খাবারের মতো পানীয়ের দিকেও নজর না দিলে সুস্থ থাকার চেষ্টা অসম্পূর্ণই থেকে যায়। অনেক সময় আমরা খাবার কমিয়ে বা বদলে ফেললেও গ্লাসের ভেতরে কী ঢুকছে, তা নিয়ে ভাবি না। অথচ দিনের বড় একটি অংশের ক্যালরি, চিনি আর ক্ষতি লুকিয়ে থাকে পানীয়েই। ধীরে ধীরে এই উপলব্ধি থেকেই শুরু হয় অভ্যাস বদলের গল্প।
পানীয়ে লুকিয়ে থাকা অভ্যাসের বোঝা
একজন অভিজ্ঞ খাদ্যলেখক নিজের জীবনের দিকে তাকিয়ে দেখেন, কিছু ভারী খাবার বাদ দেওয়া যতটা সহজ ছিল, পানীয়ের ক্ষেত্রে তা নয়। নিয়মিত মদ্যপান, কফিতে চিনি, আর সেই সঙ্গে বাড়তি খিদে—সব মিলিয়ে শরীর ও ঘুম দুইই ভেঙে পড়ছিল। ওজন বাড়ছিল, লিভারের ওপর চাপ পড়ছিল, রাতে ঘুম ভাঙছিল বারবার। সকালে ঘুমঘোর কাটাতে আবার চিনি আর কফির ওপর নির্ভরতা বাড়ত।
মদ কমাতেই বদলাতে শুরু
মদ্যপান কমানোর পরেই চোখে পড়ে বড় পরিবর্তন। প্রতিদিনের অনেক ক্যালরি আপনা থেকেই ঝরে যায়। রাতের ঘুম গভীর হয়, দিনের ক্লান্তি কমে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মদ বিচারবোধ দুর্বল করে এবং খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে বাধা দেয়। তাই পরের দিন সকালে নিজেকে প্রশ্ন করা জরুরি—গত রাতের পানীয় সত্যিই কি প্রয়োজন ছিল?
কফি ভালো, কিন্তু চিনি নয়
পুষ্টিবিদদের মতে, কালো কফি নিজেই শরীরের জন্য উপকারী। এটি জমে থাকা চর্বি ভাঙতে সাহায্য করে এবং খিদে কমায়। কিন্তু চিনি যোগ হলেই সেই উপকারিতা নষ্ট হয়ে যায়। তাই ধীরে ধীরে কফি থেকে চিনি কমানো বা বাদ দেওয়াই সবচেয়ে বড় সাফল্য।

বিকল্প পানীয়ে স্বাদ আর স্বস্তি
মদের জায়গায় এখন অনেকেই ভরসা রাখছেন পানি, অল্প চিনি দেওয়া ফলের পানীয়, কিংবা ঠান্ডা চায়ের ওপর। শসা, আনারস বা তরমুজ দিয়ে তৈরি হালকা পানীয়ে চিনি প্রায় দরকারই পড়ে না। চা-প্রেমীদের জন্য চিনি ছাড়া ঠান্ডা চা খাবারের সঙ্গে দারুণ মানিয়ে যায়। এমনকি এখন মদছাড়া বিয়ারও আছে, যা স্বাদে আগের চেয়ে অনেক ভালো।
সবকিছু ছেড়ে দেওয়া নয়, নিয়ন্ত্রণই আসল
এই বদলের মানে এই নয় যে মদ একেবারে ছেড়ে দিতে হবে। সপ্তাহে একবার বা মাসে কয়েকবার প্রিয় পানীয় উপভোগ করাই যায়। পার্থক্যটা আসে নিয়ন্ত্রণে। পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে মাঝে মধ্যে দেখা যেমন আনন্দের, তেমনই প্রতিদিন নয়—পানীয়ের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমন।
শেষ কথা
স্বাস্থ্যকর খাবারের সঙ্গে স্বাস্থ্যকর পানীয় জুড়ে দিতে পারলেই জীবনে আসে বড় পরিবর্তন। গ্লাসে কী ঢালছি, সেই সচেতনতা থেকেই শুরু হতে পারে দীর্ঘদিনের সুস্থতা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















