নির্বাচনী তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়ালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের আচরণকে অপমানজনক ও অসম্মানজনক আখ্যা দিয়ে শেষ পর্যন্ত বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে আসেন তিনি। সোমবার নির্ভাচন সদনে এই ঘটনা ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

দিল্লিতে বৈঠক, কালো শাল আর ওয়াকআউট
বিশেষ নিবিড় সংশোধন ইস্যুতে আলোচনার জন্য দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে কালো শাল পরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের শীর্ষ নেতারা এবং সংশোধন প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত বলে দাবি করা কয়েকটি পরিবার। বৈঠক শুরু হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টার মাথায় তাঁরা সবাই একসঙ্গে বেরিয়ে আসেন। বাইরে এসে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, তাঁকে অপমান ও হেয় করা হয়েছে এবং তিনি এমন আচরণ আগে কোনো প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছ থেকে দেখেননি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে কটাক্ষ
বৈঠক শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিনি ন্যায়বিচার চাইতে গিয়েছিলেন, কিন্তু বদলে অপমান পেয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার অহংকারী আচরণ করেছেন এবং রাজনৈতিক নির্দেশে কাজ করছেন। তিনি বলেন, ভোটার তালিকা থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। অতীতের শক্ত ও নিরপেক্ষ প্রধান নির্বাচন কমিশনারদের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তখনকার মতো স্বাধীনতা এখন আর দেখা যাচ্ছে না।
নির্বাচন কমিশনের পাল্টা বক্তব্য
নির্বাচন কমিশন পাল্টা বিবৃতিতে জানায়, আইনের শাসন বজায় থাকবে এবং সংশোধন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ভয় দেখানো বা বাধা বরদাস্ত করা হবে না। কমিশনের দাবি, সংশোধন কাজে যুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হুমকি, দপ্তরে ভাঙচুর, অননুমোদিত বদলি, তথ্য সুরক্ষা লঙ্ঘন এবং ভাতা প্রদানে বিলম্বের ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযোগের দায় তারা রাজ্যের শাসক দলের ওপর চাপিয়েছে।
বঙ্গেই সবচেয়ে বেশি বিতর্ক
গত বছরের নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিশেষ নিবিড় সংশোধনে রাজ্যে লাখ লাখ নাম বাদ পড়েছে বলে দাবি উঠেছে। যদিও নাম বাদ দেওয়ার হার তুলনামূলক কম বলে কমিশন জানাচ্ছে, তবু এই প্রক্রিয়া ঘিরে সবচেয়ে বেশি প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক চাপ দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী একাধিক চিঠি দিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন, প্রশাসনিক বৈঠক করেছেন এবং দলীয় কর্মীদের মাঠে নেমে ক্ষতিগ্রস্ত ভোটারদের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন।

নির্বাচন বর্জনের প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান
নির্বাচন বর্জনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বলেন, তিনি কখনোই নির্বাচন বর্জন করবেন না। তাঁর কথায়, এই লড়াই ভোটের ময়দানেই হবে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের অনেক আগেই কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ বাড়ছে এবং রাজ্য সরকারকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
বিজেপির পাল্টা অভিযোগ
একই দিনে কলকাতায় বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা রাজ্যপালের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন। তাঁদের অভিযোগ, সংশোধন প্রক্রিয়ার সময় শুনানি কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা হয়েছে এবং কিছু নির্বাচনী কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য নথিভুক্ত করেছেন। তাঁদের দাবি, এই ঘটনায় জড়িত সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















