিবর্তন না আনে, তাহলে ২০২৭ সালের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাদের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

সাংবিধানিক পরিবর্তনের শঙ্কা

দলটির নেতাদের একাংশ মনে করেন, সিনেটে ক্ষমতাসীন জোটের শক্তিশালী উপস্থিতি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ আইন ও সাংবিধানিক সংশোধনী পাসের পথ সহজ করে দিতে পারে।

তাদের আশঙ্কা, এমন পরিস্থিতিতে বিরোধী দল হিসেবে পিটিআইর প্রভাব আরও সীমিত হয়ে পড়বে এবং রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো নিয়ে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের ভূমিকা কমে যেতে পারে।

দলের কিছু জ্যেষ্ঠ নেতা মনে করছেন, চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে সরকার ও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে অর্থবহ সংলাপের বিকল্প নেই। তবে এ ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনের জন্য দলটির প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের অনুমোদন প্রয়োজন হবে বলেও তারা মনে করেন।

TTAP not to 'carry burden' of PTI U-turn

সংলাপের প্রশ্নে অনিশ্চয়তা

পিটিআইর ভেতরে অনেকেই বিশ্বাস করেন, যদি নেতৃত্ব সংলাপ ও রাজনৈতিক সমঝোতার পথে এগোনোর সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে আগামী সিনেট নির্বাচনের আগে পরিস্থিতির বড় কোনো পরিবর্তন ঘটানো কঠিন হবে।

তাদের মতে, এমন অবস্থায় দলটি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক প্রান্তিকতায় ঠেলে যেতে পারে এবং জাতীয় রাজনীতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ আরও সংকুচিত হতে পারে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ ২০২৭ সালের সিনেট নির্বাচন

পাকিস্তানের সিনেট সদস্যদের মেয়াদ ছয় বছর। প্রতি তিন বছর পর অর্ধেক সদস্য অবসরে যান এবং নতুন সদস্য নির্বাচিত হন।

আগামী সিনেট নির্বাচন ২০২৭ সালের মার্চের দিকে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন প্রায় অর্ধেক সদস্যের মেয়াদ শেষ হবে। সিনেটে প্রতিনিধিত্ব মূলত প্রাদেশিক পরিষদগুলোর গঠন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ বিবেচনায় ক্ষমতাসীন জোট এই নির্বাচনে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।