জানুয়ারি মাসে টানা পঞ্চমবারের মতো কমেছে বিশ্ব খাদ্যপণ্যের দাম। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সর্বশেষ সূচক অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারে দুগ্ধজাত পণ্য, চিনি ও মাংসের দামের পতন সামগ্রিক সূচককে নিচের দিকে টেনে এনেছে। এতে বৈশ্বিক খাদ্য বাজারে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত মিলছে, যদিও শস্য ও ভোজ্যতেলের দামে উল্টো ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
খাদ্যদাম সূচকের সামগ্রিক চিত্র
সংস্থাটির হিসাব বলছে, জানুয়ারিতে খাদ্যদাম সূচকের গড় অবস্থান দাঁড়িয়েছে একশ তেইশ দশমিক নয় পয়েন্টে। এটি আগের মাসের তুলনায় শূন্য দশমিক চার শতাংশ এবং এক বছর আগের তুলনায় শূন্য দশমিক ছয় শতাংশ কম। দুই হাজার বাইশ সালের মার্চে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর যে উচ্চতম স্থানে পৌঁছেছিল সূচক, বর্তমান অবস্থান তার চেয়ে প্রায় বাইশ দশমিক সাত শতাংশ নিচে রয়েছে।
দুগ্ধ, মাংস ও চিনিতে পতনের ধারা
প্রধান পণ্য গোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম। পনির ও মাখনের মূল্য হ্রাসের কারণে মাসওয়ারি হিসাবে এই খাতে প্রায় পাঁচ শতাংশ পতন হয়েছে। মাংসের দাম সামান্য কমে শূন্য দশমিক চার শতাংশ নেমেছে, যেখানে শূকরের মাংসের মূল্য হ্রাস পোল্ট্রির দামের বৃদ্ধিকে ছাপিয়ে গেছে। একই সময়ে চিনির দাম মাসের ব্যবধানে এক শতাংশ কমেছে এবং গত বছরের তুলনায় প্রায় উনিশ দশমিক দুই শতাংশ নিচে নেমেছে, যার পেছনে বাড়তি সরবরাহের প্রত্যাশা বড় ভূমিকা রেখেছে।

শস্য ও ভোজ্যতেলে উল্টো ঊর্ধ্বগতি
অন্যদিকে জানুয়ারিতে শস্য ও ভোজ্যতেলের বাজারে কিছুটা মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে। শক্তিশালী চাহিদার কারণে চালের দাম বাড়ায় সামগ্রিক শস্য সূচক সামান্য ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, যদিও অন্যান্য প্রধান শস্যের দামে কিছুটা দুর্বলতা ছিল। একইভাবে পাম, সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলের দাম বাড়ায় ভোজ্য তেল সূচকও বেড়েছে, যদিও রেপসিড তেলের দামে নিম্নগতি ছিল।
রেকর্ড শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস
আলাদা এক মূল্যায়নে সংস্থাটি দুই হাজার পঁচিশ সালের বৈশ্বিক শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস বাড়িয়ে রেকর্ড তিন শূন্য দুই তিন বিলিয়ন টনে উন্নীত করেছে। গমের বেশি ফলন এবং ভুট্টার উন্নত সম্ভাবনার কারণেই এই সংশোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই হাজার পঁচিশ থেকে ছাব্বিশ মৌসুমে বিশ্ব শস্য মজুত বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ব্যবহার অনুপাতকে একত্রিশ দশমিক আট শতাংশে নিয়ে যেতে পারে। দুই হাজার এক সালের পর এটিই হবে সর্বোচ্চ স্তর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















