০৭:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
নারায়ণগঞ্জে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নিহত হজ ভিসার আবেদন শুরু ৮ ফেব্রুয়ারি একদিনেই স্বর্ণের দামে বড় ধস, ভরিতে কমল ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা রানা প্লাজা ক্ষতিপূরণ নিয়ে নতুন অভিযোগ: বিদেশি অনুদানের টাকা পাচ্ছেন না প্রকৃত ভুক্তভোগীরা চ্যাটবট এর উত্তরে ব্যবসার অদৃশ্য হাত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুপারিশ কতটা বিশ্বাসযোগ্য কেন সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চে উঠেছিল, আর কী কারণে হঠাৎ বড় পতন বিষাদ বিশ্ব অস্থিরতায় সোনার দামে রেকর্ড, তারপর হঠাৎ পতন কেন ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রের পথে নতুন বাঁক, অর্থনীতি খুললেও রাজনীতিতে অনাস্থা ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ তিন ঘণ্টা পর স্বাভাবিক

অর্থনীতি সংস্কার না হলে রাষ্ট্রই প্রশ্নের মুখে পড়বে

আইনের এই দুর্বলতা কেবল বন্যপ্রাণী বা বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিভাবান বহু মানুষ এই বাস্তবতা দেখেই দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিজের দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে বিদেশে পাড়ি জমানো এখন অনেকের কাছে ভবিষ্যৎ রক্ষার একমাত্র পথ হয়ে উঠেছে।

এরই মধ্যে করাচিতে গুল প্লাজা অগ্নিকাণ্ডে অন্তত তিয়াত্তর মানুষের মৃত্যু নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে নগরের নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে। ঘটনার পর দায়ীদের বিচারের আশ্বাস এসেছে। কিন্তু আগুনে পুড়ে যাওয়া ভবন শুধু একটি দুর্ঘটনার গল্প বলে না। এটি করাচির বাণিজ্যিক ভবনগুলোর নির্মাণ মান, পরিকল্পনার ঘাটতি এবং দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির তুলনায় অগ্নিনির্বাপণ সহ জরুরি সেবার সক্ষমতা বাড়াতে ব্যর্থতার নগ্ন চিত্র তুলে ধরে।

এলিট স্বার্থ বনাম সাধারণ মানুষের বাস্তবতা
পাকিস্তানের দৈনন্দিন জীবন এসব ঘটনায় স্পষ্ট করে দেয়, রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে মূলত প্রভাবশালী শ্রেণির স্বার্থে। নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জীবন সংক্রান্ত বিষয়গুলো বারবার উপেক্ষিত থেকেছে। বিভিন্ন সরকারের সময়ে অর্থনীতির কিছু সাফল্য এলেও তার সুফল সমাজের বড় অংশের কাছে পৌঁছায়নি। বরং যারা ক্ষমতাবান, তারা আরও শক্তিশালী হয়েছে, আর যারা প্রান্তিক, তারা আরও কোণঠাসা হয়েছে।

এই বৈপরীত্যই পাকিস্তানের মূল সংকট। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সময়ে সুষম অগ্রগতি ধরে রাখতে না পারার ব্যর্থতা দেশকে বারবার একই জায়গায় ফিরিয়ে এনেছে।

রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ
দেশের কিছু অংশ কার্যত অশাসন যোগ্য হয়ে ওঠার পেছনে যে রোগ কাজ করছে, তা সারাতে হলে শাসক গোষ্ঠীকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করতে সরকারের কর্মদক্ষতার কেন্দ্রে অন্তত কয়েকটি মৌলিক বিষয় কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত সরকারি কার্যক্রমের গভীর পর্যালোচনা জরুরি। কোথায় এবং কীভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে, তা নির্ণয় না করলে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। অতীতে সরকারগুলো প্রভাবশালী গোষ্ঠীর প্রশংসা কুড়াতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে বেশি ঝুঁকেছে। এর বিপরীতে দরিদ্র জনগোষ্ঠী ন্যূনতম সেবা ও জীবিকা নিশ্চিত করতে গিয়ে বারবার ব্যর্থতার মুখে পড়েছে, যা তাদের অধিকার হিসেবেই পাওয়ার কথা ছিল।

আইনের শাসন ও কর ব্যবস্থার সংস্কার
রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব জোরদার করতে হলে সরাসরি অপরাধ দমন থেকে শুরু করে আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রীয় খাতগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। পাকিস্তানে আইনের প্রতি অবজ্ঞা বেড়ে যাওয়ায় কর ফাঁকি ও অর্থনৈতিক অপরাধ বাড়ছে। কর না দেওয়ার প্রবণতা এখন অনেকের কাছেই স্বাভাবিক বিষয়।

একসময় করদাতা ও অকরদাতা শ্রেণি তৈরি করা হলেও এতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার আসেনি। বড় শহরগুলোতে বিনিয়োগকারীরা কম কর সুবিধার পরিচয়ে সম্পত্তি কেনায় ঝুঁকেছে। কিন্তু এতে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে কি না, সেই প্রশ্ন আজও রয়ে গেছে।

কর আদায় কেবল বাধ্যবাধকতার বিষয় নয়। দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও ন্যায্য ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি ছাড়া এটি কার্যকর হয় না। বছরের পর বছর মানুষ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মান পড়ে যাওয়ার অভিযোগ করছে। দুর্বল কর ব্যবস্থাই এই অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ।

অর্থনৈতিক সংস্কার ই প্রথম অগ্রাধিকার
পাকিস্তানের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে একমত হয়ে সংস্কারকৃত কর ব্যবস্থায় সমর্থন দিতে হবে। অতীতে প্রভাবশালীরা ক্ষমতা ব্যবহার করে কর এড়িয়েছে। বছরের পর বছর রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থতা শেষ পর্যন্ত দেশের স্বাধীনতাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক সক্ষম মুসলিম দেশ হওয়া সত্ত্বেও অর্থনৈতিক দুর্বলতা পাকিস্তানকে ক্রমেই নাজুক করে তুলছে। এই বাস্তবতায় অর্থনীতি সংস্কার ই হতে হবে জাতীয় এজেন্ডার প্রথম কাজ। তা না হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানজনক অবস্থান অর্জন করা কঠিন ই থেকে যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নিহত

অর্থনীতি সংস্কার না হলে রাষ্ট্রই প্রশ্নের মুখে পড়বে

০৬:০৪:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

আইনের এই দুর্বলতা কেবল বন্যপ্রাণী বা বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিভাবান বহু মানুষ এই বাস্তবতা দেখেই দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিজের দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে বিদেশে পাড়ি জমানো এখন অনেকের কাছে ভবিষ্যৎ রক্ষার একমাত্র পথ হয়ে উঠেছে।

এরই মধ্যে করাচিতে গুল প্লাজা অগ্নিকাণ্ডে অন্তত তিয়াত্তর মানুষের মৃত্যু নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে নগরের নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে। ঘটনার পর দায়ীদের বিচারের আশ্বাস এসেছে। কিন্তু আগুনে পুড়ে যাওয়া ভবন শুধু একটি দুর্ঘটনার গল্প বলে না। এটি করাচির বাণিজ্যিক ভবনগুলোর নির্মাণ মান, পরিকল্পনার ঘাটতি এবং দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির তুলনায় অগ্নিনির্বাপণ সহ জরুরি সেবার সক্ষমতা বাড়াতে ব্যর্থতার নগ্ন চিত্র তুলে ধরে।

এলিট স্বার্থ বনাম সাধারণ মানুষের বাস্তবতা
পাকিস্তানের দৈনন্দিন জীবন এসব ঘটনায় স্পষ্ট করে দেয়, রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে মূলত প্রভাবশালী শ্রেণির স্বার্থে। নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জীবন সংক্রান্ত বিষয়গুলো বারবার উপেক্ষিত থেকেছে। বিভিন্ন সরকারের সময়ে অর্থনীতির কিছু সাফল্য এলেও তার সুফল সমাজের বড় অংশের কাছে পৌঁছায়নি। বরং যারা ক্ষমতাবান, তারা আরও শক্তিশালী হয়েছে, আর যারা প্রান্তিক, তারা আরও কোণঠাসা হয়েছে।

এই বৈপরীত্যই পাকিস্তানের মূল সংকট। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সময়ে সুষম অগ্রগতি ধরে রাখতে না পারার ব্যর্থতা দেশকে বারবার একই জায়গায় ফিরিয়ে এনেছে।

রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ
দেশের কিছু অংশ কার্যত অশাসন যোগ্য হয়ে ওঠার পেছনে যে রোগ কাজ করছে, তা সারাতে হলে শাসক গোষ্ঠীকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করতে সরকারের কর্মদক্ষতার কেন্দ্রে অন্তত কয়েকটি মৌলিক বিষয় কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত সরকারি কার্যক্রমের গভীর পর্যালোচনা জরুরি। কোথায় এবং কীভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে, তা নির্ণয় না করলে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। অতীতে সরকারগুলো প্রভাবশালী গোষ্ঠীর প্রশংসা কুড়াতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে বেশি ঝুঁকেছে। এর বিপরীতে দরিদ্র জনগোষ্ঠী ন্যূনতম সেবা ও জীবিকা নিশ্চিত করতে গিয়ে বারবার ব্যর্থতার মুখে পড়েছে, যা তাদের অধিকার হিসেবেই পাওয়ার কথা ছিল।

আইনের শাসন ও কর ব্যবস্থার সংস্কার
রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব জোরদার করতে হলে সরাসরি অপরাধ দমন থেকে শুরু করে আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রীয় খাতগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। পাকিস্তানে আইনের প্রতি অবজ্ঞা বেড়ে যাওয়ায় কর ফাঁকি ও অর্থনৈতিক অপরাধ বাড়ছে। কর না দেওয়ার প্রবণতা এখন অনেকের কাছেই স্বাভাবিক বিষয়।

একসময় করদাতা ও অকরদাতা শ্রেণি তৈরি করা হলেও এতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার আসেনি। বড় শহরগুলোতে বিনিয়োগকারীরা কম কর সুবিধার পরিচয়ে সম্পত্তি কেনায় ঝুঁকেছে। কিন্তু এতে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে কি না, সেই প্রশ্ন আজও রয়ে গেছে।

কর আদায় কেবল বাধ্যবাধকতার বিষয় নয়। দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও ন্যায্য ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি ছাড়া এটি কার্যকর হয় না। বছরের পর বছর মানুষ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মান পড়ে যাওয়ার অভিযোগ করছে। দুর্বল কর ব্যবস্থাই এই অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ।

অর্থনৈতিক সংস্কার ই প্রথম অগ্রাধিকার
পাকিস্তানের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে একমত হয়ে সংস্কারকৃত কর ব্যবস্থায় সমর্থন দিতে হবে। অতীতে প্রভাবশালীরা ক্ষমতা ব্যবহার করে কর এড়িয়েছে। বছরের পর বছর রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থতা শেষ পর্যন্ত দেশের স্বাধীনতাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক সক্ষম মুসলিম দেশ হওয়া সত্ত্বেও অর্থনৈতিক দুর্বলতা পাকিস্তানকে ক্রমেই নাজুক করে তুলছে। এই বাস্তবতায় অর্থনীতি সংস্কার ই হতে হবে জাতীয় এজেন্ডার প্রথম কাজ। তা না হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানজনক অবস্থান অর্জন করা কঠিন ই থেকে যাবে।