০৮:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
হিমালয় ঘিরে বাড়ছে মৌসুমি দুর্যোগ, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশ হার্ভার্ডে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উত্থান, পিট হেগসেথের দেখা উচিত কিউল্যাব বাংলাদেশ ব্যাংকের টানা ডলার কেনা, বাড়ছে রেমিট্যান্স ও রিজার্ভে স্বস্তি ব্যাংককের রাস্তা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে খাবারের ঠেলাগাড়ি, বদলে যাচ্ছে নগর জীবনের চিত্র ট্রাম্পের ‘পারস্পরিকতা’ আসলে নতুন বাণিজ্য একতরফাবাদ ছোলার সালাদেই কি বদলে যাবে গ্রীষ্মের টেবিলের চেনা স্বাদ? মরক্কোতে নিখোঁজ মার্কিন সেনার মরদেহ উদ্ধার, শেষ হলো দীর্ঘ অনুসন্ধান অভিযান ট্রাম্প যুগের রাজনীতি, ব্রিটেনের সংকট ও আমেরিকার নতুন বিভাজন থাইল্যান্ডের শেয়ারবাজারে বড় পরিবর্তন, কড়াকড়ি বাড়ছে স্বল্পমেয়াদি লেনদেনে ভারতের শিক্ষাবিপ্লব: এআই যুগে বহুভাষিক দক্ষতায় গড়ে উঠছে নতুন প্রজন্ম

উচ্চ শব্দের সঙ্গীতে অদৃশ্য শ্রবণক্ষতি, বুঝে ওঠার আগেই বাড়ছে ঝুঁকি

বড় আয়োজনের সঙ্গীতানুষ্ঠান অনেকের জন্য আনন্দের স্মৃতি তৈরি করলে ও নতুন গবেষণা জানাচ্ছে, দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দে থাকা মানুষের কানে এমন ক্ষতি তৈরি করতে পারে যা সহজে ধরা পড়ে না। সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ শব্দের প্রভাবে কানের ভেতরের সূক্ষ্ম সংযোগ ব্যবস্থার নষ্ট হতে পারে, অথচ সাধারণ শ্রবণ পরীক্ষায় তা ধরা পড়ে না। ফলে বিষয়টি নীরব জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

গবেষণার মূল অনুসন্ধান
বেলজিয়ামের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় এমন এক ধরনের লুকানো শ্রবণ ক্ষতির কথা উঠে এসেছে, যা কানের সংবেদনশীল কোষ ও স্নায়ুর মধ্যকার সংযোগ নষ্ট হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। এই পরিবর্তন স্থায়ী হলেও শুরুতে শ্রবণ ক্ষমতার মাত্রা কমে না, তাই প্রচলিত পরীক্ষায় স্বাভাবিক ফল আসতে পারে। গবেষকদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়েই এই ক্ষতি শনাক্ত করা গেলে প্রতিরোধ ও চিকিৎসা দুটিই সহজ হবে।

কানের ভেতরের সূক্ষ্ম প্রক্রিয়া
কানের ভেতরের অংশ শব্দ তরঙ্গকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে মস্তিষ্কে পাঠায়। এই প্রক্রিয়ায় সংবেদনশীল কোষ ও স্নায়ুর সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাধারণ শব্দ জনিত শ্রবণ হানি সাধারণত কোষ নষ্ট হওয়ার কারণে হয় এবং পরীক্ষায় তা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। কিন্তু দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দে থাকার ফলে শুধু সংযোগগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে শ্রবণ ক্ষমতা ঠিক থাকলেও শব্দের স্বচ্ছতা কমে যায়, বিশেষ করে কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে।

বাস্তব পরিবেশে শব্দের প্রভাব
গবেষণায় সঙ্গীতানুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মানুষের ব্যক্তিগত শব্দের মাত্রা পরিমাপ করা হয় এবং অনুষ্ঠান আগে ও পরে তাদের শ্রবণ সংক্রান্ত বিভিন্ন সূচক পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের একটি বড় অংশের কানে ভোঁতা শোনার মতো উপসর্গ তৈরি হয়েছে, যা শ্রবণ ব্যবস্থার অতিরিক্ত চাপের ইঙ্গিত দেয়। যারা নিয়মিত কানের সুরক্ষা ব্যবহার করেছেন, তাদের শ্রবণক্ষমতা তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল।

ঝুঁকি বাড়ায় নানা কারণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিনের শব্দে থাকার পরিমাণ, শব্দের তীব্রতা, বয়স, জিনগত বৈশিষ্ট্য, শারীরিক অবস্থা ও জীবনযাপনের ধরন—সব মিলিয়েই এই ক্ষতির মাত্রা নির্ধারিত হয়। ধারাবাহিকভাবে নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি শব্দে থাকলে কানের কোষ, সংযোগ কিংবা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। উন্নত দেশে শব্দ নিয়ন্ত্রণ আইন থাকলেও লুকানো শ্রাবণ ক্ষতি পুরোপুরি রোধ করা যায়নি; নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হলে ঝুঁকি আরও বেশি হতে পারে।

আগাম সতর্কতার গুরুত্ব
গবেষকদের মতে, এই লুকানো ক্ষতি অনেক সময় দৃশ্যমান শ্রবণহানির আগেই শুরু হয়। কিন্তু নির্ভরযোগ্য শনাক্তকরণ পদ্ধতি এখনও সীমিত। তাই নতুন পরীক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি। কারণ লক্ষণ প্রকাশের বহু আগেই ক্ষতি জমতে থাকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হিমালয় ঘিরে বাড়ছে মৌসুমি দুর্যোগ, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

উচ্চ শব্দের সঙ্গীতে অদৃশ্য শ্রবণক্ষতি, বুঝে ওঠার আগেই বাড়ছে ঝুঁকি

০৬:০০:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বড় আয়োজনের সঙ্গীতানুষ্ঠান অনেকের জন্য আনন্দের স্মৃতি তৈরি করলে ও নতুন গবেষণা জানাচ্ছে, দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দে থাকা মানুষের কানে এমন ক্ষতি তৈরি করতে পারে যা সহজে ধরা পড়ে না। সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ শব্দের প্রভাবে কানের ভেতরের সূক্ষ্ম সংযোগ ব্যবস্থার নষ্ট হতে পারে, অথচ সাধারণ শ্রবণ পরীক্ষায় তা ধরা পড়ে না। ফলে বিষয়টি নীরব জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

গবেষণার মূল অনুসন্ধান
বেলজিয়ামের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় এমন এক ধরনের লুকানো শ্রবণ ক্ষতির কথা উঠে এসেছে, যা কানের সংবেদনশীল কোষ ও স্নায়ুর মধ্যকার সংযোগ নষ্ট হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। এই পরিবর্তন স্থায়ী হলেও শুরুতে শ্রবণ ক্ষমতার মাত্রা কমে না, তাই প্রচলিত পরীক্ষায় স্বাভাবিক ফল আসতে পারে। গবেষকদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়েই এই ক্ষতি শনাক্ত করা গেলে প্রতিরোধ ও চিকিৎসা দুটিই সহজ হবে।

কানের ভেতরের সূক্ষ্ম প্রক্রিয়া
কানের ভেতরের অংশ শব্দ তরঙ্গকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে মস্তিষ্কে পাঠায়। এই প্রক্রিয়ায় সংবেদনশীল কোষ ও স্নায়ুর সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাধারণ শব্দ জনিত শ্রবণ হানি সাধারণত কোষ নষ্ট হওয়ার কারণে হয় এবং পরীক্ষায় তা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। কিন্তু দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দে থাকার ফলে শুধু সংযোগগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে শ্রবণ ক্ষমতা ঠিক থাকলেও শব্দের স্বচ্ছতা কমে যায়, বিশেষ করে কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে।

বাস্তব পরিবেশে শব্দের প্রভাব
গবেষণায় সঙ্গীতানুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মানুষের ব্যক্তিগত শব্দের মাত্রা পরিমাপ করা হয় এবং অনুষ্ঠান আগে ও পরে তাদের শ্রবণ সংক্রান্ত বিভিন্ন সূচক পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের একটি বড় অংশের কানে ভোঁতা শোনার মতো উপসর্গ তৈরি হয়েছে, যা শ্রবণ ব্যবস্থার অতিরিক্ত চাপের ইঙ্গিত দেয়। যারা নিয়মিত কানের সুরক্ষা ব্যবহার করেছেন, তাদের শ্রবণক্ষমতা তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল।

ঝুঁকি বাড়ায় নানা কারণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিনের শব্দে থাকার পরিমাণ, শব্দের তীব্রতা, বয়স, জিনগত বৈশিষ্ট্য, শারীরিক অবস্থা ও জীবনযাপনের ধরন—সব মিলিয়েই এই ক্ষতির মাত্রা নির্ধারিত হয়। ধারাবাহিকভাবে নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি শব্দে থাকলে কানের কোষ, সংযোগ কিংবা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। উন্নত দেশে শব্দ নিয়ন্ত্রণ আইন থাকলেও লুকানো শ্রাবণ ক্ষতি পুরোপুরি রোধ করা যায়নি; নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হলে ঝুঁকি আরও বেশি হতে পারে।

আগাম সতর্কতার গুরুত্ব
গবেষকদের মতে, এই লুকানো ক্ষতি অনেক সময় দৃশ্যমান শ্রবণহানির আগেই শুরু হয়। কিন্তু নির্ভরযোগ্য শনাক্তকরণ পদ্ধতি এখনও সীমিত। তাই নতুন পরীক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি। কারণ লক্ষণ প্রকাশের বহু আগেই ক্ষতি জমতে থাকে।