প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যার ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক কমে ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পর এই ঘোষণা দেন তিনি। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তির অংশ হিসেবে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য, বিশেষ করে জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আমদানি করবে এবং নিজস্ব শুল্ক ও অশুল্ক বাধা শূন্যে নামাবে।
প্রায় এক বছর ধরে চলা টানটান আলোচনার পর এই সমঝোতা হলো। গত ১২ মাসে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নানা চাপে পড়েছিল এবং ভারতের ওপর বিশ্বের সর্বোচ্চ শুল্কগুলোর একটি আরোপ করা হয়েছিল। সোমবার রাতে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফোনালাপের কথা জানান। পরে ট্রাম্প তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে বিস্তারিত মন্তব্য করেন এবং এর কিছু সময় পর প্রধানমন্ত্রী মোদি সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান।
প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, আজ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে তিনি আনন্দিত। তার ভাষায়, ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্যের ওপর শুল্ক কমে ১৮ শতাংশ হওয়ায় তিনি অত্যন্ত সন্তুষ্ট এবং এই ঘোষণার জন্য ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম দুটি গণতন্ত্র একসঙ্গে কাজ করলে জনগণের কল্যাণ হয় এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হয়।

যদিও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সরাসরি বাণিজ্য চুক্তির কথা উল্লেখ ছিল না, তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব পরে নিশ্চিত করেন যে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘উইন উইন’ বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে। নতুন এই শুল্কহার পাকিস্তানের তুলনায়ও কম।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে কথা বলা তার জন্য সম্মানের। তিনি মোদিকে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও দেশের শক্তিশালী ও সম্মানিত নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের দাবি, আলোচনায় বাণিজ্যের পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তার মতে, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও সম্ভাব্যভাবে ভেনেজুয়েলা থেকে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য কিনবে।
ট্রাম্প জানান, এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামাবে। একই সঙ্গে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সব ধরনের শুল্ক ও অশুল্ক বাধা শূন্যে নামানোর প্রক্রিয়া শুরু করবে। তিনি দাবি করেন, এতে ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি ‘বাই আমেরিকান’ নীতির প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন এবং জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি, কয়লা ও অন্যান্য খাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানিতে সম্মত হয়েছেন।
![]()
প্রধানমন্ত্রী মোদি তার বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, বৈশ্বিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ভারত শান্তির প্রচেষ্টায় তার পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে তিনি আগ্রহী।
এই অগ্রগতি আসে প্রায় এক বছর পর, যখন গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্য আলোচনা শুরু করেছিল। এ সময়ের মধ্যে ছয় দফা আনুষ্ঠানিক আলোচনা ছাড়াও বহু অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের একটি প্রতিনিধি দল ভারতে আসে।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত শুল্কহার হবে ১৮ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এতে দুই দেশের শিল্প সহযোগিতা আরও গভীর হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক গতি তৈরি হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















