বালুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদী হামলার জেরে টানা এক সপ্তাহ ধরে চলা সামরিক অভিযানের সমাপ্তি ঘটেছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই প্রদেশে সমন্বিত হামলা, জিম্মি করা, বিস্ফোরণ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলির পর পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানানো হয়েছে।
সমন্বিত হামলায় অচল প্রদেশ
গত শনিবার ভোরে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালুচ লিবারেশন আর্মি একযোগে একাধিক স্থানে হামলা চালায়। স্কুল, ব্যাংক, বাজার ও নিরাপত্তা স্থাপনায় ঢুকে পড়ে তাদের সদস্যরা। প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটা সহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণে ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কোথাও সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, শহরে এখন সরাসরি লড়াই না থাকলেও মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
সামরিক অভিযানে নিহতের হিসাব
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জানুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া অভিযানে মোট দুইশত ষোল জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। একই সময়ে সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ও ঘটেছে। তবে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছে প্রাদেশিক স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা, যা সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি।
নুশকিতে পুনর্দখল ও তল্লাশি অভিযান
বিদ্রোহীরা কয়েকটি সরকারি ভবন ও থানা দখল করে এবং মরুভূমি শহর নুশকির নিয়ন্ত্রণ তিন দিন ধরে নিজেদের হাতে রাখে বলে নিরাপত্তা সূত্র জানায়। পরে হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহার করে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে পুরো প্রদেশজুড়ে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের খোঁজে অভিযান চলছে এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরছে বলে প্রশাসনের দাবি।
দীর্ঘদিনের বিদ্রোহ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা
প্রাকৃতিক সম্পদ সমৃদ্ধ বালুচিস্তান দীর্ঘদিন ধরে স্বায়ত্তশাসন ও সম্পদের অংশীদারিত্বের দাবিতে বিদ্রোহের মুখোমুখি। সাম্প্রতিক সংঘর্ষের দায় নিয়ে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললে ও নয়াদিল্লি তা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং অঞ্চলটির মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















