লক্ষ্মীপুরে ছয়টি অবৈধভাবে তৈরি ব্যালট সিল উদ্ধারকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী–সম্পৃক্ত এক নেতাসহ দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা হলেন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সম্পাদক সাওরভ হোসেন শরীফ এবং ব্যবসায়ী সোহেল রানা। সোহেলকে বুধবার বিকেলে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার রাতে লক্ষ্মীপুর সদর থানার এক উপপরিদর্শক বাদী হয়ে দুজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

অভিযান ও উদ্ধার
তথ্যসূত্রের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকেলে জেলা শহরের পুরোনো কোর্ট রোড এলাকায় সোহেল রানার মালিকানাধীন একটি ছাপাখানায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে ষোলটি করে ঘরবিশিষ্ট ছয়টি ব্যালট সিল, একটি কম্পিউটার ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পরে সোহেল রানাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
তদন্তে নতুন তথ্য
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক সোহেলের বক্তব্য, হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন ও ভয়েস বার্তার মতো তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে জামায়াত নেতা সাওরভ হোসেন শরীফকেও মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, শরীফের নির্দেশেই সিলগুলো তৈরি করা হয়েছিল।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি ও জামায়াত একে অপরকে দায়ী করে। লক্ষ্মীপুর–৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি দাবি করেন, সিল জালিয়াতির ঘটনায় জামায়াত জড়িত এবং গ্রেপ্তার সোহেল জামায়াতের কর্মী। অন্যদিকে একই আসনের জামায়াত প্রার্থী রেজাউল করিম বলেন, সোহেলের সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক নেই।
দলীয় ব্যবস্থা
লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমিন ভূঁইয়া জানান, ঘটনার পরপরই সাওরভ হোসেন শরীফকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















