খাদ্যের চাহিদা যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে নানান রোগের আশঙ্কা। দেশের টেকসই উন্নয়ন ধরে রাখতে হলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার বিকল্প নেই—এমন মন্তব্য করেছেন খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য ছাড়া সুস্থ জীবন ও টেকসই উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়।
জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবছরের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করি, সুস্থ জীবন গড়ি।
খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ
আলী ইমাম মজুমদার বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনে খাদ্য আমদানিও করা হচ্ছে। তবে অনেক সময় আমদানিকৃত খাদ্যও ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, খাদ্যের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি এর মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। খাদ্য নিরাপত্তাকে উন্নয়নের কেন্দ্রে রাখতে হবে।

নিপাহ ভাইরাস ও কাঁচা খাদ্য নিয়ে উদ্বেগ
জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, কাঁচা খেজুরের রস পান করার কারণে বর্তমানে নিপাহ ভাইরাসের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আগেও বাদুড় ছিল, কিন্তু তখন এমন রোগ দেখা যেত না। এখন কেন এই ঝুঁকি বাড়ছে, তা গভীরভাবে অনুসন্ধান করা দরকার।
তিনি জানান, খাদ্যাভ্যাস ও উৎপাদন পদ্ধতির পরিবর্তনের সঙ্গে এসব রোগের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।
মাছ ও কৃষিপণ্যে ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহারের আশঙ্কা
আলী ইমাম মজুমদার বলেন, পাঙ্গাস সহ কিছু মাছের উৎপাদনে হরমোন বা ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করা জরুরি। খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে ঠিকই, কিন্তু সেই খাদ্য যেন মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর না হয়, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত না হলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও অর্থনীতি ও চাপে পড়বে।

সমন্বিত উদ্যোগ ও কৃষি পরিকল্পনার কথা জানালেন সচিব
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খাদ্য সচিব মো. ফিরোজ সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সচিব ড. মো. এমদাদ উল্লাহ মিয়ান। তিনি জানান, কৃষি, খাদ্য ও ভূমি মন্ত্রণালয় সহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
তিনি বলেন, শিগগিরই পঁচিশ বছরের একটি কৃষি উন্নয়ন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, অনেক ক্ষেত্রে সবজিতে কীটনাশক মিশিয়ে প্রয়োগ করা হচ্ছে, যা নিজেরা না খাওয়ার মানসিকতা থেকেই করা হয়। এই চিন্তাধারা বদলাতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিশেষজ্ঞদের আলোচনা ও গবেষণা উপস্থাপন
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া। খাদ্য নমুনা পরীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন করেন কর্তৃপক্ষের সদস্য ড. মোহাম্মদ মোস্তফা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল হাসান সিকদার।
পরবর্তী পর্বে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সঙ্গীতা আহমেদ ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। আলোচনায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে গবেষণা, নজরদারি ও জন সচেতনতার ওপর জোর দেওয়া হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















