১০:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ভেনেজুয়েলার তেলে শত বিলিয়ন ডলারের বাজি, ভরসা ভাঙা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে ভারতে গণবাতিল উড়ান নিয়ে বড় তদন্ত, প্রতিযোগিতা লঙ্ঘনের অভিযোগে চাপের মুখে ইন্ডিগো ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কিছুটা স্থবির ও বাধাগ্রস্ত ছিল: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনায় বন্দি বিনিময় চুক্তি, তবু যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা: অবাধ ভোট না হলে প্রশ্নবিদ্ধ হবে গণতন্ত্র তরুণদের হাতে দেশের হাল ধরার আহ্বান, বেকার ভাতার বদলে দক্ষতা ও মর্যাদার প্রতিশ্রুতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটবল ফাইনাল ঘিরে রক্তাক্ত সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত অন্তত ২০ বাংলাদেশের পক্ষ নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় থাকতে পারবে পাকিস্তান? ভারত–যুক্তরাষ্ট্র জোটে নতুন অধ্যায়, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ বাণিজ্য জোটে চীনের আধিপত্য ঠেকাতে যৌথ অগ্রযাত্রা সরকারি টাকার ছয় কোটি একত্রিশ লাখ আত্মসাৎ, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাময়িক বরখাস্ত

চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থা নিয়ে তীব্র সতর্কবার্তা, দ্রুত স্বাভাবিক কার্যক্রম ফেরাতে সরকারের প্রতি ডিসিসিআইয়ের আহ্বান

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় জাতীয় বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। সংস্থাটি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে।

বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দর
ডিসিসিআই জানিয়েছে, দেশের মোট আমদানি-রপ্তানির প্রায় বিয়ানব্বই শতাংশ এই বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়। প্রতি মাসে গড়ে প্রায় দুই লাখ ষাট হাজার কনটেইনার খালাস হয়, যা দৈনিক প্রায় নয় হাজার কনটেইনারের সমান। ফলে এই বন্দর সচল থাকা জাতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অচলাবস্থায় কনটেইনার জট ও বাড়তি ব্যয়
চলতি মাসের চার ফেব্রুয়ারি থেকে বন্দরের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এতে ইতোমধ্যে প্রায় চুয়ান্ন হাজার কনটেইনার আটকে আছে। পণ্য খালাসে বিলম্ব হওয়ায় ব্যবসায়ীদের প্রতিদিন অতিরিক্ত দশ হাজার থেকে পনেরো হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় গুনতে হচ্ছে, যা রপ্তানি খাতকে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

রপ্তানি আদেশ বাতিলের আশঙ্কা
এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বিদেশি ক্রেতারা ক্রয়াদেশ বাতিল করতে পারে কিংবা প্রতিযোগী দেশগুলোর দিকে ঝুঁকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ডিসিসিআই। কিছু আন্তর্জাতিক ক্রেতা সাময়িকভাবে জাহাজীকরণের সময় বাড়াতে রাজি হলেও পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিকল্প উৎস খোঁজার সম্ভাবনা রয়েছে।

রমজান সামনে, বাজারে মূল্যচাপের শঙ্কা
পবিত্র রমজান ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে আমদানিপণ্য খালাসে বিলম্ব স্থানীয় বাজারে মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। এতে সব শ্রেণির ভোক্তাই নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়তে পারেন।

দ্রুত সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
ডিসিসিআই বলেছে, পণ্য খালাসে আকস্মিক এই বিঘ্ন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কার্যক্রমের পরিচালন ব্যয় বাড়িয়ে দেবে, যা ব্যবসা ও ভোক্তা—উভয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং বন্দরের নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরকে সচল রাখতে ব্যবসায়ী সমাজ, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেনেজুয়েলার তেলে শত বিলিয়ন ডলারের বাজি, ভরসা ভাঙা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে

চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থা নিয়ে তীব্র সতর্কবার্তা, দ্রুত স্বাভাবিক কার্যক্রম ফেরাতে সরকারের প্রতি ডিসিসিআইয়ের আহ্বান

০৮:৪২:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় জাতীয় বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। সংস্থাটি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে।

বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দর
ডিসিসিআই জানিয়েছে, দেশের মোট আমদানি-রপ্তানির প্রায় বিয়ানব্বই শতাংশ এই বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়। প্রতি মাসে গড়ে প্রায় দুই লাখ ষাট হাজার কনটেইনার খালাস হয়, যা দৈনিক প্রায় নয় হাজার কনটেইনারের সমান। ফলে এই বন্দর সচল থাকা জাতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অচলাবস্থায় কনটেইনার জট ও বাড়তি ব্যয়
চলতি মাসের চার ফেব্রুয়ারি থেকে বন্দরের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এতে ইতোমধ্যে প্রায় চুয়ান্ন হাজার কনটেইনার আটকে আছে। পণ্য খালাসে বিলম্ব হওয়ায় ব্যবসায়ীদের প্রতিদিন অতিরিক্ত দশ হাজার থেকে পনেরো হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় গুনতে হচ্ছে, যা রপ্তানি খাতকে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

রপ্তানি আদেশ বাতিলের আশঙ্কা
এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বিদেশি ক্রেতারা ক্রয়াদেশ বাতিল করতে পারে কিংবা প্রতিযোগী দেশগুলোর দিকে ঝুঁকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ডিসিসিআই। কিছু আন্তর্জাতিক ক্রেতা সাময়িকভাবে জাহাজীকরণের সময় বাড়াতে রাজি হলেও পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিকল্প উৎস খোঁজার সম্ভাবনা রয়েছে।

রমজান সামনে, বাজারে মূল্যচাপের শঙ্কা
পবিত্র রমজান ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে আমদানিপণ্য খালাসে বিলম্ব স্থানীয় বাজারে মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। এতে সব শ্রেণির ভোক্তাই নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়তে পারেন।

দ্রুত সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
ডিসিসিআই বলেছে, পণ্য খালাসে আকস্মিক এই বিঘ্ন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কার্যক্রমের পরিচালন ব্যয় বাড়িয়ে দেবে, যা ব্যবসা ও ভোক্তা—উভয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং বন্দরের নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরকে সচল রাখতে ব্যবসায়ী সমাজ, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।