মাদকাসক্তি একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। সঠিক চিকিৎসা, নিয়মিত থেরাপি ও নিবিড় সেবার মাধ্যমে এ রোগ থেকে কার্যকরভাবে মুক্তি পাওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন ইকবাল মাসুদ। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় মাদকবিরোধী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশন-এর স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক।
রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের সম্মেলনকক্ষে সোমবার আয়োজিত এক পারিবারিক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে আহছানিয়া মিশন নারী মাদক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র।
মাদকাসক্তি ও চিকিৎসার বাস্তবতা
ইকবাল মাসুদ বলেন, মাদকাসক্তি বিশ্বজুড়ে একটি বড় সামাজিক সমস্যা হলেও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা ও সঠিক নির্দেশনা মেনে চললে সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চিকিৎসা শেষ হওয়ার পরও নিয়মিত পরবর্তী পরিচর্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে রোগীর দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা যায়।
পরিবারের ভূমিকা ও মানসিক সহায়তা
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট-এর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আনিকা বাসারাত। তিনি বলেন, বকাঝকা বা রাগ দেখিয়ে কাউকে মাদকাসক্তি থেকে ফেরানো যায় না। পরিবারকে ধৈর্যশীল ও সহনশীল থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ডা. আনিকা বাসারাত আরও বলেন, ভালোবাসা, যত্ন ও সহমর্মিতা একজন মানুষকে মাদকমুক্ত জীবনে ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবে নয়, বরং সহানুভূতি ও যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সভা পরিচালনা ও অন্যান্য বক্তব্য
এই পারিবারিক সভা পরিচালনা করেন আহছানিয়া মিশন নারী মাদক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের কাউন্সেলর সুমাইয়া তিথি। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য সেক্টরের সিনিয়র সাইকোলজিস্ট রাখী গাঙ্গুলি, সেন্টার ম্যানেজার লায়লা ইয়াসমিন এবং কেস ম্যানেজার রোজিনা খাতুন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















