সোমবার লোকসভায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয় সাবেক সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নরভানের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা ঘিরে। বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধী সংসদে একটি সাময়িকীতে প্রকাশিত নিবন্ধের প্রসঙ্গ তুলতে গেলে সরকারপক্ষ তীব্র আপত্তি তোলে। ওই নিবন্ধে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, ২০২০ সালে ভারত-চীন সীমান্তে সংঘর্ষের সময় রাজনৈতিক নেতৃত্ব সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিল।
সরকারপক্ষের যুক্তি ও আপত্তি
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট করে জানান, কোনো অপ্রকাশিত বই বা তার ওপর ভিত্তি করে লেখা সাময়িকীর নিবন্ধ সংসদে আলোচনার বিষয় হতে পারে না। তাঁদের বক্তব্য ছিল, বইটি প্রকাশিত না হলে সেখান থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। এই যুক্তিতেই তাঁরা রাহুল গান্ধীর বক্তব্য থামানোর চেষ্টা করেন।
স্পিকারের হস্তক্ষেপ ও নিয়মের প্রসঙ্গ
সংসদের এই টানটান পরিস্থিতিতে স্পিকার ওম বিড়লা লোকসভা বিধির ৩৪৯ ও ৩৫৩ নম্বর ধারা উদ্ধৃত করে জানান, যেকোনো এলোমেলো নথি বা উপকরণ সংসদে উল্লেখ করা যায় না। কোনো সদস্য অন্য সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনতে চাইলে আগাম নোটিস দিতে হয়। স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের পরও রাহুল গান্ধী বারবার বিষয়টি তুলতে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
বারবার স্থগিত ও মুখোমুখি বিতর্ক
প্রায় চল্লিশ মিনিট ধরে লোকসভায় অচলাবস্থা তৈরি হয়। রাহুল গান্ধী যখনই চীন বা সাবেক সেনাপ্রধানের প্রসঙ্গ আনেন, তখনই স্পিকার ও মন্ত্রীরা প্রযুক্তিগত কারণে তাঁকে থামান। সংসদীয় রীতিতে স্পিকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেও এই দিন তা কার্যত অমান্য করার দৃশ্য দেখা যায়। এই টানাপোড়েনে তিনবার অধিবেশন মুলতবি করতে হয়।

রাহুল গান্ধীর অবস্থান
রাহুল গান্ধী দাবি করেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণে বর্তমান পরিস্থিতি, পররাষ্ট্রনীতি, চীন ও পাকিস্তানের প্রসঙ্গ রয়েছে। তাই এই বিষয় আলোচনার বাইরে নয়। তাঁর বক্তব্য, তিনি নিজে নিবন্ধটি তুলতে চাননি, কিন্তু শাসক দলের এক সাংসদ কংগ্রেসের দেশপ্রেম ও চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তিনি জবাব দিতে বাধ্য হয়েছেন।
চীন প্রসঙ্গে কথা বলার চেষ্টা
স্পিকার যখন নিবন্ধ বা বইয়ের কোনো উল্লেখের অনুমতি দেননি, তখন রাহুল গান্ধী সীমান্ত পরিস্থিতির সাধারণ বিবরণ দিতে যান। সেখানেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, এই তথ্য তিনি কীভাবে জানলেন। দুই পক্ষই নিয়মবই হাতে নিয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে থাকে।

বিরোধীদের সমর্থন ও আরও উত্তেজনা
কংগ্রেসের কে সি বেণুগোপাল বারবার নিয়মের কথা তুলে ধরেন। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব হস্তক্ষেপ করে বলেন, চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং বিরোধী দলের নেতাকে এ নিয়ে কথা বলতে দেওয়া উচিত। তবে উত্তেজনা কমেনি। স্পিকার স্মরণ করিয়ে দেন, তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না।
সরকারের পাল্টা আক্রমণ
রাহুল গান্ধী সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, সরকার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বললেও একটি সাময়িকীর একটি লাইন নিয়ে ভয় পাচ্ছে। তাঁর দাবি, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ও সীমান্ত পরিস্থিতি বোঝার জন্য এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্পিকারের সিদ্ধান্ত মানতে না চাইলে একজন সদস্যের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, তা ভাবতে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















