ভারত-চীন সীমান্তে পূর্ব লাদাখে উত্তেজনার এক সংবেদনশীল অধ্যায় নিয়ে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানের অপ্রকাশিত আত্মজীবনীর অংশ ফাঁস হতেই দেশটির রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সোমবার লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এই স্মৃতিচারণার তথ্য উল্লেখ করতে চাইলে সরকার পক্ষ থেকে প্রবল আপত্তি তোলা হয়। সরকারের যুক্তি, বইটি এখনো প্রকাশিত হয়নি এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া এসব বক্তব্য সংসদে তোলা অনুচিত।
সোমবার সংসদে উত্তপ্ত মুহূর্ত
লোকসভায় রাহুল গান্ধী বলেন, সাবেক সেনাপ্রধানের অভিজ্ঞতা দেশের নিরাপত্তা ও সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংর নেতৃত্বাধীন সরকার পক্ষ পাল্টা জানায়, অপ্রকাশিত বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে সংসদে আলোচনা সাংবিধানিক শালীনতার পরিপন্থী। এ নিয়ে সংসদের ভেতরে তর্ক-বিতর্ক তীব্র আকার নেয়।

অপ্রকাশিত বইয়ের বিস্ফোরক দাবি
জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে তাঁর আত্মজীবনীতে পূর্ব লাদাখে ভারত-চীন সেনা মুখোমুখি অবস্থানের সময়কার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে আগস্ট মাসে প্যাংগং সো এলাকার দক্ষিণে কৈলাশ রেঞ্জে উত্তেজনার সময় কীভাবে পরিস্থিতি দ্রুত সংঘর্ষের দিকেই এগোচ্ছিল, তার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রাজনৈতিক নির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন
স্মৃতিচারণায় সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ হিসেবে উঠে এসেছে, চীনা উসকানির জবাবে তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক নির্দেশনার ঘাটতির অভিযোগ। ওই সময় সেনাবাহিনী কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা না থাকায় মাঠপর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে বইয়ের অংশে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই মূলত রাজনৈতিক ঝড় উঠেছে।

প্রকাশে বাধা ও বিতর্কের উৎস
বইটি নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রকাশের কথা থাকলেও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদন না নেওয়ায় তা আটকে দেওয়া হয়। এরপর একটি সাময়িকীতে নির্বাচিত অংশ প্রকাশিত হলে নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। সরকারের সমালোচকদের মতে, এই দাবি সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, আর সরকার পক্ষ বলছে, এটি একতরফা ব্যাখ্যা মাত্র।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















