রয়টার্স
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শুক্রবার জানিয়েছে, জানুয়ারিতে উত্তর বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
বাংলাদেশে প্রায় প্রতি বছরই নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। এ ঘটনার আগে প্রতিবেশী ভারতে দুটি নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, যার ফলে এশিয়ার বিভিন্ন বিমানবন্দরে অতিরিক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী ওই রোগীর ২১ জানুয়ারি জ্বর ও মাথাব্যথা দিয়ে উপসর্গ শুরু হয়। পরে অতিরিক্ত লালা ঝরা, বিভ্রান্তি এবং খিঁচুনি দেখা দেয়।

এক সপ্তাহ পর তিনি মারা যান এবং মৃত্যুর এক দিন পর পরীক্ষায় তার শরীরে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়।
তার কোনো ভ্রমণ ইতিহাস ছিল না, তবে কাঁচা খেজুরের রস পান করার ইতিহাস ছিল। রোগীর সংস্পর্শে আসা ৩৫ জনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তাদের সবার পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে। এখন পর্যন্ত নতুন কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
নিপাহ একটি সংক্রমণ, যা মূলত সংক্রমিত বাদুড়ের মাধ্যমে দূষিত ফল বা অন্যান্য খাদ্যপণ্য থেকে ছড়ায়। এ রোগে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, তবে মানুষে মানুষে সহজে ছড়ায় না।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ বিমানবন্দরে তাপমাত্রা পরীক্ষা চালু করেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, আন্তর্জাতিকভাবে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বর্তমানে কম বলে বিবেচিত হচ্ছে এবং এ তথ্যের ভিত্তিতে কোনো ভ্রমণ বা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করা হয়নি।
২০২৫ সালে বাংলাদেশে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া চারটি নিপাহ সংক্রমণের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল।
বর্তমানে এ সংক্রমণের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অনুমোদিত ওষুধ বা টিকা নেই।
প্রতিবেদন: মেক্সিকো সিটি থেকে কার্লোস মেন্দেস
সম্পাদনা: ফ্রাঙ্কলিন পল ও স্যাম হোমস
Sarakhon Report 



















