ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সীমিত করার আলোচনা অগ্রগতি না পাওয়ায় ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলার সম্ভাবনা সামনে রেখে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি দ্রুত ও ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহজুড়ে আকাশপথে নজরদারি উড়ান, ভারী সামরিক পরিবহন এবং বিভিন্ন ঘাঁটিতে অস্ত্র ও প্রযুক্তি নামানোর গতি দেখে স্পষ্ট, পরিস্থিতি এখন উত্তেজনার চূড়ান্ত পর্যায়ে।
যুদ্ধজাহাজ বহরের বড় পরিবর্তন
উত্তর আরব সাগরে পৌঁছানো লিঙ্কন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ এই প্রস্তুতির সবচেয়ে বড় দৃশ্যমান পরিবর্তন। এই বহরে রয়েছে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ আব্রাহাম লিঙ্কন, একাধিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার এবং আধুনিক যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন। এই বহর কার্যত ভাসমান যুদ্ধঘাঁটি হিসেবে কাজ করতে সক্ষম, যেখান থেকে আকাশ ও সমুদ্রপথে একযোগে অভিযান চালানো সম্ভব।
ডেস্ট্রয়ার ও উপকূলীয় যুদ্ধজাহাজের মোতায়েন
ক্যারিয়ার গ্রুপের বাইরেও আলাদা করে কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার ও উপকূলীয় যুদ্ধজাহাজ অঞ্চলে অবস্থান করছে। প্রয়োজনে এগুলো সমুদ্রপথে মাইন অপসারণ এবং দ্রুত আক্রমণাত্মক অভিযানে ব্যবহার করা হতে পারে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যদি পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।

আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার
সম্প্রতি কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটিতে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে ধরা পড়া এই ব্যবস্থাগুলো সম্ভাব্য পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ও ঘাঁটিগুলোকে রক্ষা করাই এর মূল লক্ষ্য।
আকাশে নজরদারি ও সমন্বয়
পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে প্রায় নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে ড্রোন ও গোয়েন্দা বিমানের টহল। পাশাপাশি উচ্চতর যোগাযোগ সমন্বয়ের জন্য বিশেষ রূপান্তরিত জেট বিমানও অঞ্চলে পৌঁছেছে, যা আকাশ ও স্থল বাহিনীর মধ্যে তথ্য আদানপ্রদান নিশ্চিত করে।
যুদ্ধবিমান ও ট্যাংকারের চলাচল
আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে একের পর এক আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার এবং উন্নত যুদ্ধবিমান ইউরোপ হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হয়েছে। পর্তুগালের একটি ঘাঁটিতে আধুনিক প্রজন্মের যুদ্ধবিমান নামার বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে এসেছে, যা বড় অভিযানের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গোপন শক্তি ও অতীত নজির
এই প্রস্তুতির আড়ালে আরও গোপন সামরিক সক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, বিশেষ করে আক্রমণাত্মক সাবমেরিন ও দূরপাল্লার বোমারু বিমান। আগের বছর ইরানের পরমাণু স্থাপনায় দীর্ঘপথের গোপন অভিযানের অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে, যা বর্তমান উত্তেজনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি ও সম্ভাব্য পরিণতি
হোয়াইট হাউস থেকে বারবার সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি আসায় এই সমাবেশ কেবল প্রতিরক্ষা নয়, বরং আক্রমণাত্মক প্রস্তুতির ইঙ্গিতও বহন করছে। ইরান যদি কোনো সমঝোতায় না আসে, তাহলে পরিস্থিতি যে দ্রুত সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে, তা আর অস্বীকার করার উপায় নেই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















