টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর নতুন বিশ্বাস আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নামছে দক্ষিণ আফ্রিকা। গত আসরের রানার্সআপ দলটি এবার শিরোপা জয়ের লক্ষ্যেই অভিযান শুরু করছে, যদিও অধিনায়ক এইডেন মার্করাম সতর্ক করে দিয়েছেন—সংক্ষিপ্ত সংস্করণে যে কোনো সময় অঘটন ঘটতে পারে।
প্রথম ম্যাচ ও নতুন আত্মবিশ্বাস
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম আহমেদাবাদে কানাডার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার যাত্রা শুরু হচ্ছে। ২০২৫ সালের জুনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের বড় শিরোপা ঘরে তোলে প্রোটিয়ারা, ভেঙে দেয় দীর্ঘদিনের হতাশার তকমা। সেই সাফল্য দলকে মানসিকভাবে বদলে দিয়েছে বলে মনে করেন মার্করাম। তার মতে, ড্রেসিংরুমে এখন বিশ্বাস, আত্মবিশ্বাস এবং চাপমুক্ত মানসিকতার ছাপ স্পষ্ট, তবে তাতেই পথ সহজ হয়ে যাবে—এমন ভাবার সুযোগ নেই। সেরা খেলাই এখনও একমাত্র ভরসা।
২০২৪ সালের আক্ষেপ এখনও তাজা
গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে জয়ের খুব কাছ থেকে হেরে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ ৩০ বলে ৩০ রান দরকার থাকলেও সাত রানে পিছিয়ে পড়ে তারা। সেই হতাশা কাটিয়ে এবার নতুন লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে দলটি। গ্রুপ ডিতে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কানাডা।
সহযোগী দেশের চ্যালেঞ্জ
মার্করামের মতে, সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবধান আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। টি-টোয়েন্টির মতো ফরম্যাটে এক বা দুই খেলোয়াড়ের দুর্দান্ত দিনে বড় অঘটন ঘটতেই পারে। বিশ্বকাপের শুরুতেই কয়েকটি ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই তারই প্রমাণ।
ইতালির ঐতিহাসিক অভিষেক
ফুটবলে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি এবার ক্রিকেট বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো খেলতে নামছে। কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্সে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের যাত্রা শুরু। প্রতিযোগিতার সবচেয়ে নিচে থাকা দল হলেও নিজেদের উপস্থিতিকে তারা অলৌকিক সাফল্য হিসেবে দেখছে। ইতালিয়ান ক্রিকেট ফেডারেশনের উন্নয়ন কর্মকর্তা রিকার্দো মাজ্জিওর ভাষায়, আবেগ আর ইতালীয় মানসিকতাই তাদের এখানে পৌঁছে দিয়েছে।
অধিনায়ক ওয়েন ম্যাডসেন বলেন, দেশের হয়ে নেতৃত্ব দেওয়া তার জন্য গর্বের বিষয়। ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নেপালের সঙ্গে কঠিন গ্রুপে পড়লেও দলটি লড়াই করতে প্রস্তুত। ইতালিতে প্রায় এক হাজার আটশ খেলোয়াড় ও একশ ক্লাব নিয়ে ক্রিকেট ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। ফুটবল জনপ্রিয়ই থাকবে, তবু বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ দেশটিতে ক্রিকেটের জন্য বড় প্রেরণা হয়ে উঠবে—এমনটাই বিশ্বাস দলের।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















