বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডিজিটাল মুদ্রা বিটকয়েন আবারও বড় ধাক্কা খেল। ডলারের শক্তিশালী উত্থান ও বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতায় দাম নেমে গেছে আশি হাজার ডলারের নিচে। টানা বিক্রির চাপে সাত দিনের ব্যবধানে বিটকয়েনের দর কমেছে নয় শতাংশের বেশি, যা এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল মাসিক ধস হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাজারে বিক্রির চাপ ও দামের পতন
শনিবার লেনদেনে বিটকয়েন প্রায় আট শতাংশ পড়ে যায় এবং এপ্রিল দুই হাজার পঁচিশের পর প্রথমবারের মতো এই নিম্নস্তরে পৌঁছায়। নিউইয়র্কে দিনের মাঝামাঝি সময়ে দর নেমে আসে প্রায় আটাত্তর হাজার ডলারের কাছাকাছি। একই সঙ্গে পুরো ক্রিপ্টো বাজারে চাপ বাড়ে এবং মোট বাজারমূল্য নেমে যায় দুই দশমিক আট ট্রিলিয়ন ডলারের নিচে।

অন্যান্য মুদ্রাতেও ধস
বিক্রির ধাক্কা শুধু বিটকয়েনেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সোলানা ও ডোজকয়েন দর কমেছে প্রায় তেরো শতাংশের কাছাকাছি। রিপলের দরও নেমেছে প্রায় দশ শতাংশ। বাজারমূল্যের দিক থেকে বিটকয়েন এখন পিছিয়ে পড়েছে টেসলার তুলনায় এবং বিশ্বে সম্পদ মূল্যের তালিকায় অবস্থান নেমে গেছে দ্বাদশ স্থানে।
ডলার ও সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ
এই ধসের কেন্দ্রে রয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তিত বার্তা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ার হিসেবে সাবেক গভর্নর কেভিন ওয়ারশকে মনোনয়ন দেওয়ার পর ডলার শক্তিশালী হতে শুরু করে। বাজারে ধারণা তৈরি হয়, তিনি বর্তমান চেয়ার জেরোম পাওয়েলএর তুলনায় বেশি কড়া নীতি অনুসরণ করতে পারেন। এর ফলে দুই হাজার ছাব্বিশ সালে সুদ কমার প্রত্যাশা কমে যায়।

ঝুঁকি এড়ানোর ঢেউ ও প্রযুক্তিগত সংকেত
ডলার সূচক বহু মাসের উচ্চতায় পৌঁছায়, সরকারি বন্ডের সুদ বাড়ে এবং বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে যেতে শুরু করেন। বিশ্লেষকদের মতে, বিটকয়েন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত স্তরের নিচে নেমে গেছে, যা আরও গভীর পতনের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। তবে এখনো স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের বড় অংশ সম্পূর্ণ ক্ষতির মুখে পড়েনি, ফলে বাজারে চাপ থাকলেও আতঙ্কের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা
ডেরিভেটিভ বাজারে লিভারেজ নেওয়ার আগ্রহ কমে এসেছে। অপশন বাজারে বিনিয়োগকারীরা নিচের দামের সুরক্ষা বাড়াচ্ছেন, যা অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে স্পট বিটকয়েন ইটিএফ থেকে একদিনেই বড় অঙ্কের অর্থ বেরিয়ে গেছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে বড় বিনিয়োগকারীরা এখনো ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।

সামনে কী হতে পারে
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচক মনোভাব চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা অতীতে স্বল্পমেয়াদি ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও এবার এখনো শক্তিশালী কেনার চাপ দেখা যাচ্ছে না। চাহিদা না বাড়লে এবং বাজারে আস্থা ফিরতে দেরি হলে দাম আরও নেমে চুয়াত্তর থেকে ছিয়াত্তর হাজার ডলারের দিকেও যেতে পারে। সাময়িক ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা থাকলেও সামগ্রিক ঝুঁকি এখনো নিম্নমুখী দিকেই বেশি।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















