মিনেসোটায় ফেডারেল অভিবাসন অভিযানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি প্রান্তে। শুক্রবার দেশজুড়ে শুরু হওয়া জাতীয় কর্মবিরতির প্রভাবে বহু শহরে রেস্তোরাঁ ফাঁকা, দোকানের আলো নিভে যায়, আর শিক্ষার্থীদের ডেস্ক পড়ে থাকে শূন্য। আয়োজকদের আহ্বান ছিল কাজ নয়, স্কুল নয়, কেনাকাটা নয়—এই ডাকেই ক্যালিফোর্নিয়া থেকে শুরু করে নর্থ ক্যারোলাইনা ও মেইন পর্যন্ত দেখা যায় স্কুল ছাড়ার আন্দোলন, বাতিল ক্লাস ও রাজপথে মিছিল।
মিনেসোটায় উত্তাল রাজপথ ও তদন্তের ঘোষণা
মিনেসোটায় টানা দ্বিতীয় সপ্তাহ রাজপথে নামে বিক্ষোভকারীরা। বিচার বিভাগ ঘোষণা দেয়, অ্যালেক্স প্রেট্টির মৃত্যুর ঘটনায় নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হচ্ছে। এ বছর মিনেসোটায় ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে নিহত হওয়া দ্বিতীয় ব্যক্তি প্রেট্টি। এর আগে রেনে গুডের মৃত্যুও দেশজুড়ে অভিবাসন প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ককে আরও তীব্র করে তোলে।
হোয়াইট হাউসের সুর বদল, সমঝোতা অনিশ্চিত
সাম্প্রতিক দিনে হোয়াইট হাউসের বক্তব্যে সুর বদলের ইঙ্গিত মিললেও বাস্তব সমঝোতা নিয়ে ফেডারেল ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে ঐকমত্য নেই। সীমান্তবিষয়ক দায়িত্বে থাকা টম হোম্যান মিনিয়াপোলিসে এজেন্ট কমানোর সম্ভাবনার কথা বললেও কীভাবে তা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে স্পষ্টতা আসেনি। মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ সামাজিক মাধ্যমে বলেন, কথার চেয়ে কাজ বড়, আর মিনেসোটাবাসী এখনও দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখেনি।
সাংবাদিক গ্রেপ্তার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিতর্ক
এই উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে সাংবাদিক গ্রেপ্তারের ঘটনা। সেন্ট পলের এক গির্জা ঘিরে হওয়া বিক্ষোভ কভার করতে গিয়ে সাবেক টেলিভিশন উপস্থাপক ডন লেমন ও স্বাধীন সাংবাদিক জর্জিয়া ফোর্ট গ্রেপ্তার হন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, তারা ও বিক্ষোভকারীরা গির্জার উপাসক ও যাজকদের ভয় দেখিয়েছেন। লস অ্যাঞ্জেলেসে আদালতে হাজিরার পর মুক্তি পেয়ে লেমন জানান, স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের পক্ষে তার লড়াই থামবে না। ফোর্ট প্রশ্ন তোলেন, দেশে সংবিধান আছে কি না। সংবাদমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে থাকা সংগঠনগুলো এই গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
প্রেট্টি হত্যাকাণ্ডে তদন্তের পরিধি
বিচার বিভাগের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জানান, প্রেট্টিকে নিরস্ত্র করার পর একাধিক গুলি ছোড়া আইন লঙ্ঘন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে ফেডারেল তদন্ত সংস্থা। তবে এটিকে নিয়মিত প্রক্রিয়ার তদন্ত বলে উল্লেখ করে তিনি অতিরঞ্জনের প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন।
অভিবাসন নীতিতে আইনি চ্যালেঞ্জ ও নিউইয়র্কের উদ্যোগ
এদিকে বোস্টনে অভিবাসী অধিকারকর্মীরা এমন এক নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন, যাতে বিচারিক পরোয়ানা ছাড়াই ঘরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে উঠে আসে, প্রশাসনিক পরোয়ানা ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নিষিদ্ধ করতে আইন প্রস্তাবের কথা জানান। এতে রাজ্য আইনসভায় নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে।
জাতীয় প্রভাব ও রাজনীতির চাপ
মিনেসোটার ঘটনাগুলো এখন আর একটি রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। জাতীয় কর্মবিরতি, সাংবাদিক গ্রেপ্তার ও আইনি লড়াই মিলিয়ে অভিবাসন প্রয়োগ, নাগরিক অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। প্রশাসন কীভাবে এই সংকট সামাল দেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে দেশজুড়ে আন্দোলনকারীরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















