আদর্শ পরিস্থিতিতে ভোটের এলাকা নির্ধারণ হওয়ার কথা নিরপেক্ষ প্রযুক্তিগত পদ্ধতিতে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে এই দায়িত্ব প্রায় রাজ্য আইনসভার গুলোর হাতে থাকে, ফলে রাজনীতিবিদদেরই নিজের ভোটার বেছে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। দলগুলোর আসনসংখ্যা বাড়াতে চায়, ক্ষমতাসীনরা পুনর্নির্বাচনের পথ মজবুত করতে চায়, আর আদালত চেষ্টা করে বর্ণভিত্তিক বৈষম্য রোধে প্রণীত আইন কার্যকর রাখতে। অতীতে দক্ষিণাঞ্চলে কালো নাগরিকদের ভোটাধিকার সীমিত করতে কর আরোপ ও কঠিন সাক্ষরতা পরীক্ষার মতো বাধা ব্যবহার করা হতো। এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু বদলেছে—বৈষম্য বলতে ঠিক কী বোঝায়, তা নিয়েই মতভেদ।
সংখ্যাগরিষ্ঠ কালো এলাকা নাকি বর্ণ নিরপেক্ষ মানচিত্র
একটি পক্ষ মনে করে যেখানে সম্ভব সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ কালো ভোটারের এলাকা তৈরি করা উচিত, যাতে তারা নিজেদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারে। অন্য পক্ষের যুক্তি, এমন ব্যবস্থা নিজেই বর্ণভিত্তিক বৈষম্যের শামিল এবং সংবিধানের সমান সুরক্ষা নীতির পরিপন্থী। ফলে ভোটের মানচিত্র নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি সংঘাত ক্রমেই গভীর হয়েছে এবং প্রায় কেউই রাজনীতিবিদদের নিরপেক্ষতা নিয়ে আস্থা রাখতে পারছে না।
আইনি লড়াই ও নতুন রাজনৈতিক হিসাব
ভোটাধিকার আইনের একটি ধারা সংখ্যালঘু ভোটের প্রভাব কমিয়ে দেওয়া হলে রাজ্যের বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগ দেয়। গত কয়েক দশকে শত শত মামলা আদালতে গিয়েছে, যা স্থানীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে কংগ্রেসের গঠন পর্যন্ত প্রভাব ফেলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আলাবামায় নতুন একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ সংখ্যালঘু এলাকা তৈরির ফলে এক কালো প্রার্থী নির্বাচিত হন। একই ধরনের আরেকটি মামলা লুইজিয়ানায় নতুন করে সীমানা নির্ধারণের প্রশ্ন তুলেছে।
লুইজিয়ানায় এক-তৃতীয়াংশ কালো ভোটার থাকা সত্ত্বেও ছয়টার মধ্যে মাত্র একটি এলাকা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ কালো। আদালতের নির্দেশে দ্বিতীয় এমন এলাকা তৈরি হলেও পরে অন্য একটি গোষ্ঠী এটিকে বর্ণভিত্তিক বিভাজন বলে চ্যালেঞ্জ করে এবং আরেক আদালত সেই নতুন মানচিত্র বাতিল করে দেয়। বিষয়টি এখন সর্বোচ্চ আদালতের বিবেচনায়, যেখানে রায় সংখ্যালঘু ভোটের সুরক্ষা দুর্বল করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সম্ভাব্য রায়ের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
রায় যদি সংখ্যালঘু সুরক্ষা কমিয়ে দেয়, তাহলে কংগ্রেসে কালো প্রতিনিধিদের একটি বড় অংশ আসন হারাতে পারেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, এমন সিদ্ধান্ত উল্টো কালো ভোটারদের ক্ষোভ বাড়িয়ে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে অর্থনৈতিক ইস্যু বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলেও ভোটাধিকার হুমকির মুখে পড়েছে—এমন অনুভূতি তৈরি হলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে।
দক্ষিণাঞ্চলে বাড়তে পারে প্রভাব
রাজ্যজুড়ে হওয়া নির্বাচনে এলাকা ভাগ করে প্রভাব খাটানো যায় না, তাই সেখানে ভোটার উপস্থিতিই নির্ধারক। দক্ষিণাঞ্চলে কালো জনগোষ্ঠী বড় হলেও তাদের ভোটদানের হার তুলনামূলক কম। উপস্থিতি বাড়লে একাধিক রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যেতে পারে, বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাজ্যগুলোতে।
ভবিষ্যৎ নির্বাচনের সীমানা নিয়ে অনিশ্চয়তা
চলতি নির্বাচনের আগে বড় পরিবর্তন না এলেও ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানচিত্র বদলে যেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক জোট টিকে থাকলে আইনসভা ও কংগ্রেসে একটি কাঠামোগত সুবিধা তৈরি হতে পারে নির্দিষ্ট দলের পক্ষে। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর অবিশ্বাস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















