২০২৮ সালের মধ্যেই প্রথমবারের মতো দেশেই সংযোজিত বেসামরিক যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ আকাশে তুলতে চায় ভারত। সদ্য ঘোষিত কেন্দ্রীয় বাজেটে উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশে শুল্ক ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্তকে এই লক্ষ্য পূরণের বড় সহায়ক হিসেবে দেখছেন বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী কে রামমোহন নাইডু।
দিল্লিতে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, গত অন্তত এক বছর ধরে উড়োজাহাজের প্রাপ্যতা ও দেশেই বিমান তৈরির বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। শুধু চূড়ান্ত সংযোজন নয়, দীর্ঘদিন ধরেই যন্ত্রাংশ উৎপাদনের একটি শক্তিশালী দেশীয় পরিবেশ গড়ে তোলার দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বাজেটের দুই বড় ঘোষণা
মন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটে বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রাখা হয়েছে। একটি হলো জলবিমান তৈরিতে আর্থিক ঘাটতি পূরণের সহায়তা, অন্যটি হলো উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশে শুল্ক ছাড়। তার মতে, এই শুল্ক ছাড় দেশেই উড়োজাহাজ তৈরির স্বপ্ন পূরণের পথে এক বড় মাইলফলক।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ২০২৮ সালেই ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ উড়োজাহাজ বাস্তবে দেখতে চান তারা। বাজেটের এই ঘোষণাগুলোর পর সেই লক্ষ্য আরও বাস্তবসম্মত হয়ে উঠেছে।
![]()
চূড়ান্ত সংযোজন থেকে পূর্ণাঙ্গ নির্মাণ
চূড়ান্ত সংযোজন লাইনকে ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে উড়োজাহাজ তৈরির পথে প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছেন মন্ত্রী। তার ভাষায়, শুল্ক ছাড়ের সিদ্ধান্ত সরাসরি সংযোজন লাইনের জন্য প্রয়োজনীয় গতি এনে দেবে এবং দেশীয়করণ আরও জোরদার হবে।
চলতি অর্থবছরের জন্য কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের জন্য চার হাজার চারশ ঊনসত্তর কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বে গতি
সাম্প্রতিক সময়ে আদানি গোষ্ঠী ও এমব্রায়েরের মধ্যে সমঝোতা, পাশাপাশি হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড ও রাশিয়া সরকারের মধ্যে সহযোগিতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ভারতের দ্রুত অগ্রগতির কারণে বিশ্বজুড়েই আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতেও সেই আগ্রহ স্পষ্ট। ইতিমধ্যে যেসব সমঝোতা হয়েছে, বাজেটের সহায়তায় সেগুলোর বাস্তবায়ন এবং লক্ষ্য অর্জনের গতি আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















